ভারত মহাসাগরে ৫০ লাখ বছর বয়সি বিশ্বের বৃহত্তম তিমির গোরস্তান আবিষ্কার!
দক্ষিণ-পূর্ব ভারত মহাসাগরে বিশ্বের বৃহত্তম তিমির 'গোরস্তানের' সন্ধান মিলেছে। দৈর্ঘ্যে এটি প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার।
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার গভীরে এই গোরস্তানের অবস্থান। জায়গাটির নাম ডায়ামেন্টিনা ফ্র্যাকচার জোন। সমুদ্রের তলদেশে গভীর খাদ ও গিরিশিরায় ঘেরা দুর্গম এলাকা এটি।
অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিমে সমুদ্রের তলদেশে একটি সাবমার্সিবল-এ (ডুবোজাহাজ) করে অনুসন্ধান চালানোর সময় গবেষকরা এই তিমির গোরস্তান আবিষ্কার করেন। এখানে প্রায় ৫০০টি আলাদা তিমির দেহাবশেষ রয়েছে।
তবে বিজ্ঞানীদের সবচেয়ে বেশি রোমাঞ্চিত করেছে এই দেহাবশেষগুলোর বয়স। এখানকার কিছু কিছু কঙ্কাল প্রায় ৫৩ লাখ বছরের পুরোনো!
চীন, ইতালি ও নিউজিল্যান্ডের একদল গবেষক সমুদ্রতলের এই মৃতপুরী আবিষ্কার করেছেন। বিজ্ঞানবিষয়ক জার্নাল নেচার-এর তথ্যমতে, এই গোরস্তানটি এমন সব অজানা জীব ও প্রজাতিতে কিলবিল করছে, যা হয়তো 'বিজ্ঞানের দুনিয়ায় একেবারেই নতুন'।
এই গবেষণাপত্রের অন্যতম লেখক, চাইনিজ একাডেমি অভ সায়েন্সেস-এর বিজ্ঞানী শিয়াওতং পেং বলেন, 'এত বিশাল মাপের একটা মৃত্যুপুরী আবিষ্কার করাটা ছিল পুরোপুরি অভাবনীয়। এর বিস্তার, গভীরতা ও বয়সের ব্যাপ্তি—সবকিছুই আমাদের কল্পনার সীমা ছাড়িয়ে গেছে।'
এই সাইটে মোট ৩২ বার ডুব দিয়েছেন অভিযাত্রীরা। ৪৮৫টি তিমির জীবাশ্ম এবং নতুন করে জমতে থাকা দেহাবশেষের স্তূপ থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছেন তারা। সেখানে যে অমূল্য ভান্ডারের খোঁজ মিলেছে, তার মধ্যে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া এক প্রজাতির তিমির কঙ্কালও রয়েছে।
এই গোরস্তানে পাওয়া জীবাশ্ম হওয়া মাথার খুলিগুলোর মধ্যে একটি হলো টেরোসিটাস বেঙ্গুয়েলি। ঠোঁটওয়ালা এই তিমির খুলির বয়স ৫৩ লাখ বছর।
তবে এখানকার সবচেয়ে বড় আবিষ্কারটি হলো একটি অ্যান্টার্কটিক মিঙ্কি তিমির দেহাবশেষ, যা লম্বায় প্রায় পাঁচ মিটার।
এছাড়া গবেষক দলটি সম্পূর্ণ নতুন একটি প্রজাতিরও সন্ধান পেয়েছে। আবিষ্কারের স্থানের নামানুসারে সেটির নামকরণ করা হয়েছে টেরোসিটাস ডায়ামেন্টিনি।
তিমির এই সুবিশাল মৃতদেহের স্তূপকে ঘিরে সমুদ্রতলে গড়ে উঠেছে এক অদ্ভুত ইকোসিস্টেম। জেলিফিশ, নানা ধরনের কৃমি ও ক্রাস্টাশিয়ান জাতীয় প্রাণীরা এই মৃতদেহগুলোর ওপর নির্ভর করেই সেখানে বেঁচে আছে।
ক্যালভার্ট মেরিন মিউজিয়ামের বিজ্ঞানী স্টিফেন জে গডফ্রে 'নেচার'-এ লিখেছেন, 'পেং ও তার সহকর্মীদের এই বিশাল জীবাশ্ম-গোরস্তানের সন্ধান পাওয়াটা আক্ষরিক অর্থেই এক অনন্য আবিষ্কার।'
তিনি আরও লেখেন, 'জায়গাটি ভীষণ দুর্গম হলেও, এখানে আরও অনেক চমকপ্রদ জিনিস লুকিয়ে থাকার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। আর কোনো সন্দেহ নেই যে, এই আবিষ্কার এ ধরনের পরিবেশে আরও বেশি সাবমার্সিবল অভিযানের অনুপ্রেরণা জোগাবে।
'পেং এবং তার দলের গবেষণাপত্রটি আমাকে কোনো এক মহাকাব্যিক মুভি সিরিজের প্রথম ট্রেলারের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। আশা করি, সামনে এমন আরও অনেক ব্লকবাস্টার আবিষ্কার আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে।'
