জয়ের লক্ষ্যে প্রতিকূলতার দেয়াল পেরোচ্ছে বাংলাদেশ

এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে আগামী ২৫ মার্চ ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। ম্যাচটির জন্য শিলংয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ ফুটবল দল। ঠান্ডা আবহাওয়া, অনিয়মিত সময় সূচি, ঘাসের মাঠে অনুশীলনের সুযোগ না পাওয়া; সব মিলিয়ে প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে চলছে বাংলাদেশের প্রস্তুতি। কিন্তু এসব চ্যালেঞ্জ সফরকারীদের আত্মবিশ্বাসে ভাটা ফেলতে পারেনি। আরও দৃঢ় মনোবলে জয়ের লক্ষ্যে অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছে হাভিয়ের কাবরেরার শিষ্যরা।
শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় অনুশীলন শুরু করার ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু ভারত একই সময়ে জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে অনুশীলন রাখায় সেটা হয়নি। বাংলাদেশ অনুশীলন শুরু করে সাড়ে ৭টায়। দেরিতে অনুশীলন শুরু হওয়ায় খেলোয়াড়দের দীর্ঘ সময় হোটেলে অপেক্ষা করতে হয়। এরপর যখন তারা শিলং স্পোর্টস অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়ামে পৌঁছায়, তখন ঠান্ডা আরও তীব্র হয়ে ওঠে।
ছিল আরও বিপত্তি, স্টেডিয়ামের কেবল একটি ফ্লাডলাইট তখন চালু ছিল। কিন্তু সময় নষ্ট না করে এর মধ্যেই অনুশীলন শুরু করে বাংলাদেশ। মধ্য মাঠে খেলোয়াড়দের ওয়ার্ম-আপ চলাকালীন ধীরে ধীরে বাকি ফ্লাডলাইটগুলোও জ্বলে ওঠে। কৃত্রিম টার্ফে অনুশীলন করলেও খেলোয়াড়দের মধ্যে মনোযোগের অভাব ছিল না।
বাংলাদেশের সহকারী কোচ হাসান আল মামুন জানান, তারা ঘাসের মাঠ চেয়েছিলেন। জাতীয় দলের সাবেক এই ফুটবলার বলেন, 'আমরা ঘাসের মাঠ চেয়েছিলাম, কিন্তু কোনো কারণে তা পাইনি। এসব নিয়ে চিন্তা করে লাভ নেই। আমরা জানতাম এখানে কিছু সমস্যা হতে পারে, তাই মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলাম।'
তবে ঠান্ডা আবহাওয়ার প্রভাব খেলোয়াড়দের মাঝে স্পষ্ট ছিল। সাদ উদ্দিন ও সোহেল রানাকে দেখে সহজেই তা বোঝা গেছে। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে সাদ বলেন, 'এখানে সত্যিই অনেক ঠান্ডা।' যিদিও কোনো বাধাই লক্ষ্য থেকে হঠাতে পারছে না তাদের। জয়ের ব্যাপারে প্রত্যয়ী সাদ বলেন, 'এবার আমরা জিতবোই।'
২০১৯ সালে কলকাতার সল্ট লেকে ভারতের বিপক্ষে একবারে শেষ মুহূর্তে খেই হারায় বাংলাদেশ। ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়। এবার সেই অতৃপ্তি দূর করার লক্ষ্যে শিলংয়ের প্রতিকূল আবহেও জয়ের স্বপ্ন নিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে লাল-সবুজের দল।