Skip to main content
  • অর্থনীতি
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • খেলা
  • বিনোদন
  • ফিচার
  • ইজেল
  • মতামত
  • অফবিট
  • সারাদেশ
  • কর্পোরেট
  • চাকরি
  • প্রবাস
  • English
The Business Standard বাংলা

সাগরের নীল আর্তনাদ এবং এক অপরাজেয় বৃদ্ধের অনন্ত লড়াই

অস্ট্রেলিয়ার বিখ্যাত ‘গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ’-এর অগভীর উষ্ণ লোনাপানিতে জীবনের প্রথমবার স্কুবা গিয়ার পরে ডুব দিয়েছিলেন তিনি। সেই অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে আজও অ্যাটেনবরোর চোখেমুখে খেলে যায় এক অদ্ভুত দ্যুতি।
সাগরের নীল আর্তনাদ এবং এক অপরাজেয় বৃদ্ধের অনন্ত লড়াই

ইজেল

সৈয়দ মূসা রেজা
19 May, 2026, 08:30 pm
Last modified: 19 May, 2026, 08:32 pm

Related News

  • তাঁর অনন্য জীবনের রোমাঞ্চকর মহাকাব্য
  • এক শ পূর্ণ করলেন ডেভিড 
  • এক দিনের স্বর্গপাখি
  • বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্র—মিঠাপানিতে ঢুকছে সাগরের নোনাজল, বিপন্ন উপকূলীয় মানুষের জীবন
  • মৃণাল সেনের সিনেমা: হ্রস্বস্বরের কথকতা

সাগরের নীল আর্তনাদ এবং এক অপরাজেয় বৃদ্ধের অনন্ত লড়াই

অস্ট্রেলিয়ার বিখ্যাত ‘গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ’-এর অগভীর উষ্ণ লোনাপানিতে জীবনের প্রথমবার স্কুবা গিয়ার পরে ডুব দিয়েছিলেন তিনি। সেই অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে আজও অ্যাটেনবরোর চোখেমুখে খেলে যায় এক অদ্ভুত দ্যুতি।
সৈয়দ মূসা রেজা
19 May, 2026, 08:30 pm
Last modified: 19 May, 2026, 08:32 pm

সাত দশক ধরে পৃথিবীর এক মেরু থেকে অন্য মেরুতে অক্লান্তভাবে ছুটে বেড়িয়েছেন তিনি। ক্যামেরার চোখে তুলে ধরেছেন এই ধরণির রূপ-রস আর অন্তহীন বৈচিত্র্যের এক মায়াবী জগৎ। একশ বছর পূর্ণ করে স্যার ডেভিড অ্যাটেনবরো কেবল একজন প্রামাণ্যচিত্র নির্মাতা নন, তিনি প্রকৃতির এক জীবন্ত কিংবদন্তি। তাঁর সেই জাদুকরী গম্ভীর কণ্ঠস্বর শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে দুর্গম কোনো অরণ্য কিংবা সমুদ্রের অতল নীল জলরাশি। 

'ওশান উইথ ডেভিড অ্যাটেনবারো' ডকুমেন্টারির একটি দৃশ্য

কিন্তু ক্যারিয়ারের এই গোধূলিবেলায় এসে কেন তিনি বুকভরা হাহাকার নিয়ে সাগরের ধ্বংসলীলা দেখাতে চাইলেন? ন্যাশনাল জিওগ্রাফির ব্রায়ান রেজনিকের সাথে দীর্ঘ আলাপচারিতায় উঠে এল সেই ইতিহাস। এই আলাপচারিতা হয়েছে গত বছর। জীবনসায়াহ্নে দাঁড়িয়ে এই কিংবদন্তি যেন এক নতুন যুদ্ধের ডাক দিচ্ছেন, যার লক্ষ্য হলো আমাদের প্রাণদায়ী মহাসাগরকে বাঁচানো। অসংখ্য নাটকীয় আর রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতায় ঠাসা তাঁর এই সুদীর্ঘ পথচলা; কিন্তু একটি স্মৃতি আজও সবকিছু ছাপিয়ে আজও উজ্জ্বল হয়ে আছে।

স্মৃতির জানালা খুলে এই মানুষটি ফিরে যান ১৯৫৭ সালে। তখন তাঁর বয়স কেবল ত্রিশের কোঠায়, শরীরের রক্তে অজানাকে জানার তীব্র নেশা। অস্ট্রেলিয়ার বিখ্যাত 'গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ'-এর অগভীর উষ্ণ লোনাপানিতে জীবনের প্রথমবার স্কুবা গিয়ার পরে ডুব দিয়েছিলেন তিনি। সেই অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে আজও অ্যাটেনবরোর চোখেমুখে খেলে যায় এক অদ্ভুত দ্যুতি। ব্রায়ান রেজনিককে তিনি বলছিলেন, 'সেটা ছিল আমার ইন্দ্রিয়ের ওপর এক প্রচণ্ড বিস্ফোরণ। প্রবাল প্রাচীরের ডালপালার মাঝে হাজারো রঙের লাখো ছোট্ট মাছের ছোটাছুটি, একেকটি প্রবালের বিচিত্র সব গঠন—সব মিলিয়ে সমুদ্রের তলদেশের প্রাণের যে জটিল ও সূক্ষ্ম বুনন, তা আমাকে নতুন করে দুনিয়াটাকে দেখতে শিখিয়েছিল। সমুদ্রের সেই বিস্ময়কর জগৎটি আমার সামনে জীবনের এক নতুন সমীকরণ খুলে দিয়েছিল। আমি অবাক হয়ে ভাবছিলাম, পানির নিচেও এত প্রাণ, এত আয়োজন সম্ভব! সেই স্মৃতি আজও আমার মনে সতেজ হয়ে আছে।'

'ওশান উইথ ডেভিড অ্যাটেনবারো' ডকুমেন্টারিতে সমুদ্রের নিচের জীব প্রকৃতি

তবে সেই রঙিন দিনগুলো এখন কেবলই ধূসর ইতিহাস। মানুষের তৈরি বৈশ্বিক উষ্ণায়নের করাল গ্রাসে আজ সাগরের সেই মায়াবী প্রবালগুলো প্রাণ হারিয়ে সাদা হয়ে যাচ্ছে। ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের নতুন বিশেষ তথ্যচিত্র 'ওশেন উইথ ডেভিড অ্যাটেনবরো'তে তিনি তাঁর দীর্ঘ জীবনে দেখা সেই বিশাল ক্ষতির খতিয়ান অত্যন্ত নির্মমভাবে তুলে ধরেছেন। 

এই তথ্যচিত্রে শুধু সমুদ্রের সৌন্দর্য নেই, বরং রয়েছে যন্ত্রদানবের তৎপরতায় প্রকৃতির নিষ্ঠুর মৃত্যুর জীবন্ত চিত্র। সমুদ্রের তলদেশে কার্বন ধরে রাখা ঘাসের বনগুলো বা 'সি-গ্রাস মিডো' কীভাবে বাণিজ্যিক মাছ ধরার বিশাল ট্রলারের নিচে পিষ্ট হচ্ছে, সেই করুণ দৃশ্য দেখে যে কারও বুক কেঁপে উঠবে। ব্রায়ান রেজনিকের সাথে আলাপচারিতায় উঠে আসে কীভাবে আধুনিক প্রযুক্তির দোহাই দিয়ে সাগরের গর্ভ তছনছ করা হচ্ছে। মানুষের সীমাহীন লোভ কীভাবে একটি সাজানো বাগানকে মরুভূমি বানিয়ে দিচ্ছে, তা এই ছবিতে ফুটে উঠেছে।

বড় বড় ট্রলারের নিচে চাকার মতো ভারী লোহার যন্ত্র বসিয়ে সমুদ্রের তলদেশ চষে ফেলা হচ্ছে, যাকে গাণিতিক পরিভাষায় বা কারিগরি ভাষায় 'বটম ট্রলিং' বলা হয়। এতে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে লক্ষ বছরের বাস্তুসংস্থান বা পরিবেশব্যবস্থা। হাজার হাজার মাছ জালে আটকে ছটফট করতে করতে যখন জাহাজে তোলা হচ্ছে, তখন অ্যাটেনবরোর কণ্ঠে ঝরে পড়ে তীব্র ঘৃণা আর ক্ষোভ। তিনি অকপটে বলেন, 'ধনী দেশগুলোর বিশাল সব জাহাজ আজ উপকূলীয় অঞ্চলের সাধারণ মানুষের মুখের গ্রাস কেড়ে নিচ্ছে। 
বছরের পর বছর ধরে যে দরিদ্র মানুষগুলো এই মাছের ওপর নির্ভর করে বেঁচে ছিল, তাদের আজ ক্ষুধার্ত রাখা হচ্ছে। এটা সাগরে চলমান এক আধুনিক উপনিবেশবাদ বা মডার্ন কলোনিয়ালিজম ছাড়া আর কিছুই নয়।' অ্যাটেনবরো এখানে সরাসরি আঙুল তুলেছেন সেই সব দেশের দিকে, যারা কেবল মুনাফার লোভে অন্যের প্রাকৃতিক সম্পদ লুট করছে এবং দীর্ঘস্থায়ী পানিপথ ও বাস্তুসংস্থান নষ্ট করছে।

'ওশান উইথ ডেভিড অ্যাটেনবারো' ডকুমেন্টারিতে সমুদ্রের নিচের জীব প্রকৃতি

আলাপচারিতার একপর্যায়ে যখন তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো, তাঁর আগের কাজগুলোর তুলনায় এই নতুন ছবিটি কেন এত বেশি প্রাণীমৃত্যুর বীভৎসতা আর ধ্বংসের গল্পে ভরা? অ্যাটেনবরোর উত্তর ছিল অত্যন্ত গভীর এবং চিন্তাশীল। তিনি মনে করেন, ডাঙার রেইনফরেস্ট বা জঙ্গল কেটে ফেললে তা দূর থেকে দেখা যায়, সাধারণ মানুষের নজরে পড়ে এবং তারা প্রতিবাদ করে। কিন্তু সমুদ্রের তলদেশে ট্রলার চালিয়ে যে বীভৎস ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হচ্ছে, তা মানুষের চোখের আড়ালে থেকে যাচ্ছে। সমুদ্রের উপরিভাগ শান্ত থাকলেও ভেতরে যে কী তাণ্ডব চলছে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারছে না। নীল পানি সেই হাহাকার আর আর্তনাদকে লোকচক্ষুর অন্তরালে ঢেকে রাখে। এই অদেখা সত্যকে মানুষের সামনে তুলে আনাই এখন তাঁর মূল লক্ষ্য। তিনি চান মানুষ জানুক, তাদের অজান্তেই নীল জগতের কী ভয়ানক ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে। এই ধ্বংসলীলা বন্ধ না হলে একদিন সমুদ্র মাছশূন্য হয়ে পড়বে।

অ্যাটেনবরো স্পষ্ট করে বলেন, 'আমরা কিন্তু ঢালাওভাবে মাছ ধরার বিরুদ্ধে কথা বলছি না। মানুষ আদিকাল থেকেই সমুদ্র থেকে খাবার সংগ্রহ করে আসছে এবং এর মধ্যে একটি সুস্থ জৈবিক ভারসাম্য আছে। অনেক জেলেরাই আজও খুব চমৎকার ও টেকসই পদ্ধতিতে মাছ ধরে। কিন্তু কিছু বিশেষ পদ্ধতিতে বা বিশেষ জায়গায় যেভাবে বড় বড় কোম্পানি মাছ ধরছে, তা পুরো সমুদ্রের ভবিষ্যতের জন্য এক বড় অভিশাপ। আমরা আমাদের ছবির মাধ্যমে সেই ধ্বংসাত্মক পদ্ধতি আর সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকা রক্ষার পার্থক্যটা পাঠকের মনে গেঁথে দিতে চেয়েছি।' ব্রায়ান রেজনিককে তিনি জানান, মানুষ যদি সচেতন হয় এবং জানে যে তার পাতে আসা মাছটি কোন উপায়ে ধরা হয়েছে, তবেই এই ধ্বংসলীলা থামানো সম্ভব। এটি কোনো ব্যক্তিগত আবেগ নয়, বরং আগামী প্রজন্মের জন্য পৃথিবীকে বাসযোগ্য রাখার এক চরম আর্তি।

ইন্দোনেশিয়ার রাজা আমপাটের প্রবাল প্রাচীর

সাক্ষাৎকারে রেজনিক যখন জানতে চান, অ্যাটেনবরোর বর্ণনায় যে রাগের সুর পাওয়া যাচ্ছে, তাকে কি সত্যিই 'ক্রোধ' বলা চলে? দীর্ঘশ্বাস ফেলে এই প্রবীণ মানুষটি বলেন, 'প্রকৃতিকে এভাবে নিষ্প্রাণ হয়ে যেতে দেখলে আমি সত্যিই বড় মর্মাহত হই। আমি আশা করি, আমার সেই যন্ত্রণার আবেগ দর্শকদের মনেও নাড়া দেবে।' 

যারা জলবায়ু পরিবর্তন বা প্রকৃতির এই বিপর্যয় দেখে হতাশায় ভুগছেন, তাদের জন্য তাঁর পরামর্শ খুব সাধারণ কিন্তু অত্যন্ত শক্তিশালী। তিনি মনে করেন, এখনো সবকিছু শেষ হয়ে যায়নি। প্রকৃতি হলো মানুষের সবচেয়ে বড় এবং বিশ্বস্ত মিত্র। আমরা যদি তাকে একটুখানি সুযোগ দিই, সে ঠিকই অলৌকিক উপায়ে নিজেকে সারিয়ে তোলে। প্রকৃতি জানে কীভাবে ক্ষতবিক্ষত বুক নিয়ে আবারও জেগে উঠতে হয়। আমাদের শুধু সেই সময়টুকু দিতে হবে। তিনি পরিষ্কার করে বলেন, আমাদের আশা হারানো উচিত নয়। মানবজাতির সীমাহীন ভোগবিলাস, জলবায়ু পরিবর্তনের দ্রুত হার আর প্রাকৃতিক নিধনযজ্ঞের বিশালতা দেখে মাঝেমধ্যে হাল ছেড়ে দিতে ইচ্ছে হতে পারে। কিন্তু মনে রাখতে হবে, প্রকৃতিই আমাদের সবচেয়ে বড় বন্ধু। যেখানেই আমরা প্রকৃতিকে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ করে দিয়েছি, প্রকৃতি সেখানেই নিজের রূপ ফিরে পেয়েছে; আর সেই পুনরুদ্ধারের সুফল হিসেবে আমাদের নিজেদের জীবনও হয়ে উঠেছে আরও উন্নত ও সমৃদ্ধ।

সারা বিশ্বে তৈরি হওয়া সামুদ্রিক সংরক্ষিত এলাকাগুলো বা 'মেরিন প্রোটেক্টেড এরিয়াস' এর বড় প্রমাণ। মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানেই সেখানে কচ্ছপ, হাঙর বা টুনার মতো প্রাণীরা আবার ঝাঁকে ঝাঁকে ফিরে এসেছে। অ্যাটেনবরো বিশ্বাস করেন, এতে যেমন প্রকৃতির লাভ, তেমনি উপকূলের সাধারণ মানুষেরও। উভয় ক্ষেত্রে জীবন উন্নত হয়। কারণ, প্রকৃতি সুস্থ থাকলে সামুদ্রিক প্রাণীরা বংশবৃদ্ধি করবে। এর সুফল সবাই ভোগ করবে। 
এই তৎপরতা কেবল ভবিষ্যতের জন্য ত্যাগ স্বীকার নয়। বরং বর্তমানের জন্যও এক বড় বিজয়। আমাদের কেবল তাৎক্ষণিক মুনাফার লোভ ছেড়ে ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করতে হবে। আজ আমরা যা করছি, তার প্রভাব পড়বে আগামী ১০০ বছর পর। তাই সিদ্ধান্ত নিতে হবে এখনই।

মেক্সিকোর ক্যালিফোর্নিয়া উপসাগরে শাবকসহ একটি মা নীল তিমি।

অ্যাটেনবরোর কথায়, আমাদের আশা হারানো চলবে না। মানবজাতির সীমাহীন ভোগবিলাস, জলবায়ু পরিবর্তনের দ্রুত হার আর প্রকৃতি বিনাশের ব্যাপকতা দেখে মনে হতে পারে যে সব শেষ হয়ে গেছে, হাল ছেড়ে দেওয়াই যেন স্বাভাবিক। কিন্তু মনে রাখতে হবে, প্রকৃতিই আমাদের সবচেয়ে বড় সহযোদ্ধা। যেখানেই আমরা প্রকৃতিকে পুনরুদ্ধারের সুযোগ দিয়েছি, সেখানেই সে ঘুরে দাঁড়িয়েছে; আর প্রকৃতির সেই পুনর্জাগরণের ফলে আমাদের নিজেদের জীবনও হয়ে উঠেছে আরও সুন্দর ও সার্থক।

এত বয়স হওয়ার পরও কেন তিনি কাজ থামিয়ে দিচ্ছেন না? এই প্রশ্নের উত্তরে অ্যাটেনবরোর মুখে একচিলতে হাসি দেখা যায়। তিনি জানান, এখনো তাঁর সাথে কাজ করতে চাওয়া একঝাঁক সৃজনশীল মানুষ তাঁকে কাজের ডাক দেয়, আর তিনিও চলচ্চিত্র নির্মাণের এই সৃজনশীল প্রক্রিয়াটি বেশ উপভোগ করেন। তবে এর চেয়েও বড় তাড়না হলো, বর্তমান আধুনিক সমাজ আজ প্রকৃতি থেকে অনেক বেশি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। শহরকেন্দ্রিক এই সভ্যতায় মানুষ প্রকৃতির সূক্ষ্ম পরিবর্তনগুলো আর টের পায় না। তারা ভুলে গেছে যে তাদের অস্তিত্ব এই প্রকৃতির সাথেই জড়িয়ে আছে। তাই বিজ্ঞানের জটিল তত্ত্বের চেয়ে গল্পের মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে পৌঁছানো অনেক বেশি জরুরি বলে তিনি মনে করেন। মানুষ তথ্য ভুলে যায়, কিন্তু গল্প মনে রাখে।

অ্যাটেনবরো বিশ্বাস করেন, মানুষ জন্মগতভাবেই গল্পপ্রিয় প্রাণী। গল্পই মানুষের মাঝে একতা তৈরি করে। পাশাপাশি বিশ্বকে বোঝার প্রেক্ষাপট তৈরি করে দেয়। নিজের দীর্ঘ সাত দশকের কাজ নিয়ে তাঁর প্রত্যাশা খুব সাধারণ। তিনি আশা করেন, বিংশ শতাব্দী আর একবিংশ শতাব্দীর এই ক্রান্তিকালে পৃথিবীটা কেমন ছিল এবং আমরা সেই জগৎকে কীভাবে বুঝতাম, তাঁর কাজগুলো হয়তো সেই ইতিহাসের অনন্য দলিল হয়ে থাকবে। হয়তো কোনো এক সুদূর ভবিষ্যতে মানুষ তাঁর এই কাজগুলো দেখে উপলব্ধি করবে, আমাদের নিজেদের প্রজাতিকে বাঁচিয়ে রাখার জন্যই এই ধরণিকে বাঁচিয়ে রাখা কতটা অনিবার্য ছিল। তিনি চান, তাঁর কাজগুলো যেন কেবল বিনোদন না হয়ে সচেতনতার বীজও বুনে দেয়।

কিংবদন্তি প্রকৃতিবিদ স্যার ডেভিড অ্যাটেনবরো।

তিনি বলেন, আমি আশা করি, 'লাইফ অন আর্থ' থেকে শুরু করে বর্তমানে আমি যে চলচ্চিত্রগুলো নির্মাণ করছি—এই পুরো কাজকে বিংশ শতাব্দীর শেষ এবং একবিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকের প্রাকৃতিক জগতের একটি প্রামাণ্য দলিল হিসেবে গণ্য করা হবে; যেখানে ফুটে উঠবে সেই সময়ে প্রকৃতি সম্পর্কে আমাদের উপলব্ধির চিত্র। সম্ভবত কোনো একদিন একে মানবজাতি ও প্রকৃতির মাঝে এক নতুন সম্পর্কের সূচনালগ্ন হিসেবেও দেখা হবে—এমন এক সময়, যখন আমরা বুঝতে পেরেছিলাম যে আমাদের নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্যই প্রাকৃতিক ভারসাম্য অটুট থাকা অপরিহার্য।

'ওশেন উইথ ডেভিড অ্যাটেনবরো' কেবল একটি চলচ্চিত্র নয়, এটি সাগরের গভীর থেকে আসা এক বৃদ্ধের শেষ আর্তনাদ এবং একই সাথে এক নতুন আশার বাণী। 

জীবনের এই শেষ লগ্নে এসেও অ্যাটেনবরো আজও স্বপ্ন দেখেন, অস্ট্রেলিয়ার সেই স্মৃতিবিজড়িত দ্বীপটি হয়তো একদিন আবার তার পুরোনো প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে পাবে। নীল পানির ঢেউগুলো আবারও মেতে উঠবে প্রাণের উৎসবে। মানুষের শুভবুদ্ধি আর সম্মিলিত সচেতনতাই পারে সাগরের এই রোদন থামাতে। এই পরম আশাটুকুই ডেভিড অ্যাটেনবরোকে আজও লড়াকু করে রেখেছে ৯৯ বছর বয়সেও। তিনি মনে করেন, প্রকৃতি ধ্বংস করা মানুষের কাজ নয়, বরং তাকে রক্ষা করাই আমাদের শ্রেষ্ঠ পরিচয়। এই সংগ্রামের কোনো শেষ নেই, যত দিন প্রাণ আছে, তত দিন প্রকৃতিকে আগলে রাখতে হবে।

Related Topics

টপ নিউজ

ইজেল / ডেভিড অ্যাটেনবরো / সাংবাদিক / প্রকৃতি / পাখি / সমুদ্র / সামুদ্রিক প্রাণী / সামুদ্রিক পরিবেশ

Comments

While most comments will be posted if they are on-topic and not abusive, moderation decisions are subjective. Published comments are readers’ own views and The Business Standard does not endorse any of the readers’ comments.

MOST VIEWED

  • ইউরোফাইটার টাইফুন ও জে-১০সি যুদ্ধবিমান। ছবি:মিলিটারি ওয়াচ ম্যাগাজিন
    কাতারে যৌথ মহড়ায় ইউরোফাইটারের বিরুদ্ধে বড় ব্যবধানে জেতে চীনের জে-১০সি
  • ছবি: দ্য টেলিগ্রাফ
    'চিকেনস নেক' করিডরের কাছে মহাসড়কের কিছু গুরুত্বপূর্ণ অংশের নিয়ন্ত্রণ নিচ্ছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার
  • ছবি: বিবিসি
    বেঁচে থাকার তাগিদে সন্তান বিক্রি: কঠিন সিদ্ধান্তের মুখোমুখি আফগান পিতারা
  • ইলাসট্রেশন: টিবিএস
    ‘অ্যাড মানি’তে কার্ড ও এমএফএস অ্যাকাউন্টের নাম একই রাখা বাধ্যতামূলক করছে বাংলাদেশ ব্যাংক
  • ছবি: সৌজন্যে প্রাপ্ত
    আজ বাজারে আসছে নতুন ৫ টাকার নোট, থাকছে ‘গ্রাফিতি-২০২৪’ ও ‘তারা মসজিদ’; মুদ্রা সংগ্রাহকদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা
  • মোটরযান নিয়ন্ত্রণে রাখছে এআই ক্যামেরা, কিন্তু ঢাকার বেপরোয়া অটোরিকশা বাগে আনবে কে?
    মোটরযান নিয়ন্ত্রণে রাখছে এআই ক্যামেরা, কিন্তু ঢাকার বেপরোয়া অটোরিকশা বাগে আনবে কে?

Related News

  • তাঁর অনন্য জীবনের রোমাঞ্চকর মহাকাব্য
  • এক শ পূর্ণ করলেন ডেভিড 
  • এক দিনের স্বর্গপাখি
  • বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্র—মিঠাপানিতে ঢুকছে সাগরের নোনাজল, বিপন্ন উপকূলীয় মানুষের জীবন
  • মৃণাল সেনের সিনেমা: হ্রস্বস্বরের কথকতা

Most Read

1
ইউরোফাইটার টাইফুন ও জে-১০সি যুদ্ধবিমান। ছবি:মিলিটারি ওয়াচ ম্যাগাজিন
আন্তর্জাতিক

কাতারে যৌথ মহড়ায় ইউরোফাইটারের বিরুদ্ধে বড় ব্যবধানে জেতে চীনের জে-১০সি

2
ছবি: দ্য টেলিগ্রাফ
আন্তর্জাতিক

'চিকেনস নেক' করিডরের কাছে মহাসড়কের কিছু গুরুত্বপূর্ণ অংশের নিয়ন্ত্রণ নিচ্ছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার

3
ছবি: বিবিসি
আন্তর্জাতিক

বেঁচে থাকার তাগিদে সন্তান বিক্রি: কঠিন সিদ্ধান্তের মুখোমুখি আফগান পিতারা

4
ইলাসট্রেশন: টিবিএস
অর্থনীতি

‘অ্যাড মানি’তে কার্ড ও এমএফএস অ্যাকাউন্টের নাম একই রাখা বাধ্যতামূলক করছে বাংলাদেশ ব্যাংক

5
ছবি: সৌজন্যে প্রাপ্ত
অর্থনীতি

আজ বাজারে আসছে নতুন ৫ টাকার নোট, থাকছে ‘গ্রাফিতি-২০২৪’ ও ‘তারা মসজিদ’; মুদ্রা সংগ্রাহকদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা

6
মোটরযান নিয়ন্ত্রণে রাখছে এআই ক্যামেরা, কিন্তু ঢাকার বেপরোয়া অটোরিকশা বাগে আনবে কে?
বাংলাদেশ

মোটরযান নিয়ন্ত্রণে রাখছে এআই ক্যামেরা, কিন্তু ঢাকার বেপরোয়া অটোরিকশা বাগে আনবে কে?

The Business Standard
Top

Contact Us

The Business Standard

Main Office -4/A, Eskaton Garden, Dhaka- 1000

Phone: +8801847 416158 - 59

Send Opinion articles to - oped.tbs@gmail.com

For advertisement- sales@tbsnews.net

Copyright © 2022 THE BUSINESS STANDARD All rights reserved. Technical Partner: RSI Lab