ড. ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধের নির্দেশ হাইকোর্টের
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। আগামী তিন অর্থবছরের মধ্যে এ অর্থ পরিশোধ করতে হবে বলে রায়ে উল্লেখ করেছেন আদালত।
রায়ের পর গ্রামীণ কল্যাণের আইনজীবী খাজা তানভীর সাংবাদিকদের বলেন, 'এনবিআরের যে দাবিটি আমরা হাই কোর্ট বিভাগে চ্যালেঞ্জ করেছিলাম, আদালত আজ সেই রুল খারিজ করে দিয়েছেন। এর ফলে এনবিআরের দাবিটিই বহাল থাকল।'
রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের বিষয়ে তিনি বলেন, 'আমরা এই আদেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে যাওয়ার চিন্তাভাবনা করছি। মক্কেলের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।'
এছাড়া, কবে নাগাদ ওই অর্থ পরিশোধ করতে হবে, তা পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর জানা যাবে বলে জানান তিনি।
এনবিআরের ওই কর দাবির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০১৭ সালে হাই কোর্টে রিট আবেদন করে গ্রামীণ কল্যাণ।
এর আগে মুহাম্মদ ইউনূস প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে ক্ষমতায় থাকাকালে তার পক্ষে গ্রামীণ কল্যাণের মামলাটি প্রত্যাহার করা হয়েছে, এমন সংবাদ প্রায় সব গণমাধ্যমে প্রচার হয়। তবে গত ১৪ জুলাই কর মওকুফ এবং মামলা প্রত্যাহারের খবর 'ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর' বলেছিলেন প্রতিষ্ঠানটির আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন।
মামলাটি বিচারপতি মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের হাই কোর্ট বেঞ্চে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে বলেও তথ্য দিয়েছিলেন তিনি।
কর বিরোধের বিষয়টি সে সময় ব্যাখ্যা করে আইনজীবী মামুন বলেন, 'গ্রামীণফোন থেকে লভ্যাংশ দেওয়ার সময় উৎসে ১৫ শতাংশ কর কেটে রাখা হয়। সেই কর পরিশোধের পর আবার কেন অতিরিক্ত কর ধার্য করা হবে- এই প্রশ্নেই আমরা আদালতের শরণাপন্ন হয়েছি। অথচ বিষয়টি কর ফাঁকির মামলা হিসেবে প্রচার করা হয়েছে।'
মামলার সঙ্গে মুহাম্মদ ইউনূসের সম্পৃক্ততার বিষয়ে মামুন বলেন, 'তিনি একসময় গ্রামীণ কল্যাণের চেয়ারম্যান ছিলেন। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেন। বর্তমানে মামলাটি প্রতিষ্ঠানের নামে চলছে এবং বর্তমান কর্মকর্তারাই আইনগতভাবে এটি পরিচালনা করছেন।'
এর আগে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট একটি বেঞ্চ এ বিষয়ে রিট খারিজ করে রায় দিয়েছিলেন। পরে ওই রায় প্রত্যাহার করে নেন হাইকোর্টের একই বেঞ্চ। কারণ হিসেবে বলা হয়, বেঞ্চের কনিষ্ঠ বিচারক একসময় এসব মামলায় সরকারের পক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
এ কারণে রায়টি প্রত্যাহার করে মামলার নথি প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানো হয়। এরপর মামলাগুলো শুনানির জন্য নতুন বেঞ্চে পাঠানো হয়।
গ্রামীণ কল্যাণের চেয়ারম্যান ছিলেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। পুনর্মূল্যায়নের পর ২০১২-১৩, ২০১৩-১৪, ২০১৪-১৫, ২০১৫-১৬ ও ২০১৬-১৭ করবর্ষের জন্য গ্রামীণ কল্যাণের কাছে কর বাবদ প্রদেয় অর্থের দাবি জানানো হয়। এ দাবির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০১৭ সালে পৃথক রিট করে গ্রামীণ কল্যাণ।
২০২৪ সালে রাষ্ট্রপক্ষ জানিয়েছিল, পাঁচটি করবর্ষের জন্য গ্রামীণ কল্যাণের কাছে কর বাবদ ৬৬৬ কোটি টাকার বেশি দাবি করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
