যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ইরানের
ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নতুন সর্বোচ্চ নেতা মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে পাঠানো যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি এও বলেছেন, আগে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে 'হাঁটু গেড়ে বসতে বাধ্য' করতে হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা বলেন, দুটি মধ্যস্থতাকারী দেশ ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে "উত্তেজনা কমানো বা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি" সংক্রান্ত প্রস্তাব পাঠিয়েছে। তবে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি।
এই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম বৈদেশিক নীতি বৈঠকে আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি বলেছেন, "যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে হাঁটু গেড়ে বসতে বাধ্য করা, তাদের পরাজয় স্বীকার করানো এবং ক্ষতিপূরণ আদায় না হওয়া পর্যন্ত শান্তির জন্য এটি সঠিক সময় নয়।"
গত সপ্তাহে বাবা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির স্থলাভিষিক্ত হওয়ার পর এখনো প্রকাশ্যে আসেননি মোজতবা খামেনি। প্রথম বৈদেশিক নীতি বিষয়ক বৈঠকে তিনি সরাসরি নাকি ভার্চুয়ালি যোগ দিয়েছিলেন, সেটিও স্পষ্ট হওয়া যায়নি।
ইরান যুদ্ধ তৃতীয় সপ্তাহে গড়িয়েছে। এ যুদ্ধে এখন পর্যন্ত অন্তত দুই হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। এ যুদ্ধ শেষ হওয়ারও কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
যুদ্ধ শুরুর পর হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় ইরান। বিশ্বব্যাপী প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররা গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ পুনরায় চালু করতে সহায়তা করার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আহ্বানও প্রত্যাখ্যান করেছে।
মঙ্গলবার সংযুক্ত আরব আমিরাতে জ্বালানি স্থাপনায় ইরানের নতুন করে হামলার পর তেলের দাম প্রায় ২ শতাংশ বেড়েছে। আর যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বেড়েছে প্রায় ৪৫ শতাংশ। এতে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি আবারও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
