করোনায় চলে গেলেন ‘থার্ড সিনেমা’ আন্দোলনের পথিকৃৎ ফের্নান্দো সোলানাস
প্রখ্যাত আর্জেন্টাইন ফিল্মমেকার ও রাজনীতিক ফের্নান্দো 'পিনো' সোলানাস মারা গেছেন। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ফ্রান্সের প্যারিসের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তার বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর।
শনিবার আর্জেন্টিনার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তার মৃত্যুসংবাদ নিশ্চিত করেছে।
ইউনেস্কোতে নিজ দেশের অ্যাম্বাসেডরের দায়িত্ব পালন করছিলেন সোলানাস। গত মাসে হাসপাতালের শয্যায় নিজের একটি ছবি পোস্ট করে নিজে ও স্ত্রী অ্যাঞ্জেলা কোরেয়া কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছিলেন তিনি।
প্রয়াত এই শিল্পী, আইনপ্রণেতা ও সিনেটরের মৃত্যুতে লাতিন আমেরিকান দেশটিসহ চলচ্চিত্র দুনিয়ায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
আর্জেন্টিনার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় টুইটারে এক শোকবার্তায় লিখেছে, 'পিনো সোলানাসের জন্য গভীর শোক। ইউনেস্কোতে আর্জেন্টিনার অ্যাম্বাসেডর হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে মারা গেলেন তিনি। নিজের সৃষ্টিকর্ম, রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা ও নৈতিকতা দিয়ে সব সময় দেশের জন্য কাজ করে যাওয়ায় তিনি স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।'
সামাজিক পরিবর্তনের লক্ষ্যে আজীবন লড়াই করে যাওয়া এক বিপ্লবী চলচ্চিত্রকার ছিলেন সোলানাস। পরিবেশবাদী হিসেবেও সব সময় ছিলেন সরব।
১৯৩৬ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি রাজধানী বুয়েনোস আইরেসে জন্মগ্রহণকারী সোনালাসের নির্মাতা হিসেবে চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে ১৯৬২ সালে, একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের মাধ্যমে। তবে ১৯৬৭ সালে দীর্ঘকালের সংগ্রামসঙ্গী অক্তাভিও হেতিনোর সঙ্গে যৌথভাবে তিন পর্বের ডকুমেন্টারি 'দ্য আওয়ার অব ফার্নেসেস' নির্মাণ করে চলচ্চিত্র দুনিয়ায় ব্যাপক কাঁপুনি দেন তিনি।
তার নির্মিত অন্যান্য চলচ্চিত্রের মধ্য রয়েছে 'ট্যাঙ্গোস, দ্য এক্সাইল অব গার্ডেল', 'সোশ্যাল জেনোসাইড', 'দ্য ডিগনিটি অব নো বডিস', 'সাউথ', 'দ্য জার্নি' প্রভৃতি।
১৯৬০-এর দশকে হলিউড সিনেমা ও ইউরোপিয়ান অথর সিনেমার বিরোধিতা করে লাতিন আমেরিকায় রাজনৈতিক সচেতনতামূলক 'থার্ড সিনেমা' আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। আজন্ম চলচ্চিত্র-বিপ্লবী সোলানাস ছিলেন ওই আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ। 'টুওয়ার্ড অ্যা থার্ড সিনেমা' নামে ওই আন্দোলনের ইশতেহার বন্ধু হেতিনোর সঙ্গে যৌথভাবে তিনিই লিখেছিলেন।
- সূত্র: বুয়েনোস আইরেস টাইমস
