ভেনেজুয়েলার বন্দরে ড্রোন হামলার পেছনে রয়েছে সিআইএ
ভেনেজুয়েলার একটি বন্দরে গত সপ্তাহে ড্রোন হামলা চালিয়েছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুটি সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এপি এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানায়।
গত সেপ্টেম্বর থেকে ভেনেজুয়েলার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের চাপ প্রয়োগের যে অভিযান চলছে, এই হামলা সেটিকে এক নতুন মাত্রায় নিয়ে গেল। ভেনেজুয়েলার মাটিতে এটিই যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম জানা সরাসরি অভিযান। তবে ভেনেজুয়েলার কর্মকর্তারা হামলার বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানাননি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত শুক্রবার নিউইয়র্কের ডব্লিউএবিসি রেডিওতে জন ক্যাটসিমাটিডিসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রথম এই অভিযানের ইঙ্গিত দেন। তিনি বলেন, আমেরিকা এমন একটি 'বড় স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়েছে যেখান থেকে জাহাজগুলো আসে'।
পরবর্তীতে সোমবার নিজের মার-এ-লাগো রিসোর্টে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় ট্রাম্প বিষয়টি আরও স্পষ্ট করেন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, অভিযানটি চালানো হয়েছে এমন একটি 'ডক এলাকায় যেখানে নৌকায় মাদক লোড করা হয়'। তবে হামলাটি সেনাবাহিনী চালিয়েছে নাকি সিআইএ, সে প্রশ্নের উত্তরে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
সিআইএ এবং হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারাও এ বিষয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছেন। তবে ক্যারিবীয় অঞ্চলে মার্কিন অভিযানের তদারকিতে থাকা স্পেশাল অপারেশন্স কমান্ডের মুখপাত্র কর্নেল অ্যালি উইসকফ এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, 'স্পেশাল অপারেশনস এই অভিযানে কোনো সহায়তা করেনি, এমনকি গোয়েন্দা তথ্য দিয়েও নয়।'
গত আগস্ট থেকে ক্যারিবীয় সাগরে মার্কিন সৈন্য সমাবেশ বৃদ্ধির মাধ্যমে যে উত্তেজনার শুরু, এই হামলা তাকে আরও উসকে দিল। এর আগে ক্যারিবীয় ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে মাদকবাহী সন্দেহে অন্তত ৩০টি নৌকায় হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। সম্প্রতি ভেনেজুয়েলার ওপর তেলের ট্যাঙ্কার আটকের জন্য এক ধরনের অঘোষিত অবরোধ বা 'কোয়াসি-ব্লকেড' আরোপ করেছেন ট্রাম্প। সিএনএন সবার আগে এই অভিযানে সিআইএর জড়িত থাকার খবর প্রকাশ করে।
ট্রাম্প বেশ কয়েক মাস ধরেই ভেনেজুয়েলার মাটিতে হামলার হুমকি দিচ্ছিলেন। তিনি প্রকাশ্যে স্বীকারও করেছেন যে সিআইএকে গোপনে ভেনেজুয়েলার ভেতরে কাজ করার অনুমতি দিয়েছেন—রাষ্ট্রপ্রধানদের ক্ষেত্রে যা সচরাচর দেখা যায় না।
সিআইএর গোপন অভিযানের খবর কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ সদস্য এবং গোয়েন্দা কমিটির প্রধানদের জানানোর নিয়ম রয়েছে। তবে ধারণা করা হচ্ছে, সরাসরি সামরিক হামলার চেয়ে গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে হামলা চালালে আইনপ্রণেতাদের প্রশ্নের মুখে কম পড়তে হবে—এমন হিসাব-নিকাশ থেকেই ট্রাম্প হয়তো এই পথ বেছে নিয়েছেন।
অক্টোবরে সিআইএকে অনুমোদন দেওয়ার কথা জানিয়ে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেছিলেন, 'আমি মূলত দুটি কারণে এই অনুমোদন দিয়েছি। এক, তারা তাদের কারাগার খালি করে সব অপরাধীকে আমেরিকায় পাঠিয়েছে। আর দুই, মাদক। ভেনেজুয়েলা থেকে প্রচুর মাদক সাগরপথে আমাদের দেশে ঢুকছে।'
ট্রাম্প বারবার হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছেন যে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর দিন শেষ হয়ে এসেছে। ২০২০ সাল থেকেই মাদকসন্ত্রাস ও অন্যান্য অভিযোগে মাদুরো ও তাঁর ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে মামলা চলছে। মাদুরো অবশ্য সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। চলতি বছর মার্কিন বিচার বিভাগ তাঁর গ্রেপ্তারে সহায়তা করলে পুরস্কারের অঙ্ক দ্বিগুণ করে ৫ কোটি ডলার ঘোষণা করেছে।
এদিকে মঙ্গলবার একটি আন্তর্জাতিক নারী নেতৃত্ব স্কুলে এক ঘণ্টার দীর্ঘ ভাষণ দিলেও ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট সিআইএর এই অভিযানের বিষয়ে কিছু বলেননি।
