সংস্কার প্রশ্নে জামায়াত ও এনসিপি ‘ন্যাচারাল এলাই’, জোটকে ইতিবাচকভাবে দেখছে যুক্তরাষ্ট্র: এনসিপি
সংস্কার প্রস্তাবনা ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) একে অপরের 'ন্যাচারাল এলাই' (স্বার্থের মিল) আছে বলে জানিয়েছেন এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন। একইসঙ্গে সংস্কার, বিচার নিশ্চিতকরণ ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে এই দুই দলের জোট গঠনকে যুক্তরাষ্ট্র ইতিবাচকভাবে দেখছে বলে জানিয়েছেন দলটির যুগ্ম আহবায়ক সুলতান মোহাম্মদ জাকারিয়া।
রোববার (৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এসব কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে এনসিপির ৪ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল নির্বাচন ও সমসাময়িক রাজনীতি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, 'জাতীয় নাগরিক পার্টির পক্ষে সংস্কারকে একার পক্ষে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। আমরা চেয়েছিলাম বিএনপি জামায়াত সবাই নতুন বন্দোবস্তোর কথা বলবে। কিন্তু সংস্কার কমিশনে বিএনপির সংস্কার বিরোধী অবস্থানের বিপরীতে জামায়াত-এনসিপির একটা ন্যাচারাল এলাই তৈরি হয়েছে।'
জামায়াতের সঙ্গে জোটের প্রকৃতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, 'জামায়াতের সাথে আমাদের আদর্শিক জোট হয়নি। আমরা এককভাবেই নিজেদের প্রস্তুত করছিলাম। প্রথম ধাপের প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর দ্বিতীয় তালিকা প্রকাশের পর ওসমান হাদি শহীদ হন। এই ঘটনা আমাদের চিন্তাকে প্রভাবিত করে। জুলাইয়ের শক্তিকে শত্রুরা টার্গেট করেছে।'
আখতার হোসেন আরও বলেন, 'দুর্নীতি বিরোধী, আধিপত্য বিরোধী বাংলাদেশ বিনির্মানে জামায়াত ইসলামীর নেতৃত্বে রাজনৈতিক জোটের সাথে আমরা সামিল হয়। আলোচনায় আমরা নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে কন্সার্ন জানিয়েছি।'
নির্বাচনী সমীকরণ নিয়ে আখতার হোসেন বলেন, 'আসন বিন্যাস নিয়ে অল্প সময়ের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে উপনীত হব। সরকার গঠনের বিষয় নিয়ে আলোচনা চলমান আছে। এটা কোনো আদর্শিক জোট না, এটা আসন সমঝোতা।'
এনসিপির বেশ কিছু নেতার পদত্যাগ প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, 'তাদের এই পদত্যাগ আমাদের ব্যক্তিগত অনুভূতিতে আঘাত করেছে। আমরা এখনো তাদের পদত্যাগপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করিনি।'
বর্তমান নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করে তিনি বলেন, 'যাচাই-বাছাই করার ক্ষেত্রে প্রশাসনে পক্ষপাতমূলক আচরণ করা হয়েছে। এই নির্বাচনে আইনি ফাঁক-ফোকড়ে জাতীয় পার্টিকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।'
সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন দূতাবাসের আলোচনা নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন সুলতান মোহাম্মদ জাকারিয়া। তিনি বলেন, 'আজকে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে নির্বাচনের প্রস্তুতি, পরিবেশ ও সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সহায়তা নিয়েও কথা হয়েছে। এছাড়াও জোট ও রাজনীতি নিয়ে কথা হয়েছে।' তিনি আরও জানান, এনসিপি মার্কিন প্রশাসনের দৃষ্টিভঙ্গি জানতে চেয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র কারিগরি সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে।
নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়ে জাকারিয়া বলেন, 'এনসিপির পক্ষ থেকে কিছু কন্সার্ন বলেছি। বড় দলের অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষ দেড়শো মানুষ নিহত হয়েছে এটা নির্বাচনের দিনে কী ধরনের প্রভাব পড়বে সেটা নিয়ে বলেছি।'
রাজনৈতিক জোট প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, 'উনারা আমাদের শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে জানতে চেয়েছেন জোট গঠনের লাভ ও ক্ষতি নিয়ে। আমরা বলেছি সংস্কার প্রশ্নে সমমনা দল হিসেবে আমাদের মিল আছে তাদের নিয়ে এটা একটা রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম। বিচার প্রশ্নেও আমাদের ঐক্য আছে, নির্বাচনের পর বিচার নিয়ে কোনো আপোষ হোক সেটা আমরা চাই না। আমাদের দেশের মানুষ ঐতিহাসিক কারণে আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে। উনারা আমাদের চিন্তাকে এপ্রিশিয়েট করেছেন। আমাদের জোটের প্রশ্নে তাদেরকে ইতিবাচক দেখেছি।'
সুলতান মোহাম্মদ জাকারিয়া আরও বলেন, 'আমরা প্রায় ১ ঘন্টার মতো আলোচনা করেছি। আমরা প্রায় উনাদের সাথে বসি। একটি উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে তাদের সাথে আমাদের পারস্পারিক সম্পর্ক উন্নয়নে কথা হয়েছে।'
