যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির প্রতি সরকার শ্রদ্ধাশীল: রাশেদ আল তিতুমীর
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তির প্রতি সরকার শ্রদ্ধাশীল বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল তিতুমীর। তিনি বলেন, এই চুক্তির প্রতি সম্মান রেখে ধাপে ধাপে কনসালটেশন বা পরামর্শ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দুই দেশ পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছে। বিশেষ করে অর্থনীতির বহুমুখীকরণ, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনে কীভাবে যৌথভাবে কাজ করা যায়, সে বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বুধবার (৬ মে) সচিবালয়ে সফররত যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডন লিঞ্চের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
রাশেদ আল তিতুমীর জানান, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়াতে এবং রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনা চলছে, যার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও সংলাপ অব্যাহত রয়েছে।
বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, "বাংলাদেশ কোনো দেশের সঙ্গে এক্সক্লুসিভ সম্পর্কের পক্ষে নয়; আমরা ইনক্লুসিভ সম্পর্ক চাই। বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে আমরা যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, জাপান, চীনসহ সব দেশের সঙ্গেই সম্পৃক্ততা বাড়াচ্ছি।"
তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ঔষধ শিল্পকে অত্যন্ত সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি, উদ্ভাবন এবং কৃষি ও শিক্ষা খাতের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দেশের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়ে কথা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রশাসনিক পরিবর্তন—বিশেষ করে উন্নয়ন সহযোগিতা সংস্থা ইউএসএআইডির কাঠামোগত সংস্কার—বিবেচনায় নিয়ে নতুন ধরনের অর্থনৈতিক সম্পর্কের মেকানিজম তৈরির প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
বৈঠকে শ্রম আইন সংস্কার এবং কারখানার মানোন্নয়নের বিষয়টি আলোচনায় উঠে এসেছে। সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, দেশীয় উদ্যোক্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে এ খাতে "দৃশ্যমান অগ্রগতি" অর্জিত হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে।
উপদেষ্টা জানান, আন্তর্জাতিক চুক্তি মানা একটি প্রতিষ্ঠিত নীতি হলেও, সেই চুক্তির ভেতরে থাকা কনসালটেশন প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর করে বাংলাদেশের স্বার্থ নিশ্চিত করাই এখন প্রধান লক্ষ্য।
এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের বিদ্যমান প্রধান রপ্তানি পণ্যের বাইরে নতুন পণ্যের বাজার সৃষ্টি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে। বৈঠকে ব্রেন্ডন লিঞ্চের নেতৃত্বে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধিদলের ১০ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
