প্রতিদ্বন্দ্বীদের ঠেকিয়ে নিজস্ব অ্যাপকে সুবিধা, গুগলকে ৮৯০ মিলিয়ন ইউরো জরিমানা করল ইইউ
প্রতিদ্বন্দ্বীদের ঠেকিয়ে নিজস্ব অ্যাপ ও সেবাকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগে গুগলকে ৮৯০ মিলিয়ন ইউরো (প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার) জরিমানা করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।
বিশ্বের বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর বাজারে আধিপত্য নিয়ন্ত্রণে প্রণীত ডিজিটাল মার্কেটস অ্যাক্ট (ডিএমএ) আইনের আওতায় গুগলের বিরুদ্ধে এটিই প্রথম বড় ধরনের ব্যবস্থা।
বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) ইউরোপীয় কমিশন জানায়, গুগল তাদের সার্চ ইঞ্জিন ও প্লে স্টোরে নিজেদের অ্যাপ ও সেবাকে প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় অন্যায্য সুবিধা দিয়েছে। এতে ভোক্তাদের পছন্দের সুযোগ সীমিত হয়েছে এবং প্রতিযোগিতা ব্যাহত হয়েছে।
গুগলকে মোট জরিমানার মধ্যে ৪৬০ মিলিয়ন ইউরো জরিমানা করা হয়েছে সার্চ ফলাফলে হোটেল ও ফ্লাইট বুকিংয়ের ক্ষেত্রে নিজস্ব সেবাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য। এছাড়া গুগল প্লে স্টোরের নীতিমালার কারণে ব্যবহারকারীরা প্লে স্টোরের বাইরে থাকা তুলনামূলক কম দামের অফার দেখতে না পারায় আরও ৪৩০ মিলিয়ন ইউরো জরিমানা করা হয়েছে।
তবে এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে গুগল। প্রতিষ্ঠানটির গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স বিভাগের প্রেসিডেন্ট কেন্ট ওয়াকার বলেন, 'নিয়ম মেনে চলতে গিয়ে ইউরোপের ব্যবহারকারীদের পছন্দের রিয়েল-টাইম সার্চ সুবিধা—যেমন হোটেল, ফ্লাইট ও রেস্তোরাঁর তাৎক্ষণিক মূল্য ও প্রাপ্যতা—সরিয়ে ফেলতে হচ্ছে। পাশাপাশি গুগল প্লের নিরাপত্তাব্যবস্থাও দুর্বল করতে হচ্ছে। এটি ন্যায্য প্রতিযোগিতা নয়।'
তবে ইইউ কর্মকর্তারা এ যুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাদের মতে, বাজারে প্রভাবশালী প্ল্যাটফর্মগুলো যাতে নিজেদের অবস্থান ব্যবহার করে প্রতিদ্বন্দ্বীদের ক্ষতিগ্রস্ত করতে না পারে, সে লক্ষ্যেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ইইউর প্রতিযোগিতাবিষয়ক কমিশনার তেরেসা রিবেরা বলেন, 'সেরা পণ্যই সফল হবে, কারণ সেটি ভালো—সার্চ ইঞ্জিন পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন বলে নয়।'
প্রতিযোগিতাবিরোধী আচরণের অভিযোগে এর আগেও ইউরোপীয় নিয়ন্ত্রকদের কাছ থেকে কয়েক দফায় বিলিয়ন ইউরো জরিমানা গুনতে হয়েছে গুগলকে।
এদিকে সেন্টার অন রেগুলেশন ইন ইউরোপের গবেষণা পরিচালক জ্যাক মেয়ার্স বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইইউ সম্পর্কের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে গুগলের বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করতে কিছুটা সময় লেগেছে। তবে শেষ পর্যন্ত কমিশন জরিমানা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
গুগলের সামনে এখন ৬০ দিনের মধ্যে ইইউর নির্দেশনা মেনে চলা অথবা ইউরোপীয় কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
