মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি: কেন জোটবদ্ধ হলো সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান
চলতি মাসে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে 'মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি' স্বাক্ষরের বিষয়টিকে অনেকেই রিয়াদের তাৎক্ষণিক কোনো নির্দিষ্ট হুমকির প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখছেন। তবে বিষয়টি তা নয়।
গভীর বিশ্লেষণে দেখা যায়, ভৌগোলিক অবস্থান, শক্তির উৎস এবং বিদ্যমান হুমকি ও চ্যালেঞ্জের বিচারে ভিন্ন হলেও— স্বাক্ষরকারী তিন দেশের কৌশলগত স্বার্থগুলো এক জায়গায় এসে মিলেছে।
তবে তিনটি দেশের মধ্যেই একটি বিষয়ে উপলব্ধি তীব্র হচ্ছে—মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ায় কয়েক দশক ধরে বিদ্যমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা আগের মতো সুরক্ষা বা নিশ্চয়তা দিতে আর সক্ষম নয়।
এই প্রেক্ষাপটে অনন্য বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন তিনটি আঞ্চলিক শক্তি মক্কায় একত্রিত হয়ে চুক্তি সই করেছে; যেখানে ধর্মীয়, অর্থনৈতিক, জ্বালানি ও ভূরাজনৈতিক প্রভাবের দিক থেকে শীর্ষে থাকা সৌদি আরব; সামরিক সক্ষমতা, উন্নত প্রতিরক্ষা শিল্প এবং ইউরোপ, কৃষ্ণসাগর ও পূর্ব ভূমধ্যসাগরের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের সংযোগ স্থাপনকারী ভৌগোলিক অবস্থানের অধিকারী তুরস্ক; এবং বৈজ্ঞানিক ও গবেষণা সক্ষমতা, প্রথাগত সামরিক শক্তি, পারমাণবিক অস্ত্র ও দক্ষিণ এশিয়ায় কৌশলগত গভীরতাসম্পন্ন পাকিস্তান জোটবদ্ধ হয়েছে।
ফলে এই চুক্তিটিকে কেবল এক সাধারণ চুক্তি হিসেবে দেখলে ভুল হবে। এটি মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক নিরাপত্তা দর্শনে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সূচনা—যেখানে একক কোনো বহিরাগত পরাশক্তির ছত্রছায়ায় থাকার বদলে, এমন একটি আঞ্চলিক অংশীদারিত্বের নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হচ্ছে, যা ঝুঁকি বণ্টন করতে এবং কার্যকর প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সক্ষম।
চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, এই তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র আক্রমণ মানে অপর দুই দেশের ওপরও আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হবে—যা বড় ধরণের সামরিক জোটগুলোর 'সম্মিলিত প্রতিরক্ষা' (কলেক্টিভ ডিফেন্স) দর্শনেরই প্রতিচ্ছবি। অবশ্য দেশ তিনটি জোর দিয়ে বলেছে যে, এটি একটি আত্মরক্ষামূলক চুক্তি এবং কোনো নির্দিষ্ট রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে এটি নির্দেশিত নয়।
এখানেই মক্কা চুক্তির আসল তাৎপর্য লুকিয়ে আছে। প্রশ্ন এটি নয় যে এই তিন দেশ কাকে প্রতিরোধ করতে চায়; বরং আসল প্রশ্ন হলো: ইতিহাসের এই বিশেষ মুহূর্তে এসে প্রতিটি দেশেরই কেন অপর দুটি দেশকে পাশে পাওয়া জরুরি হয়ে পড়ল?
সৌদি আরবের প্রভাব ও কৌশলগত বাস্তবতা
স্বাভাবিকভাবেই, মক্কা চুক্তি নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে সৌদি আরব। তবে দেশটির নিরাপত্তাকে কেবল একমুখী কোনো দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা বিরাট ভুল হবে।
সৌদি আরব অত্যন্ত জটিল এক কৌশলগত পরিস্থিতির মুখোমুখি। দেশটি এমন এক অঞ্চলের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত, যেখানে বিশ্ব ও আঞ্চলিক নানা পরাশক্তি এবং তাদের বহুমুখী প্রকল্পের স্বার্থ— সরাসরি সংঘাত তৈরি করে।
ফলে সৌদি আরবের জাতীয় নিরাপত্তা শুধু সীমান্ত রক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; পারস্য উপসাগর, লোহিত সাগর, বাব আল-মানদেব প্রণালি, জ্বালানি সরবরাহের পথ, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, আকাশসীমা, সাইবার নিরাপত্তা, সরবরাহ শৃঙ্খল এবং বড় বড় অর্থনৈতিক প্রজেক্ট রক্ষা করাও এর অংশ।
এই বিশাল নিরাপত্তাবলয় সামলাতেই তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে তাদের সহযোগিতার জায়গাটি অনন্য কৌশলগত গুরুত্ব পাচ্ছে। তুরস্ক এখানে উন্নত সামরিক, শিল্প ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা জোগাবে; আর পাকিস্তান প্রদান করবে সামরিক সক্ষমতা, বাস্তব যুদ্ধের অভিজ্ঞতা। তাছাড়া দেশটির সঙ্গে দীর্ঘদিনের সামরিক সম্পর্কের গভীরতাও রয়েছে রিয়াদের।
এর বিনিময়ে সৌদি আরবের রয়েছে মুসলিম বিশ্বে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক প্রভাব, অঢেল অর্থনৈতিক সম্পদ, প্রতিরক্ষা শিল্প, বিশাল বাজার এবং জ্বালানি ও অবকাঠামো খাতে বিপুল বিনিয়োগের সামর্থ্য। এই পারস্পরিক শক্তির পরিপূরক সুবিধাই (কমপ্লিমেন্টারিটি) মক্কা চুক্তি অনুধাবনের অন্যতম প্রধান চাবিকাঠি।
এই চুক্তিটি কোনো নির্দিষ্ট দেশকে লক্ষ্য করে করা হয়নি—সরকারি এই বক্তব্যকে জোরালো করে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সৌদি-ইরান সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করেছে; তৈরি হয়েছে উত্তেজনা কমানো ও আলোচনার নতুন পথ। তাই মক্কা চুক্তিকে তেহরানের বিরুদ্ধে নতুন কোনো সংঘাতের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করাও রিয়াদের জন্য বড় কৌশলগত ভুল হবে।
এর চেয়ে অনেক বেশি যুক্তিসঙ্গত ব্যাখ্যা হলো—সৌদি আরব আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সব শক্তিকে এটি স্পষ্ট বার্তা দিতে চায় যে, রিয়াদের ওপর যেকোনো আগ্রাসনের মূল্য কেবল সৌদি আরবের নিজস্ব সামরিক ক্ষমতার বিচারে নির্ধারণ করলে চলবে না; তার পেছনে থাকা অংশীদারদের বিশাল ক্ষমতা ও সামরিক জোটের কথাও মাথায় রাখতে হবে।
এটাই হলো সামরিক প্রতিরোধ ব্যবস্থার (ডিটারেন্স) আসল সারমর্ম। প্রতিরোধ গড়ে তোলার অর্থ যুদ্ধ চাওয়া নয়; বরং যুদ্ধকে প্রতিপক্ষের জন্য এতটাই ব্যয়বহুল করে তোলা, যাতে যেকোনো আক্রমণের আগে শত্রু শতবার চিন্তা করতে বাধ্য হয়।
তুরস্কের পররাষ্ট্রনীতি ও নতুন সমীকরণ
এখানে প্রশ্ন উঠতে পারে—ন্যাটো সদস্য এবং সেই জোটের অন্যতম বৃহত্তম সামরিক শক্তির অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও তুরস্কের কেন সৌদি আরব ও পাকিস্তানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তির প্রয়োজন পড়ল? তদুপরি, দেশটির নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্পও দ্রুত বিকশিত হচ্ছে।
উত্তর হলো—সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আঙ্কারা অত্যন্ত স্বাধীনভাবে নিজস্ব পররাষ্ট্রনীতি প্রণয়ন করছে। সিরিয়া, ইরাক, লেবানন, লিবিয়া, পূর্ব ভূমধ্যসাগর, কৃষ্ণসাগর, ককেশাস অঞ্চল, রাশিয়া, ইরান থেকে শুরু করে ইউরোপ পর্যন্ত বিস্তৃত পুরো পারিপার্শ্বিক অঞ্চলকে তারা নিজেদের নিরাপত্তার প্রত্যক্ষ ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করে।
একই সময়ে সিরিয়ায় তুরস্কের সক্রিয় ভূমিকা এবং বিশেষ করে গাজা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলি নীতির তীব্র সমালোচনা তেল আবিবের সঙ্গে আঙ্কারার টানাপোড়েন বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে এই অঞ্চলের অন্যতম বড় পরিবর্তন হলো—তুরস্ক ও ইসরায়েলের দ্বিমত আর কেবল ফিলিস্তিন ইস্যুর রাজনৈতিক বাকযুদ্ধের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বরং সিরিয়া এবং পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে দুই দেশের স্বার্থ সরাসরি কৌশলগত সংঘাতের রূপ নিয়েছে।
অন্যদিকে, ইসরায়েলও গ্রিস এবং সাইপ্রাসের সঙ্গে সামরিক ও নিরাপত্তা সম্পর্ক সুদৃঢ় করেছে। গত ডিসেম্বরে দেশ তিনটি তাদের দশম ত্রিপক্ষীয় শীর্ষ সম্মেলন আয়োজন করে। যৌথ সামরিক মহড়াসহ সামরিক সহযোগিতার নানামুখী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে তারা।
তুরস্কের দৃষ্টিকোণ থেকে এই সত্যকে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই যে—ইসরায়েল, গ্রিস ও সাইপ্রাস এমন এক অঞ্চলে সামরিক ও রাজনৈতিক বলয় গড়ে তুলছে, যেখানে তাদের স্বার্থ আঙ্কারার সঙ্গে সরাসরি বিরোধপূর্ণ।
এই পরিস্থিতিই ব্যাখ্যা করে, কেন সৌদি আরব ও পাকিস্তানের সঙ্গে অংশীদারিত্ব আঙ্কারার জন্য অতীব গুরুত্বপূর্ণ। তুরস্ক চায় না তাদের কৌশলগত সামর্থ্য কেবল যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ কিংবা ন্যাটোর মধ্যকার সম্পর্কের ফ্রেমে বন্দি থাকুক। বরং যেকোনো একক অক্ষ বা পরাশক্তির চাপ কমানোর জন্য তারা আরও বিস্তৃত নেটওয়ার্ক তৈরি করতে আগ্রহী।
বিভিন্ন বিশ্লেষণে এটি স্পষ্ট যে, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক কোনো হঠকারী সিদ্ধান্ত নয়। এটি বহু বছরের সামরিক সহযোগিতা, প্রশিক্ষণ ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। তাই তুরস্কের অন্তর্ভুক্তি প্রকৃতপক্ষে বহুকাল ধরে টিকে থাকা একটি ঐতিহ্যবাহী ভিত্তিকেই নতুন উচ্চতায় উন্নীত করেছে।
পাকিস্তানের কৌশলগত হিসাব-নিকাশ
এবার আসা যাক পাকিস্তানের প্রসঙ্গে। মক্কা চুক্তিতে সই বা পাকিস্তানের অংশগ্রহণকে কেবল মধ্যপ্রাচ্যের চশমা দিয়ে দেখলে বড় ভুল করা হবে।
পাকিস্তানের জন্মলগ্ন থেকেই দেশটির সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা ভারতের সঙ্গে দ্বন্দ্বের সমীকরণে আবর্তিত হয়ে আসছে। ভারত-পাকিস্তান সীমান্ত সাময়িক শান্ত থাকলেও কাশ্মীর বিতর্ক, সীমান্ত বিরোধ এবং দুই পারমাণবিক শক্তির সামরিক প্রতিযোগিতা সবসময়ই তাদের কৌশলগত নীতি নির্ধারণে বড় প্রভাব ফেলে।
গত বছরেই ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বিপজ্জনক সামরিক সংঘাত ও সৈন্য সমাবেশ দেখা গেছে। ফলে রিয়াদ ও আঙ্কারার সঙ্গে যৌথ চুক্তিকে পাকিস্তান কেবল পারস্য উপসাগরের রাজনীতি হিসেবে দেখছে না; বরং তারা দেখছে কীভাবে বহুমাত্রিক নিরাপত্তা হুমকি সামলাতে নিজেদের আন্তর্জাতিক সমর্থনের ভিত্তি শক্ত করা যায়, সেই আঙ্গিকেও।
এই জায়গা থেকে সৌদি আরব একটি অতুলনীয় অংশীদার। সৌদি আরব কেবল এক সাধারণ উপসাগরীয় বা আরব দেশ নয়; এটি আঞ্চলিকভাবে ও বিশ্বজুড়ে একাধারে অর্থনৈতিক, জ্বালানি, ধর্মীয় গুরুত্ব ও রাজনীতির এক কেন্দ্রবিন্দু।
অন্যদিকে তুরস্কের রয়েছে বিশাল সামরিক ও শিল্প শক্তি, পাশাপাশি মধ্য এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, রাশিয়া, চীন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিস্তৃত সম্পর্ক। ফলস্বরূপ, এই ত্রিপক্ষীয় জোট পাকিস্তানকে এক সুদূরপ্রসারী কৌশলগত ভারসাম্য অর্জনে সহায়তা করছে।
এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার করা প্রয়োজন—সৌদি আরব কোনো "ভাড়াটে বিদেশি সেনাবাহিনী" খুঁজছে না; বরং তারা নিজেদের ক্ষমতার উৎসগুলোকে বহুমুখী করতে চাইছে। এই চুক্তিকে রিয়াদের নিজেকে রক্ষা করতে না পারার প্রমাণ বলে মনে করলে মারাত্মক ভুল হবে। সাম্প্রতিক দশকগুলোতে সৌদি আরব তাদের সশস্ত্র বাহিনী, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং বিমান ও নৌবাহিনী গড়ে তুলতে অঢেল সম্পদ বিনিয়োগ করেছে।
তবে আধুনিক সামরিক শক্তি কিন্তু কেবল দামি অস্ত্র কেনার বিষয় নয়। এর সাথে যুক্ত রয়েছে সামরিক প্রশিক্ষণ, বাস্তব যুদ্ধের অভিজ্ঞতা, গোয়েন্দা সক্ষমতা, কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্যাটেলাইট, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার, নিজস্ব অস্ত্র তৈরি ও রক্ষণাবেক্ষণ এবং দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে টিকে থাকার সক্ষমতা।
ঠিক এ কারণেই তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে এই অংশীদারত্ব রিয়াদের জন্য কেবল তাৎক্ষণিক বহিরাগত হামলা মোকাবিলার ক্ষেত্রে নয়, দীর্ঘমেয়াদে নিজস্ব স্বাধীন জাতীয় প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও অত্যন্ত মূল্যবান হবে। কারণ সেরা প্রতিরক্ষা জোট সেটাই, যা একটি রাষ্ট্রকে চিরকাল সহযোগীদের ওপর নির্ভরশীল করে রাখে না, বরং তাকে স্বাবলম্বী হতে সাহায্য করে।
লেখক: আহমেদ আল-তুয়াইজরি একজন সৌদি শিক্ষাবিদ, আইনজীবী ও কবি। তিনি ইউনিভার্সিটি অব ওরেগন থেকে তুলনামূলক দর্শনে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তিনি রিয়াদের কিং সৌদ ইউনিভার্সিটির কলেজ অব এডুকেশনের সাবেক অধ্যাপক ও ডিন ছিলেন এবং সৌদি আরবের শুরা কাউন্সিলের টানা দুই মেয়াদে সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রতিরোধে সোচ্চার ফ্রান্সভিত্তিক অলাভজনক সংস্থা 'ইন্টারন্যাশনাল জাস্টিস'-এর সভাপতি।
