ইরান বিক্ষোভে ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত দিলেন সাবেক সিআইএ প্রধান পম্পেও
ইরানের চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলনে সমর্থন জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-র সাবেক প্রধান মাইক পম্পেও। একইসঙ্গে এই অস্থিরতায় তেহরানের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইসরায়েলের গোয়েন্দা এজেন্টদের সম্পৃক্ততারও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
নিষেধাজ্ঞায় জর্জরিত ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানে গত সপ্তাহান্তে তীব্র মুদ্রাস্ফীতি এবং দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক সংকটের জেরে এই বিক্ষোভ শুরু হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ হিসেবে বর্ণিত এই বিক্ষোভ দ্রুত দেশটির একাধিক শহরে ছড়িয়ে পড়ে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে বিক্ষোভকারীদের প্রাণঘাতী সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে।
ইসরায়েলের কট্টর সমর্থক এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম প্রশাসনে দায়িত্ব পালনের সময় তেহরানের বিরুদ্ধে অভিযানের নেতৃত্ব দানকারী মাইক পম্পেও শনিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) একটি পোস্ট শেয়ার করেন। সেখানে তিনি এই বিক্ষোভে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর সম্পৃক্ততারও ইঙ্গিত দেন।
পম্পেওর এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন এর কয়েক দিন আগেই ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সাথে সংশ্লিষ্ট একটি ফারসি ভাষার এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে বিক্ষোভকারীদের প্রকাশ্যে উৎসাহিত করা হয়। ওই অ্যাকাউন্ট থেকে ইরানিদের আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি দাবি করা হয় যে, তাদের এজেন্টরা বিক্ষোভকারীদের মাঝেই মিশে আছে।
ইরান কর্তৃপক্ষও এই অস্থিরতার জন্য ইসরায়েলকে দায়ী করেছে। দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ গালিবাফ অভিযোগ করেছেন যে, বিদেশি এজেন্টরা জনগণের বৈধ বিক্ষোভকে সহিংস নগর সংঘর্ষে রূপান্তরের অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
এদিকে, ইরানে চলমান অস্থিরতা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য ক্রমশ কঠোর হচ্ছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে ট্রাম্প সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়ে বলেন, "যদি ইরান শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালায় এবং তাদের হত্যা করে," তবে যুক্তরাষ্ট্র ব্যবস্থা নেবে।
ট্রাম্পের এই হুমকির প্রেক্ষিতে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছে তেহরান। চিঠিতে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে "সহিংসতা, অস্থিরতা এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে উসকানি" দেওয়ার অভিযোগ এনেছে ইরান। তারা বিশ্ব সংস্থাকে ট্রাম্পের বক্তব্যের নিন্দা জানানোর এবং ওয়াশিংটনকে "সব ধরনের হুমকি বা বলপ্রয়োগ" থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকারের কথা স্বীকার করলেও সতর্ক করে দিয়েছেন যে, কোনো ধরনের সহিংসতা এবং বিদেশি হস্তক্ষেপ সহ্য করা হবে না।
উল্লেখ্য, গত বছর ১২ দিনব্যাপী যুদ্ধের সময় ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক ব্যবস্থা নিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। সে সময় ইসরায়েলের সাথে মিলে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে বিমান হামলা চালানো হয়। ওয়াশিংটনের দাবি ছিল, তেহরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখতেই এই হামলা। যদিও ইরান বরাবরই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির লক্ষ্য থাকার কথা অস্বীকার করে আসছে।
পরবর্তীতে ইসরায়েলের চ্যানেল ১৩ এক প্রতিবেদনে জানায়, ওই অভিযানের আগে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বিকল করার উদ্দেশ্যে মোসাদ প্রায় ১০০ জন বিদেশি এজেন্টকে ইরানের ভেতরে মোতায়েন করেছিল।
