বাংলাদেশের প্রাণঘাতী বজ্রপাত এখন আর কেবল ‘প্রাকৃতিক’ দুর্যোগ নয়
এক সময় ঝড়ের সঙ্গে প্রবল গর্জনে বজ্রপাত আসলেও তা তেমন প্রাণঘাতী ছিল না। বজ্রপাতে মৃত্যুর হার ছিল অপেক্ষাকৃত কম, কিন্তু আজ এটি নিয়মিতভাবে মানুষের প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে।
প্রকৃতপক্ষে, ২০১৬ সালে শুধু মে মাসেই বজ্রপাতে ২০০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যুর পর (এক দিনেই মারা যান ৮২ জন) বাংলাদেশ বজ্রপাতকে জাতীয় দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করে।
চলতি বছরে ইতোমধ্যে বাংলাদেশে অন্তত ৭৪ জন বজ্রপাতে মারা গেছেন, যার মধ্যে ২৬ এপ্রিল এক দিনেই ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। হঠাৎ ঝড়ের সাথে ভারী বৃষ্টি ও তীব্র বজ্রপাতে দেশের বিভিন্ন জেলায় এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
অথচ ২০১৫ সালের আগে বজ্রপাতে মৃত্যুর সংখ্যা বছরে খুব কমই ১০০ ছাড়াত। এমনকি ১৯৯০-এর দশকে এই সংখ্যা ছিল গড়ে ৩০-এর কাছাকাছি। কিন্তু এখন বছরে ৩০০-এর বেশি মৃত্যু যেন এক 'নতুন স্বাভাবিক' ঘটনায় পরিণত হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে অন্তত ৩,৮৩৫ জন মানুষ বজ্রপাতে প্রাণ হারিয়েছেন।
জলবায়ুসংক্রান্ত ক্রমবর্ধমান গবেষণা বলছে, বায়ুমণ্ডলের উষ্ণতা বৃদ্ধি বজ্রঝড় তৈরির অনুকূল পরিবেশ তৈরি করছে। এর সাথে বায়ুদূষণ এবং খোলা জায়গায় মানুষের অসুরক্ষিত অবস্থায় থাকার প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় বজ্রপাত এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি নিয়মিত এবং প্রাণঘাতী হয়ে উঠছে।
চিরচেনা কারণ
বজ্রপাত এমন ভয়াবহভাবে বেড়ে যাওয়ার মূলে রয়েছে সেই চিরচেনা কারণ—জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণায়ন। গবেষণা বলছে, বিশ্বের তাপমাত্রা প্রতি ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধির ফলে বজ্রপাতের হার প্রায় ১২ শতাংশ বেড়ে যায়।
বাংলাদেশে এই বৈশ্বিক নীতিটি স্থানীয়ভাবে আরও তীব্র রূপ ধারণ করছে। এর পেছনে প্রধান কারণ হলো 'কনভেক্টিভ অ্যাভেইলেবল পটেনশিয়াল এনার্জি', যা মূলত বজ্রঝড় তৈরির বায়ুমণ্ডলীয় 'জ্বালানি ট্যাংক' হিসেবে কাজ করে। আঞ্চলিক নমুনা বিশ্লেষণ অনুযায়ী, প্রাক-বর্ষা মৌসুমে বাংলাদেশে এই শক্তির মাত্রা ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। এই সময়টি এমনিতেই বজ্রপাতে মৃত্যুর জন্য সবথেকে বিপজ্জনক। এর অর্থ হলো, সামনে কেবল ঝড়ের সংখ্যাই বাড়বে না, বরং ঝড়গুলো হবে আরও বিধ্বংসী।
'রোল অব পলিউট্যান্টস অন দ্য বাইমোডাল লাইটনিং ডিস্ট্রিবিউশন ইন বাংলাদেশ' শীর্ষক একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় ২০১৫ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ছয় বছরের বজ্রপাত ও বায়ুর মানের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, বজ্রপাত বাড়ার সঙ্গে বাতাসে ধূলিকণা ও সালফেট কণার উচ্চ ঘনত্বের গভীর সম্পর্ক রয়েছে—বিশেষ করে এপ্রিল ও মে মাসে যখন বজ্রপাত সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়।
অস্ট্রেলিয়ার কার্টিন ইউনিভার্সিটির স্কুল অব আর্থ অ্যান্ড প্ল্যানেটারি সায়েন্সেসের গবেষণা পরিচালক এবং এই গবেষণার সহ-লেখক আশরাফ দেওয়ান জানান, এই দূষণকারী কণাগুলো বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন উপাদানের সঙ্গে মিশে বজ্রপাতের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে। এগুলো মেঘের গঠন বদলে দেয় এবং মেঘের ভেতরে বৈদ্যুতিক আধান তৈরি হওয়া সহজ করে তোলে।
গবেষণায় দেখা গেছে, বজ্রপাতের প্রধান মৌসুমে বাতাসে ধূলিকণার মাত্রা বছরের অন্য সময়ের তুলনায় ৮৮ শতাংশ এবং সালফেটের মাত্রা ৫১ শতাংশ বেশি থাকে।
তবে এই সম্পর্কটি খুব সহজ নয়। আশরাফ দেওয়ান একটি নির্দিষ্ট মাত্রার প্রভাবের কথা উল্লেখ করেছেন। যখন স্থানীয় উচ্চমাত্রার দূষণের সঙ্গে অন্য দেশ থেকে আসা দূষণ যুক্ত হয়, তখন বজ্রপাতের তীব্রতা বেড়ে যায়। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, নির্দিষ্ট কিছু সূক্ষ্ম কণা (যেমন পিএম ২.৫) বিশেষ কিছু পরিস্থিতিতে বজ্রপাত কমিয়েও দিতে পারে।
উষ্ণতা বাড়লে বজ্রপাতের শক্তি বাড়ে, আর দূষণ সেই অবস্থাকে আরও খারাপ করে। ধূলিকণা, সালফেট (SO₄) ও ওজোন (O₃) মেঘের ভেতরে ছোট ছোট জলকণা জমার কেন্দ্র তৈরি করে। এতে মেঘের ভেতরের গঠন ও আচরণ বদলে যায়। এগুলো বরফ স্ফটিক ও অতিশীতল জলবিন্দু তৈরিতে সহায়তা করে মেঘের ভেতরে সংঘর্ষ বাড়িয়ে দেয়। মেঘের এই অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষই বৈদ্যুতিক আধান পৃথক করে বজ্রপাতের সৃষ্টি করে।
উন্মুক্ত স্থানে অবস্থান ও বৈষম্য
বিজ্ঞান বজ্রপাতের ঘটনার কারণ ব্যাখ্যা করতে পারলেও মৃত্যুর পুরো বাস্তবতা ব্যাখ্যা করতে পারে না।
বাংলাদেশে বজ্রপাত কাকে আঘাত করবে, সে বিষয়ে এটি বেশ 'বাছবিচার' করে। মূলত তাদেরই লক্ষ্য করে, যারা খোলা আকাশের নিচে থাকা এড়াতে পারে না।
নিহতদের প্রায় ৮০ শতাংশই কৃষক ও জেলে। তাদের জীবিকা এমন সময় বাইরে থাকার ওপর নির্ভরশীল, যখন বজ্রঝড় হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে। বোরো ধান কাটার মৌসুমে এই মৃত্যুর হার সর্বোচ্চে পৌঁছায়। কারণ তখন কৃষিকাজ বেড়ে যায় এবং ঝুঁকি এড়িয়ে চলা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
আশরাফ দেওয়ান বলেন, "আমরা পরিস্থিতির বড় কোনো পরিবর্তন দেখিনি। বরং মানুষের বজ্রপাতের সংস্পর্শে আসার হার বহুগুণ বেড়েছে, যে কারণে মৃত্যুর সংখ্যা এত বেশি।" এই পার্থক্যটি বোঝা খুব গুরুত্বপূর্ণ। বায়ুমণ্ডল হয়তো আগের চেয়ে বেশি উত্তপ্ত ও ঝোড়ো হয়ে উঠছে, কিন্তু মানুষের অরক্ষিত অবস্থার সঙ্গে এটি যুক্ত হলে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে যায়।
এই মৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব। কানাডার ইউনিভার্সিটি অব সাসকাচোয়ানের আবহাওয়া ও জলবায়ু গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ উল্লেখ করেছেন, "এর মূল সমস্যা হলো তথ্য আদান-প্রদানের ব্যর্থতা। কৃষক ও কৃষি শ্রমিকরা, যারা নিহতদের বড় অংশ, তাদের সারাদিনের জন্য দেওয়া অস্পষ্ট সতর্কবার্তা প্রয়োজন নেই। 'আজ বজ্রপাত হতে পারে'—এমন তথ্য তাদের জন্য বাস্তবসম্মত বা কার্যকর কোনো সমাধান দেয় না।"
তিনি আরও বলেন, "এর পরিবর্তে প্রয়োজন সুনির্দিষ্ট ও সময়ভিত্তিক তথ্য। উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনো নির্দিষ্ট উপজেলার শ্রমিকদের সকাল ৮টার মধ্যে জানানো হয় যে সকাল ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে সেখানে বজ্রঝড় হতে পারে, তাহলে তারা সাময়িকভাবে কাজ বন্ধ রাখতে পারবেন এবং বিপদ কেটে গেলে আবার কাজে ফিরতে পারবেন।"
'লাস্ট মাইল' ব্যর্থতা
২০১৬ সালে বজ্রপাতকে জাতীয় দুর্যোগ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া বাংলাদেশের জন্য একটি বড় প্রাতিষ্ঠানিক মাইলফলক ছিল। আগের তুলনায় বর্তমানে পূর্বাভাস দেওয়ার সক্ষমতা বেড়েছে এবং আগাম সতর্কবার্তা পদ্ধতিও চালু হয়েছে। তবুও বজ্রপাত শনাক্ত করা এবং সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার মাঝে একটি বড় ব্যবধান রয়ে গেছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ভালনারেবিলিটি স্টাডিজের (আইডিএমভিএস) সহকারী অধ্যাপক মুহাম্মদ আওফা ইসলাম বলেন, "নীতিগত মনোযোগ বাড়লেও তা বাস্তবে অর্থবহ কোনো কাজে আসেনি। যারা সবথেকে বেশি ঝুঁকিতে আছেন তাদের কাছে দ্রুততম সময়ে তথ্য পৌঁছে দেওয়া একটি বড় চ্যালেঞ্জ, আর দ্বিতীয় চ্যালেঞ্জটি হলো মানুষকে সেই তথ্য অনুযায়ী পদক্ষেপ নিতে উদ্বুদ্ধ করা।"
তৃণমূল পর্যায়ে এই সমস্যাকে প্রায়ই 'লাস্ট মাইল' বা প্রান্তিক পর্যায়ের ব্যর্থতা হিসেবে বর্ণনা করা হয়। বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার ৭৭ শতাংশেরও বেশি মানুষ সতর্কবার্তার সময় নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভোগেন। তাদের কাছে এই সতর্কতাগুলো হয় খুব অস্পষ্ট মনে হয়, নয়তো এগুলো এত দেরিতে আসে যে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার সময় থাকে না। তবে এর পেছনে সুশাসনের অভাবও দায়ী।
গবেষক আশরাফ দেওয়ানের মতে, মূল সমস্যা প্রযুক্তির অভাব নয় বরং এর সঠিক বাস্তবায়ন। তিনি বলেন, "পূর্বাভাস দেওয়া মোটেও কঠিন কাজ নয়, কিন্তু বজ্রপাতের পূর্বাভাস ব্যবস্থা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব রয়েছে। আমি নিশ্চিত যে যদি আমরা এই পূর্বাভাস পদ্ধতি নিয়ে এগিয়ে যাই, তবে অনেক প্রাণ বাঁচানো সম্ভব এবং সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা গড়ে তোলা যাবে।"
বজ্রপাত প্রতিরোধে গাছ লাগানোর যে প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল, তা দুর্নীতির কারণে মুখ থুবড়ে পড়েছে। মোস্তফা কামাল পলাশ সেটির স্মৃতিচারণ করে বলেন, "বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে তালগাছ লাগানোর একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ধারণা করা হয়েছিল তালগাছ প্রাকৃতিক বজ্রনিরোধক হিসেবে কাজ করবে। শুরুতে দেশজুড়ে প্রায় ৮০ লাখ গাছ লাগানোর লক্ষ্য থাকলেও কয়েক বছর পর মাঠ পর্যায়ে সেগুলোর অস্তিত্ব আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে কর্মকর্তারা দাবি করেছেন যে চারাগাছগুলো ছাগলে খেয়ে ফেলেছে।"
প্রযুক্তিগতভাবে বাংলাদেশ এখনও উপগ্রহ বা স্যাটেলাইট-ভিত্তিক শনাক্তকরণ ব্যবস্থার ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল। কিন্তু সুনির্দিষ্ট কোনো এলাকার জন্য সঠিক সতর্কবার্তা দেওয়ার ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তিতে প্রয়োজনীয় সূক্ষ্মতার অভাব রয়েছে। একটি পূর্ণাঙ্গ ভূমি-ভিত্তিক বজ্রপাত শনাক্তকরণ নেটওয়ার্ক না থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় পর্যায়ে সঠিক সতর্কতা জারি করা সম্ভব হচ্ছে না।
নগরায়ণ কি শহরগুলোকে বৈদ্যুতিকভাবে অস্থির করে তুলছে?
বায়ুদূষণ এই সমীকরণের একটি অংশ মাত্র। শহরগুলো কীভাবে গড়ে তোলা হয়েছে সেটিও এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জলবায়ু গবেষক আওফা ইসলাম বলেন, "ঢাকার মতো ঘনবসতিপূর্ণ এবং অপরিকল্পিত শহরাঞ্চলগুলো স্থানীয় পর্যায়ে বজ্রপাতসহ বিভিন্ন চরম আবহাওয়াজনিত ঘটনার জন্য অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।"
এর অন্যতম প্রধান কারণ হলো 'আরবান হিট আইল্যান্ড ইফেক্ট'—যেখানে কংক্রিট, পিচঢালা পথ এবং গাছপালার অভাবে শহরগুলো তাপ ধরে রাখে। ফলে পার্শ্ববর্তী গ্রামাঞ্চলের তুলনায় শহরের তাপমাত্রা অনেক বেড়ে যায়।
আওফা বলেন, "বায়ুদূষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তন আরবান হিট আইল্যান্ড ইফেক্ট ও বায়ুমণ্ডলীয় অস্থিরতা তৈরিতে ভূমিকা রাখে, যা বজ্রপাতের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিতে পারে।"
এই অতিরিক্ত তাপ বায়ুমণ্ডলে অস্থিরতা তৈরি করে, যা হঠাৎ 'কনভেক্টিভ ইভেন্ট' বা বজ্রঝড় সৃষ্টির অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে। যেসব শহরে সবুজায়নের অভাব রয়েছে এবং নগরায়ণ অপরিকল্পিত, সেখানে এই বায়ুমণ্ডলীয় অস্থিরতা দ্রুত তীব্র হতে পারে এবং সুনির্দিষ্ট কিছু এলাকায় উচ্চমাত্রার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
এর পরিণতি কেবল সরাসরি বজ্রপাতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। আওফা ইসলাম আরও যোগ করেন, "এটি পরোক্ষ ঝুঁকিও বাড়ায়, যেমন বজ্রপাত থেকে শহরে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হতে পারে।"
সামনে করণীয়
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে এই সমস্যা সম্পর্কে সচেতনতার অভাব নেই; অভাব আছে সমন্বয় এবং কার্যকর যোগাযোগের।
আওফা ইসলাম বলেন, "বজ্রপাতকে জাতীয় দুর্যোগ নীতিমালার সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত করতে হবে এবং এর জন্য আলাদা পরিকল্পনা ও সম্পদ বরাদ্দ করতে হবে।"
একটি প্রস্তাবিত সমাধান হলো প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়। আওফা ইসলাম উল্লেখ করেন যে, সরকারি সংস্থা, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, এনজিও এবং স্বেচ্ছাসেবক দলগুলোর সমন্বয়ে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করলে তা কাজের গতি ও সক্ষমতা অনেকাংশে বাড়িয়ে দেবে। এই ধরণের একটি প্ল্যাটফর্ম পূর্বাভাস প্রদান এবং জরুরি সাড়াদানকে আরও সহজতর করতে পারে, যার ফলে সতর্কবার্তাগুলো মাঠ পর্যায়ে কার্যকর হবে।
মোস্তফা কামাল পলাশ মনে করেন, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আমূল আধুনিকায়ন প্রয়োজন—কেবল কারিগরি দিক থেকে নয়, বরং ভাষা ও সামাজিক যোগাযোগের দিক থেকেও। তিনি বলেন, "পূর্বাভাসগুলো প্রায়ই এমন যান্ত্রিক বা আনুষ্ঠানিক ভাষায় দেওয়া হয় যা সাধারণ মানুষ বুঝতে পারে না। আবহাওয়ার তথ্য মানুষের মুখের ভাষায় প্রচার করা উচিত।" এর মধ্যে আঞ্চলিক উপভাষা এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী সহজ ব্যাখ্যা অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দেন তিনি।
সবথেকে বড় কথা হলো, এই পূর্বাভাস হতে হবে সুনির্দিষ্ট। পলাশের মতে, বর্তমান ব্যবস্থাটি অনেকটা 'সবার জন্য একই নিয়ম' অনুসরণ করে—যা মানুষের পেশা, ভৌগোলিক অবস্থান বা ঝুঁকির ভিন্নতাকে গুরুত্ব দেয় না। তিনি ব্যাখ্যা করেন, "একজন কৃষক, বঙ্গোপসাগরের একজন জেলে এবং ঢাকার একজন বাসিন্দার জন্য একই ধরণের পূর্বাভাসের প্রয়োজন নেই।" প্রতিটি গোষ্ঠীর জন্য তাদের দৈনন্দিন কাজের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ও কার্যকর তথ্য সরবরাহ করতে হবে।
দীর্ঘমেয়াদী পরিবেশগত দিক থেকে আশরাফ দেওয়ান তালগাছ লাগানোর মতো উদ্যোগে সুফল দেখলেও সেখানে কিছু সীমাবদ্ধতার কথা জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, "তালগাছ বড় হতে অনেক সময় লাগে, তাই এটি কেবল একটি দীর্ঘমেয়াদী ব্যবস্থা হতে পারে।" তবে স্বল্প বা মধ্যমেয়াদী সমাধানের জন্য তিনি আরও দ্রুত কার্যকর পদ্ধতির ওপর জোর দিয়ে বলেন, "আমরা একটি আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থা নিয়ে এগোতে পারি, যা বহুমুখী তথ্য বিশ্লেষণ করে অন্তত তিন ঘণ্টা আগে খুদে বার্তার মাধ্যমে মানুষকে সতর্ক করবে।"
