হামজার অভিষেকের ম্যাচে মিসের মহড়া, গোলশূন্য ড্র বাংলাদেশের

হামজা চৌধুরী আসার পর বাংলাদেশের ফুটবলে যে উন্মাদনা তৈরি হয়, মাঠেও থাকলো সেটার ছোঁয়া। ভারতের বিপক্ষে শুরু থেকেই আধিপত্য নিয়ে খেলতে থাকে বাংলাদেশ। প্রথম ২০ মিনিটের মধ্যেই দারুণ তিনটি সুযোগে ভারতের রক্ষণভাগ কাঁপিয়ে দেয় তারা। কিন্তু প্রতিবারই সুযোগ হাতছাড়া, এই অর্ধের বাকি সময়েও দেখা যায় মিসের মহড়া। দ্বিতীয়ার্ধে সেভাবে দাপট দেখাতে পারেনি বাংলাদেশ, সুযোগ তৈরি করলেও শেষ পর্যন্ত ভারতের জালের ঠিকানা খুঁজে পায়নি তারা।
মঙ্গলবার শিলংয়ের জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাই পর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করেছে বাংলাদেশ। র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের চেয়ে অনেক এগিয়ে ভারত। বাংলাদেশ ১৮৫ নম্বরে, ভারত সেখানে ১২৬তম স্থানে। এতো এগিয়ে থাকা দলের বিপক্ষেও একের পর এক সুযোগ তৈরি করেছে বাংলাদেশ, কিন্তু বারবারই সঙ্গী হয়েছে হতাশা। প্রত্যাশার বাহক হয়ে মাঠে নামা হামজা অভিষেকে দারুণ ছিলেন, প্রায় পুরো মাঠ দাঁপিয়ে বেড়িয়েছেন তিনি। তাতে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, কিন্তু একজন ফিনিশারের অভাবে বারবার সুযোগ হাতছাড়া করায় জয়ের মুখ দেখা হলো না হাভিয়ের কাবরেরার দলের।
প্রথম মিনিটেই দারুণ এক সুযোগ হাতছাড়া করে বাংলাদেশ। হামজার পাস থেকে বল পান মজিবর রহমান জনি। বল নিয়ন্ত্রণ করতে এগিয়ে যান ভারতের গোলরক্ষক, কিন্তু বলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দূরে সরে যান। ফাঁকা পোস্ট পেয়ে যান জনি, কিন্তু তার নেওয়া শট পোস্টের বাইরে দিয়ে চলে যায়। নবম মিনিটে আবারও হতাশ করে বাংলাদেশ। রাকিবের ক্রসে ভালোভাবে শাহরিয়ার ইমনের হেড লক্ষ্যে থাকেনি।
পরের মিনিটে কর্নার পায় বাংলাদেশ। অভিষিক্ত হামজার নেওয়া শট প্রথমে খুঁজে পায় ভারত গোলরক্ষক বিশাল কাইথের গ্লাভস। সেখান থেকে শাকিল আহাদ তপুর গায়ে লেগে রিবাউন্ডে বল পান মোহাম্মদ হৃদয়। এবারও সহজ সুযোগটা কাজে লাগাতে পারেনি বাংলাদেশের। হৃদয়ের বাঁ পায়ের দুর্বল শট ক্লিয়ার করেন ভারতের ডিফেন্ডার। ১৭তম মিনিটে আরও একটি দারুণ সুযোগ তৈরি করে সফরকারীরা। কিন্তু লাফিয়ে উঠেও মোরসালিনের ক্রসে মাথা ছোয়াতে পারেননি ইমন।
প্রথম ২০ মিনিটে দাপুটে ফুটবল খেলে বাংলাদেশ। মিসের মহড়া না দিলে মিলতে পারতো একাধিক গোল। ২০ মিনিটের মধ্যে লক্ষ্যে চারটি শট নেয় তারা, অনেকটা পিছিয়ে থাকা ভারত শট নেয় একটি। ২২তম মিনিটে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন অধিনায়ক তপু বর্মন। তার বদলি হিসেবে নামেন রহমত মিয়া।
গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে যাওয়া স্বাগতিক ভারত ২৮তম মিনিটে বাংলাদেশের গোলপোস্ট দ্বিতীয় শট নেয়, তবে সেভাবে গোলের সম্ভাবনা তৈরি করতে পারেনি। ৩০তম মিনিটে বাঁ দিকে থেকে উড়ে আসা বলে উদন্ত সিংয়ের হেড লক্ষ্য খুঁজে পায়নি। ফিরতি বল থেকেও সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি ভারত। ৪১তম মিনিটে আবারও সেই হতাশার গল্প লেখে বাংলাদেশ। গোলরক্ষককে একা পেয়েও কিছু করতে পারেননি, কালক্ষেপণে শটই নিতে পারেননি তিনি। গোলশূন্যভাবে শেষ হয় প্রথমার্ধ।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই ভারত আক্রমণাত্মক প্রেসিং ফুটবল খেলতে শুরু করে। তবে প্রথম সুযোগটা তৈরি করে বাংলাদেশ। ৫১তম মিনিটে ডানদিক থেকে ভারতের বক্সে ঢুকে পড়েন রাকিব, কিন্তু তার শট গোলপোস্টের বাইরে দিয়ে চলে যায়। ৫৪তম মিনিটে আক্রমণে যায় ভারত। লিস্টন কোলাসোয়ের ক্রস থেকে আসে গোলের সুযোগ। উড়ন্ত বল ফাঁকি দেয় মিতুল মারমাকে, আর সেই ফাঁক গলিয়ে হেড করতে যান সুনীল ছেত্রী। কিন্তু উচ্চতা ও টাইমিং ঠিকঠাক না হওয়ায় জালের দেখা পাননি অবসর ভেঙে ফেরা ভারতের তারকা এই স্ট্রাইকার।
ভারতের ধারাবাহিক আক্রমণের মাঝে ৬১তম মিনিটে বদলি হওয়ার আগে আর একটি সুযোগ হাতছাড়া করেন জনি। এরপর আবারও ভারতের আক্রমণ। ৭০ মিনিটের পর ফারুখ-শুভাশিষদের টানা আক্রমণে ব্যস্ত হয়ে পড়ে বাংলাদেশের রক্ষণভাগ। ৭১তম মিনিটে ফারুখের শট স্লাইড করে আটকে দেন সাদ উদ্দিন ও মোহাম্মদ হৃদয়। কর্নার থেকে ৭২ মিনিটে লিস্টনের নেওয়া শট থেকে হেড করেন শুভাশিষ, কিন্তু তার জোরালো হেড গোলপোস্টের ঠিকানা খুঁজে পায়নি।
৭৪তম মিনিটে রাকিবের ক্রস থেকে আদর্শ জায়গায় বল পেলেও স্লাইড করে ফিনিশিংটা ঠিকঠাক করতে পারেননি বদলি হিসেবে নামা ফাহিম ফয়সাল। ৮৯ মিনিটে বাংলাদেশ দারুণ এক শট নিলেও ভারতীয় গোলরক্ষক দুর্দান্ত দক্ষতায় তা রুখে দেন। এর আগে, ৮৩ মিনিটে সুবিধাজনক অবস্থান থেকেও গোল করতে ব্যর্থ হন সুনীল ছেত্রী।