টিকটকের ‘আসক্তিমূলক ডিজাইন’ পরিবর্তনের নির্দেশ ইইউ’র, নইলে বড় অঙ্কের জরিমানার হুঁশিয়ারি
জনপ্রিয় ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম টিকটককে তাদের অ্যাপের নকশা পরিবর্তনের নির্দেশ দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। ইইউর অভিযোগ, নকশাটি এমনভাবে তৈরি, যা ব্যবহারকারীদের মধ্যে 'আসক্তি' তৈরি করে।
অনলাইন নিরাপত্তার নিয়ম ভঙ্গের দায়ে এই নকশা পরিবর্তন না করলে টিকটককে বড় অংকের জরিমানার মুখে পড়তে হবে।
চীনা মালিকানাধীন এই অ্যাপের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তদন্ত শুরু করে ইউরোপীয় কমিশন। তাদের প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টিকটকের 'অটোপ্লে' (স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিডিও চালু হওয়া) এবং অন্যান্য ফিচার ব্যবহারকারীদের, বিশেষ করে শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যে কতটা ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে, তা সঠিকভাবে মূল্যায়ন করেনি কর্তৃপক্ষ। এসব ঝুঁকি কমানোর কোনো ব্যবস্থাও তারা নেয়নি।
অবশ্য টিকটকের একজন মুখপাত্র বলেছেন, ইইউর এই পর্যবেক্ষণ 'সম্পূর্ণ ভুল ও ভিত্তিহীন'।
ইইউর এই অভিযোগের জবাব দেওয়ার সুযোগ পাবে টিকটক। তবে পরবর্তী পদক্ষেপে কমিশন যদি সন্তুষ্ট না হয়, তবে টিকটককে তাদের মোট বার্ষিক আয়ের ৬ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে। অর্থের অঙ্কে যা হতে পারে কয়েক হাজার কোটি ডলার।
নকশা পরিবর্তনের বিষয়ে কমিশন কিছু পরামর্শও দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—
- রাতে অ্যাপটি ব্যবহারের সময় বাধ্যতামূলক 'স্ক্রিন টাইম ব্রেক' চালু করা।
- অ্যালগরিদমে পরিবর্তন আনা, যাতে ব্যবহারকারীরা শুধু ব্যক্তিগত পছন্দ অনুযায়ী কনটেন্ট না দেখেন।
- 'ইনফিনিট স্ক্রল' সুবিধা বন্ধ করা। এই ফিচারের কারণে ব্যবহারকারীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা ভিডিও দেখতে থাকেন।
ইইউর প্রযুক্তিবিষয়ক প্রধান হেনা ভিরকুনেন বলেন, 'ডিজিটাল সার্ভিসেস অ্যাক্ট অনুযায়ী প্ল্যাটফর্মগুলো তাদের ব্যবহারকারীদের ওপর যে প্রভাব ফেলে, তার দায় তাদেরই নিতে হবে। ইউরোপে আমাদের শিশু ও নাগরিকদের সুরক্ষায় আমরা আইন প্রয়োগ করছি।'
বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর ইইউর এমন কড়া নজরদারি বা জরিমানার হুমকি অবশ্য নতুন কিছু নয়। এর আগেও একাধিকবার এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
যেমন, ২০২৪ সালে ডিসেম্বরেই রোমানিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগে টিকটকের বিরুদ্ধে আলাদা একটি তদন্ত শুরু করেছিল ইইউ।
আবার ইলন মাস্কের মালিকানাধীন প্ল্যাটফর্ম এক্সে (সাবেক টুইটার) যুক্ত করা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই টুল 'গ্রোক' নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে ইইউ। এই টুল ব্যবহার করে প্রকৃত মানুষের আপত্তিকর ছবি তৈরি করা হচ্ছে—এমন আশঙ্কায় চলতি বছরের জানুয়ারিতে এক্সের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়।
এর আগে 'ব্লু টিক' ব্যাজ নিয়ে ব্যবহারকারীদের বিভ্রান্ত করার দায়ে এক্সকে ১২ কোটি ইউরো জরিমানা করে ইইউ। সংস্থাটির অভিযোগ, অ্যাকাউন্টের পেছনে আসলে কে আছে, তা সঠিকভাবে যাচাই-বাছাই না করেই এই ব্যাজ দিচ্ছে এক্স।
