দ্বিতীয় প্রান্তিকে ঘুরে দাঁড়াল সিঙ্গার বাংলাদেশ, এক বছর পর মুনাফা
ইলেকট্রনিকস ও গৃহস্থালি পণ্য প্রস্তুতকারক সিঙ্গার বাংলাদেশ লিমিটেড ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে আবারও মুনাফায় ফিরেছে। পরিচালন কার্যক্রমে উন্নতি এবং অর্থায়ন ব্যয় কমে আসায় কোম্পানিটি এ মুনাফা করেছে।
তবে বছরের প্রথম ছয় মাসের হিসাবে এখনও লোকসানে রয়েছে সিঙ্গার। ভোক্তা চাহিদা কম থাকা, ব্যয় বেড়ে যাওয়া এবং প্রতিকূল বাজার পরিস্থিতি এর সামগ্রিক ব্যবসায়িক কার্যক্রমে চাপ সৃষ্টি করেছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) প্রকাশিত মূল্যসংবেদনশীল তথ্য (পিএসআই) অনুযায়ী, সিঙ্গার বাংলাদেশের পরিচালনা পর্ষদ ২০২৬ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত দ্বিতীয় প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদন করেছে।
এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১ টাকা ৩৬ পয়সা। গত বছরের একই সময়ে শেয়ারপ্রতি ৩ টাকা ১১ পয়সা লোকসান হয়েছিল।
চলতি বছরের জানুয়ারি-জুন সময়ে সিঙ্গারের শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৪ টাকা ২৪ পয়সা। তবে তা আগের বছরের একই সময়ের ৬ টাকা ৬১ পয়সা লোকসানের তুলনায় কম।
বৃহস্পতিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সিঙ্গার বাংলাদেশের শেয়ারের সর্বশেষ দর ছিল ৭৬ টাকা ৯০ পয়সা।
২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভি) ঋণাত্মক ২ টাকা ৫৫ পয়সায় নেমে এসেছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে যা ছিল ১ টাকা ৬৯ পয়সা।
এদিকে, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ অর্থপ্রবাহ (এনওসিএফপিএস) কমে দাঁড়িয়েছে ৫ টাকা ৪৯ পয়সায়, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১২ টাকা ৫২ পয়সা।
সিঙ্গার জানিয়েছে, ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির রাজস্ব আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ৮৪০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। গত বছরের একই প্রান্তিকে রাজস্ব ছিল ৮১০ কোটি টাকা।
তবে ভোক্তা ইলেকট্রনিকস বাজারে চাহিদা দুর্বল থাকায় বিক্রি প্রত্যাশার তুলনায় কম হয়েছে বলে জানিয়েছে কোম্পানিটি।
কোম্পানিটি জানিয়েছে, দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতি, ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে ভোক্তা ব্যয় কমে যাওয়ায় ব্যবসার গতি মন্থর হয়েছে।
মোট মুনাফার হার কিছুটা বাড়লেও বাজারে তীব্র মূল্য প্রতিযোগিতার কারণে বাড়তি ব্যয়ের পুরোটা ক্রেতাদের ওপর চাপাতে পারেনি কোম্পানিটি।
দ্বিতীয় প্রান্তিকে সিঙ্গারের পরিচালন মুনাফা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১০ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে। এর ফলে এ সময়ে কোম্পানিটি ১৪ কোটি ৮ লাখ টাকা করপূর্ব মুনাফা করেছে। গত বছরের একই সময়ে করপূর্ব লোকসান ছিল ২৭ কোটি ৯১ লাখ টাকা।
এ ছাড়া, বিনিময় হার স্থিতিশীল থাকায় কোম্পানির অর্থায়ন ব্যয় কমেছে ৩৫ দশমিক ৮ শতাংশ।
এদিকে, প্রান্তিক হিসাবে মুনাফায় ফিরলেও কার্যকরী মূলধনে চাপের মুখে ছিল সিঙ্গার। বিক্রি প্রত্যাশার তুলনায় কম থাকায় কোম্পানিটির মজুত পণ্য ৯ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। একই সঙ্গে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের তুলনায় স্বল্পমেয়াদি ঋণ বেড়েছে ১৯ শতাংশ।
অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড দুর্বল থাকায় ডিলারদের কাছে বাকিতে বিক্রি বৃদ্ধি এবং অর্থ আদায়ে ধীরগতির কারণে বাণিজ্যিক পাওনা ৭৭ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে।
সিঙ্গার জানিয়েছে, ডিলার অর্থায়ন, ব্যবসার মৌসুমি ধরন এবং ঋণসুবিধার মেয়াদ বাড়ানোর কারণে পরিচালন নগদ প্রবাহে চাপ পড়েছে। ব্যবসায়িক পরিস্থিতির উন্নতি হলে তৃতীয় প্রান্তিক থেকে নগদ প্রবাহ বাড়বে বলে আশা করছে কোম্পানিটি।
