‘লজ্জাজনক’: ফাঁস হওয়া ইরান যুদ্ধবিরতির শর্তগুলোকে ভুয়া দাবি করলেন ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্তাবলীর প্রতিবেদন নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
শুক্রবার ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, প্রকাশিত শর্তগুলো 'ভুয়া খবর' এবং এগুলোর সঙ্গে লিখিতভাবে সম্মত হওয়া প্রকৃত শর্তগুলোর 'কোনো সম্পর্কই নেই'।
'এরা অত্যন্ত অসৎ মানুষ। তাদের সঙ্গে সৎ বিশ্বাসের ভিত্তিতে কোনো সমঝোতা করা সম্ভব নয়', বলেন ট্রাম্প।
ট্রাম্প বৃহস্পতিবার বলেছিলেন, একটি চুক্তি 'অনুমোদিত' হয়েছে এবং কয়েক দিনের মধ্যেই আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর হতে পারে। তবে তার সর্বশেষ মন্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে সম্ভাব্য অগ্রগতি এখনও অনিশ্চিত ও নড়বড়ে অবস্থায় রয়েছে।
ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ-তে প্রকাশিত প্রতিবেদনে চুক্তির সাতটি মূল বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদনটি থেকে বোঝা যায়, দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতার পথে যেসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এতদিন বাধা হয়ে ছিল, সেগুলোর ক্ষেত্রে ইরান প্রায় কোনো ছাড়ই দেয়নি। যদিও এপ্রিলের শুরুতে যুদ্ধবিরতির জন্য একটি প্রাথমিক সমঝোতা হয়েছিল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন কোনো সমঝোতা হয়নি। শুধু বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের ৬০ দিন পর নতুন পারমাণবিক আলোচনা শুরু হবে।
একইভাবে, ইরান হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ ছাড়ার ব্যাপারেও কোনো সম্মতি দেয়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রাথমিক চুক্তিটি কেবল ওই জলপথে স্বাভাবিক নৌচলাচল ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সঙ্গে সম্পর্কিত। এ বিষয়ে ওমানের সঙ্গে আলোচনা করবে তেহরান।
এছাড়া বলা হয়েছে, চুক্তি স্বাক্ষরের পর ইরানের জব্দকৃত সম্পদের একটি অংশ মুক্ত করা হবে। তবে বাকি সম্পদ ছাড়, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং যুদ্ধজনিত ক্ষতিপূরণ নিয়ে পরবর্তীতে আলোচনা হবে।
প্রতিবেদনটিতে আরও দাবি করা হয়, যুক্তরাষ্ট্র লেবাননে ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযান ও আগ্রাসন বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ট্রাম্প এবং তার শীর্ষ কর্মকর্তারা কখনো ইরানকে হুমকি দিয়েছেন, আবার কখনো বলেছেন, একটি চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছানো গেছে।
এ সপ্তাহের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পরপর দুই দিন হামলা-পাল্টা হামলা চালায়। বৃহস্পতিবার ট্রাম্প ঘোষণা করেন, কূটনৈতিক অগ্রগতির কারণে পরিকল্পিত তৃতীয় দিনের হামলা স্থগিত করা হয়েছে।
তবে কয়েক ঘণ্টা পর যুক্তরাষ্ট্র জানায়, তারা দুটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে, যেগুলো হরমুজ প্রণালির কাছে জাহাজে হামলার চেষ্টা করছিল।
শুক্রবারের পোস্টে ট্রাম্প এই ঘটনাকে 'পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য' বলে অভিহিত করেন।
