অগ্নিকাণ্ডের কবলে পড়া মার্কিন রণতরি ইরান বিরোধী অভিযানের মাঝপথেই ফিরছে বন্দরে
ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে নিয়োজিত মার্কিন বিমানবাহী রণতরি 'ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড' মিশন স্থগিত করে বন্দরে ফিরে যাচ্ছে। রণতরিটির লন্ড্রি সেকশনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত দুইজন নাবিক আহত হওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানা গেছে। তবে ওই নাবিকদের আঘাত গুরুতর নয় বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা জানান, রণতরি ফোর্ড বর্তমানে লোহিত সাগর থেকে গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের সুদা উপসাগরের দিকে যাত্রা করছে। এর আগে গত ফেব্রুয়ারির শেষদিকে লোহিত সাগরে যাওয়ার পথেও রণতরিটিকে সেখানে যাত্রাবিরতি করতে দেখা গিয়েছিল।
মার্কিন নৌবাহিনীর একজন মুখপাত্র রণতরিটির বর্তমান অবস্থা বা এর সঙ্গী গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ারগুলো ওই অঞ্চলে অবস্থান করবে কি না, সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অন্য একজন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ফোর্ডের 'ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ' লোহিত সাগরে তাদের নিয়মিত কার্যক্রম চালিয়ে যাবে।
১ লাখ টন ওজনের এই পারমাণবিক শক্তিচালিত বিশাল রণতরিটিতে ৪ হাজারেরও বেশি নাবিক অবস্থান করেন। যদিও মার্কিন সামরিক বাহিনী অগ্নিকাণ্ডের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে, তবে নিউইয়র্ক টাইমস এক প্রতিবেদনে বলেছে, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে নাবিকদের ৩০ ঘণ্টারও বেশি সময় লেগেছে। এই অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রায় ৬০০ নাবিক তাদের থাকার জায়গা হারিয়েছেন।
রণতরি ফোর্ড মূলত ভেনেজুয়েলায় মার্কিন অভিযানের সহায়তায় নিয়োজিত ছিল। সেখান থেকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এটিকে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েনের নির্দেশ দেন। গত বছরের জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার পর থেকে জাহাজটির মোতায়েনের সময়সীমা কয়েক দফায় বাড়ানো হয়েছে, যার ফলে এটি নির্ধারিত ছয় মাসের মেয়াদের চেয়েও অনেক বেশি সময় ধরে সমুদ্রে অবস্থান করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এযাবৎকালের সবচেয়ে ব্যয়বহুল যুদ্ধজাহাজ জেরাল্ড আর ফোর্ডের বহরে রয়েছে শক্তিশালী গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার এবং একটি আধুনিক বিমান বহর। এই বহরে এফ/এ-১৮ই ও এফ/এ-১৮এফ সুপার হর্নেট যুদ্ধবিমান, ই-২ডি আর্লি ওয়ার্নিং এয়ারক্রাফট, এমএইচ-৬০এস ও এমএইচ-৬০আর সি-হক হেলিকপ্টার এবং সি-২এ গ্রেহাউন্ড বিমান রয়েছে।
দীর্ঘ সময় সমুদ্রে অবস্থান নাবিকদের মনোবল কমিয়ে দেয় এবং তাদের পরিবারের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করে। গত মাসে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মার্কিন নৌবাহিনীও বিষয়টি স্বীকার করেছে। তবে দীর্ঘ মেয়াদে মোতায়েন থাকলেও নাবিকদের সহনশীলতা ও প্রস্তুতির প্রশংসা করেছে তারা। নৌবাহিনী বলেছে, 'পরিবার থেকে দীর্ঘ সময় দূরে থাকা যে বাস্তবিক অর্থে একটি ত্যাগ, তা নৌবাহিনীর নেতারা স্বীকার করেন।'
এদিকে গত জানুয়ারিতে ন্যাশনাল পাবলিক রেডিও (এনপিআর) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, রণতরি ফোর্ড শুরু থেকেই টয়লেটের প্লাম্বিং সমস্যায় ভুগছে, যা পুরো মিশন চলাকালে বারবার অকেজো হয়ে পড়েছে। নৌবাহিনী সেই সমস্যার কথা স্বীকার করে জানিয়েছে, জাহাজটিতে প্রায় ৬০ লাখ বার ফ্লাশ করার পর এমন সমস্যা দেখা দিয়েছে। তবে এর জন্য নাবিকদের অসচেতনতাকেই দায়ী করছে তারা।
রণতরিটির কমান্ডিং অফিসার ক্যাপ্টেন ডেভিড স্কারোসিকে উদ্ধৃত করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, 'অধিকাংশ ক্ষেত্রে সিস্টেমে এমন কিছু জিনিস ফ্লাশ করা হচ্ছে যা করা উচিত নয়। যদি নাবিকরা সঠিক নিয়ম মেনে চলেন, তবে সিস্টেমটি নির্ভরযোগ্যভাবেই কাজ করে।'
