হরমুজ পুনরায় সচল করতে মিত্রদের নিয়ে কাজ করছে ব্রিটেন; যুদ্ধ 'যত দূর প্রয়োজন' চালিয়ে যেতে প্রস্তুত ইরান: আরাগচি
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার আজ (১৬ মার্চ) ১৭তম দিন। হামলার প্রথম দিন গত ২৮ ফেব্রুয়ারিতেই দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ অন্তত ৪০ জন শীর্ষ নেতা নিহত হন। এর জবাবে প্রতিশোধমূলক হামলা শুরু করেছে ইরান। দেশটি ইরাক, কুয়েত, বাহরাইন ও সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় অঞ্চলের যেসব দেশে মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে, সেগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে ইসরায়েলের বিভিন্ন শহরেও হামলা হচ্ছে। এতে সংঘাত ধীরে ধীরে পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে।
কিছু দেশ হরমুজ প্রণালির বিষয়ে সহযোগিতা করতে 'উৎসাহী' নয়: ট্রাম্প
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার বিষয়ে কিছু মিত্র দেশ সহযোগিতা করতে 'উৎসাহী' নয় বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
তিনি সেসব দেশকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, "৪০ বছর ধরে আমরা তোমাদের রক্ষা করছি, আর তোমরা এতে জড়াতে চাও না।"
তিনি আরও বলেছেন, "আমরা অন্য দেশগুলোকে জোরালোভাবে উৎসাহ দিচ্ছি যেন তারা আমাদের সঙ্গে যুক্ত হয় এবং দ্রুত ও ব্যাপক উৎসাহ নিয়ে এতে অংশ নেয়।"
"কিছু দেশ এতে খুব উৎসাহী, আবার কিছু নয়। কিছু দেশ আছে যাদের আমরা বহু বছর ধরে সাহায্য করেছি। আমরা তাদের ভয়ংকর বাইরের শক্তির হাত থেকে রক্ষা করেছি, কিন্তু তারা তেমন উৎসাহী ছিল না। আর এই উৎসাহের মাত্রাটা আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ।"
উল্লেখ্য, আজ সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি মিত্র দেশ জানিয়েছে, তারা আপাতত হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে সেখানে নৌবাহিনীর জাহাজ পাঠানোর কোনো তাৎক্ষণিক পরিকল্পনা করেনি।
আমরা ইরানজুড়ে ৭ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করেছি: ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেছেন, ''সংঘাত শুরুর পর থেকে আমরা ইরানজুড়ে সাত হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করেছি। এর বেশিরভাগই ছিল বাণিজ্যিক ও সামরিক লক্ষ্যবস্তু।''
''গত কয়েক দিনে ইরান সরকারের পক্ষ থেকে আসা হুমকি মোকাবিলার জন্য আমাদের সামরিক অভিযান পূর্ণ শক্তিতে চলেছে। আমরা তাদের সামরিক শক্তিকে কার্যত সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়েছি'', বলেন ট্রাম্প।
ট্রাম্প বলেন, আমরা তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ ৯০ শতাংশ কমিয়ে দিতে পেরেছি এবং ড্রোন হামলা ৯৫ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছি।
''আমরা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন তৈরির কারখানাতেও হামলা করেছি—আজই আমরা এমন তিনটি স্থানে হামলা করেছি।''
গত আড়াই সপ্তাহে শতাধিক ইরানি নৌযান ডুবিয়ে দেওয়া হয়েছে বা ধ্বংস করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
ইরানে অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি এড়ানোর চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি এড়ানোর চেষ্টা করছে। পিবিএসের সঙ্গে ফোনালাপে তিনি এ দাবি করেন।
"আমি তেহরানে অনেক অবকাঠামো অক্ষত রেখেছি। কারণ, সেগুলো ধ্বংস করলে আবার তৈরি করতে বছরের পর বছর লেগে যাবে", বলেন ট্রাম্প।
তিনি আরও বলেন, "আমি এক ঘণ্টার মধ্যে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো অচল করে দিতে পারি… কিন্তু যদি আমি তা করি, তাহলে সেগুলো পুনর্নির্মাণ করতে বছরের পর বছর লাগবে এবং এতে বড় ধাক্কা লাগবে। তাই আমি এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকার চেষ্টা করছি।"
ইরান সতর্ক করে বলেছিল, তাদের বিদ্যুৎ অবকাঠামোয় হামলা হলে তারা পুরো অঞ্চলকে অন্ধকারে ডুবিয়ে দেবে।
ট্রাম্প আরও বলেছেন, কয়েক দিন আগে খারগ দ্বীপে হামলা করার সময় মার্কিন বাহিনী তেলের পাইপলাইনে আঘাত করেনি।
"খারগ দ্বীপ প্রায় অচল হয়ে গেছে, শুধু পাইপগুলো বাদে, যেগুলো আমি অক্ষত রেখেছি। আমি পাইপে আঘাত করতে চাইনি। কারণ সেগুলো তৈরি করতে বছরের পর বছর কাজ লাগে", ট্রাম্প বলেন।
এদিকে ইরানের কর্তৃপক্ষ বলছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় বেসামরিক স্থাপনায় ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে, যার মধ্যে আবাসিক ভবন, স্কুল ও হাসপাতালও রয়েছে।
জ্বালানি সাশ্রয়ে শ্রীলঙ্কায় প্রতি বুধবার অফিস ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা
ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের প্রভাবে সম্ভাব্য জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের অংশ হিসেবে প্রতি বুধবার সরকারি অফিস, বিশ্ববিদ্যালয় ও স্কুল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শ্রীলঙ্কা।
জ্বালানি তেলের 'প্যানিক বায়িং' বা আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত কেনাকাটা রোধে দেশজুড়ে কঠোর রেশনিং ব্যবস্থা চালুর একদিন পরই এই নতুন সিদ্ধান্ত নিল লঙ্কান সরকার। এর আগে গত ৬ মার্চ বাংলাদেশেও প্রায় একই ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল। জ্বালানি তেলের মজুত নিয়ে গুজব ও আতঙ্কিত হয়ে তেল কেনার খবরের প্রেক্ষাপটে সে সময় বাংলাদেশেও দৈনিক জ্বালানি বিক্রির সীমা বেঁধে দেওয়া হয়।
ইরানের বিরুদ্ধে অন্তত আরও তিন সপ্তাহ যুদ্ধের পরিকল্পনা রয়েছে: ইসরায়েল
ইসরায়েল আজ সোমবার বলেছে, ইরানের বিরুদ্ধে আরও অন্তত তিন সপ্তাহ যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার বিস্তারিত পরিকল্পনা তাদের রয়েছে।
গত রাতে ইরানের বিভিন্ন অংশে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। অন্যদিকে হামলা হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনাতেও। একই সময়ে ইরানের ড্রোন হামলার কারণে দুবাই বিমানবন্দর কিছু সময়ের জন্য বন্ধ রাখা হয়।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাদাভ শোশানি সাংবাদিকদের বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের জন্য আগামী তিন সপ্তাহের বিস্তারিত পরিকল্পনা তৈরি আছে এবং তার পরের সময়ের জন্যও আরও পরিকল্পনা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, "আমরা চাই এই সরকার যতটা সম্ভব দুর্বল হয়ে পড়ুক। তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থার সব অংশ ও সক্ষমতা আমরা নষ্ট করতে চাই।"
সেনাবাহিনী বলছে, তাদের লক্ষ্য সীমিত। তারা মূলত ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, পারমাণবিক স্থাপনা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর হামলা করে ইসরায়েলের জন্য ইরানের হুমকি কমাতে চায়।
ইরানের সামরিক মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র 'ধ্বংস' করার দাবি ইসরায়েলের
ইরানের রাজধানী তেহরানে দেশটির সামরিক বাহিনীর মহাকাশ গবেষণা ও সক্ষমতা উন্নয়নের একটি স্থাপনা 'ধ্বংস' করার দাবি করেছে ইসরায়েল। সোমবার ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) পক্ষ থেকে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, তেহরানের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত ওই ভবনটি মূলত ইরানের 'সামরিক মহাকাশ কর্মসূচি' পরিচালনার কাজে ব্যবহৃত হতো। তাদের দাবি অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ইরান যে 'চামরান-১' নামক স্যাটেলাইটটি উৎক্ষেপণ করেছিল, তার প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও গবেষণার কাজও এই কেন্দ্রে পরিচালিত হতো।
ইসরায়েলি বাহিনী সরাসরি ওই স্থাপনার নাম প্রকাশ না করলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ছবিতে তেহরানের 'তারশত স্পেস রিসার্চ ইনস্টিটিউট' ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার দৃশ্য দেখা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই স্থাপনাটিকেই লক্ষ্যবস্তু করেছে ইসরায়েল।
জেরুজালেমের কাছে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত
জেরুজালেমের নিকটবর্তী বেইত শেমেশ এলাকায় ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র বা এর ধ্বংসাবশেষ আঘাত হেনেছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলো। ইসরায়েলের চ্যানেল ১৩-সহ বেশ কয়েকটি গণমাধ্যম সোমবার রাতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
প্রাথমিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ঠিক কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা এখনো স্পষ্ট নয়। এছাড়া তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
হামলা বন্ধ না করলে ইরানের সঙ্গে কোনো আলোচনা নয়: কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ইরানকে কড়া বার্তা দিয়ে কাতার জানিয়েছে, দেশটি যদি তাদের হামলা বন্ধ না করে, তবে কোনো ধরনের কূটনৈতিক আলোচনা সম্ভব নয়। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এই অবস্থানের কথা স্পষ্ট করা হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি বলেন, 'যদি তারা হামলা বন্ধ করে, তবেই আমরা কূটনীতির মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজতে পারি। কিন্তু যতক্ষণ আমাদের দেশ আক্রান্ত হচ্ছে, ততক্ষণ কোনো কমিটি গঠনের সময় এটি নয়।'
তিনি আরও যোগ করেন, 'এখন সময় আমাদের দেশগুলোকে রক্ষা করার জন্য একটি অত্যন্ত নীতিগত অবস্থান নেওয়ার এবং তাদের উচিত অবিলম্বে আমাদের ওপর আক্রমণ বন্ধ করা।'
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি গত সপ্তাহে উপসাগরীয় দেশগুলোর বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলার ঘটনা তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে ইরান শুরু থেকেই এসব হামলায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে আসছে। কাতারের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি ইরানের এই তদন্ত কমিটির প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন।
মাজেদ আল-আনসারি জানান, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হুমকি ও হামলা অব্যাহত রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, গত শনিবার দোহায় একটি আবাসিক এলাকা লক্ষ্য করে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ইরানি গণমাধ্যমে 'নির্দিষ্ট কিছু কোম্পানি এবং নির্দিষ্ট ভৌগোলিক অবস্থানে' হামলার হুঁশিয়ারি দেওয়ার পরই ওই এলাকাগুলো থেকে সাধারণ মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। উল্লেখ্য, ওই এলাকাগুলোতে গুগল, আমেরিকান এক্সপ্রেস এবং মাইক্রোসফটের মতো বড় মার্কিন কোম্পানিগুলোর কার্যালয় অবস্থিত ছিল।
কাতার এই সংকট নিরসনে কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে আল-আনসারি বলেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক মধ্যস্থতা চলছে কি না, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন।
হরমুজ প্রণালী পুনরায় সচল করতে মিত্রদের নিয়ে কাজ করছে ব্রিটেন: স্টারমার
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দিতে এবং নৌ চলাচলের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনতে মিত্রদের সঙ্গে মিলে একটি 'যৌথ পরিকল্পনা' নিয়ে কাজ করছে ব্রিটেন। তবে কাজটি সহজ হবে না বলে স্বীকার করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার।
সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্টারমার বলেন, 'শেষ পর্যন্ত তেলের বাজারে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার জন্য আমাদের হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দিতেই হবে। তবে এটি কোনো সহজ কাজ নয়।'
তিনি আরও জানান, তার সরকার ইউরোপীয় অংশীদারসহ সকল মিত্রদের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করছে। স্টারমার বলেন, 'আমরা আমাদের ইউরোপীয় অংশীদারসহ সকল মিত্রদের সঙ্গে কাজ করছি, যাতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই অঞ্চলে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনতে এবং অর্থনৈতিক প্রভাব লাঘব করতে একটি কার্যকর যৌথ পরিকল্পনা গ্রহণ করা যায়।'
হরমুজ প্রণালী 'শত্রুদের জন্য বন্ধ': ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী ইরানের 'শত্রুদের জন্য বন্ধ' বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, যারা ইরানের ওপর হামলা চালিয়েছে, তাদের জন্য এই পথ ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই।
সোমবার এক বিবৃতিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি বলেন, '১৫ দিন যুদ্ধ চালানোর পর তারা (শত্রুরা) এখন হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অন্যদের দ্বারস্থ হচ্ছে। এমনকি তারা সাহায্যের জন্য এমন সব দেশের দিকে ঝুঁকছে যাদের গতকাল পর্যন্তও তারা শত্রু মনে করত।'
তিনি আরও বলেন, 'তারা অন্যান্য দেশকে এসে সাহায্য করার অনুরোধ জানাচ্ছে যাতে এই প্রণালীটি উন্মুক্ত থাকে। কিন্তু আমাদের অবস্থান পরিষ্কার—এই প্রণালীটি উন্মুক্ত থাকলেও আমাদের শত্রুদের জন্য এটি বন্ধ। যারা আমাদের ওপর কাপুরুষোচিত আগ্রাসন চালিয়েছে এবং যারা তাদের মিত্র, তাদের জন্য এই পথ রুদ্ধ।'
মধ্যপ্রাচ্যের বিস্তৃত যুদ্ধে জড়াবে না যুক্তরাজ্য: কিয়ার স্টারমার
মধ্যপ্রাচ্যের কোনো বিস্তৃত বা ব্যাপকতর যুদ্ধে যুক্তরাজ্য অংশ নেবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার।
সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছিলেন যে যুক্তরাজ্যসহ মিত্র দেশগুলো যদি এই অঞ্চলে সামরিক সহায়তা প্রদান না করে, তবে সামরিক জোট ন্যাটোর ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
প্রতিক্রিয়ায় স্টারমার বলেন, বর্তমানে যুক্তরাজ্যের প্রধান অগ্রাধিকার হলো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে অবস্থানরত নিজস্ব নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে নিজের দেশ এবং মিত্রদের রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি জানান। তবে এর অর্থ এই নয় যে যুক্তরাজ্য কোনো বড় ধরণের যুদ্ধে সরাসরি জড়িয়ে পড়বে।
ব্রিটেন নিজেকে কোনো বড় সংঘাতের অংশ হতে দেবে না উল্লেখ করে স্টারমার বলেন, ওই অঞ্চলে পুনরায় নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনাই তাদের মূল লক্ষ্য। এই সংকট কাটিয়ে উঠতে একটি দ্রুত এবং কার্যকর সমাধানের জন্য যুক্তরাজ্য নিরন্তর কাজ করে যাবে বলেও তিনি প্রতিশ্রুতি দেন।
ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ 'যতদূর প্রয়োজন' নিতে প্রস্তুত ইরান: পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি
প্রয়োজনে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাত আরও দূর পর্যন্ত নিতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, তেহরান ইতোমধ্যে দেখিয়ে দিয়েছে যে নিজেদের প্রতিরক্ষার প্রশ্নে তারা কোনো দ্বিধা করে না। পরিস্থিতি যেদিকেই গড়াক না কেন, প্রয়োজনে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা ও প্রস্তুতি ইরানের রয়েছে।
আরাঘচি আরও বলেন, 'আমার মনে হয় এখন তারা ভালোই শিক্ষা পেয়েছে এবং বুঝতে পেরেছে তারা কেমন একটি জাতির সঙ্গে মোকাবিলা করছে—যে জাতি নিজের আত্মরক্ষায় দ্বিধা করে না। যুদ্ধ যেদিকেই গড়াক না কেন, তা চালিয়ে যেতে আমরা প্রস্তুত এবং প্রয়োজন হলে যুদ্ধ যতদূর নেওয়া দরকার, ততদূর পর্যন্ত নেওয়া হবে।'
হরমুজ প্রণালীতে সামরিক অংশগ্রহণে জার্মানি ও গ্রিসের 'না'
ইরানে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে কোনো ধরনের সামরিক অভিযানে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে জার্মানি ও গ্রিস। দুই দেশের পক্ষ থেকেই স্পষ্ট করা হয়েছে যে, তারা এই সংকটে সামরিক শক্তি ব্যবহারের পক্ষে নয়।
জার্মান সরকারের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, ইরানে চলমান এই যুদ্ধের সঙ্গে সামরিক জোট ন্যাটোর কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, জার্মানি এই যুদ্ধে অংশ নেবে না এবং সামরিক উপায়ে হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত রাখার কোনো প্রক্রিয়ায়ও নিজেদের জড়াবে না।
মুখপাত্র আরও বলেন, 'যতদিন এই যুদ্ধ চলবে, ততদিন (জার্মানির) কোনো অংশগ্রহণ থাকবে না; এমনকি সামরিক উপায়ে হরমুজ প্রণালী খোলা রাখার কোনো প্রচেষ্টাতেও নয়।'
একই সুরে কথা বলেছে গ্রিস সরকারও। গ্রিস সরকারের মুখপাত্র পাভলোস মারিনাকিস জানিয়েছেন, তার দেশ হরমুজ প্রণালীতে কোনো ধরনের সামরিক অভিযানে লিপ্ত হবে না।
হরমুজ প্রণালী রক্ষায় ন্যাটোর হস্তক্ষেপ চায় না জার্মানি
হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সামরিক জোট ন্যাটোর কোনো ভূমিকা থাকা উচিত নয় বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে জার্মানি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সংকট মোকাবিলায় ন্যাটোর সহায়তা না পেলে জোটটির ভবিষ্যৎ 'খুবই খারাপ' হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর জার্মানি এই পাল্টা অবস্থান নিল।
সোমবার বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্য দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের একটি বৈঠকের আগে জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ওয়াডেফুল এই মন্তব্য করেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তার বিষয়ে ন্যাটোর 'দায়িত্ব গ্রহণ' করার কোনো প্রয়োজনীয়তা জার্মানি দেখছে না।
সামরিক হস্তক্ষেপের বদলে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ওপর জোর দিয়েছেন ওয়াডেফুল। তিনি জানান, গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ যারা অবরোধ করে রেখেছে, জার্মানি সেই 'দায়ীদের' বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পক্ষে।
ইরানকে হামলার উদ্দেশে হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না: তেহরানের হুঁশিয়ারি
ইরানের ওপর হামলা চালানোর উদ্দেশে কোনো দেশকেই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ 'হরমুজ প্রণালী' ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগাই আজ এই কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
মুখপাত্র ইসমাইল বাগাই জানান, এই অঞ্চলে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি করা 'অস্থিতিশীল পরিস্থিতির' কারণে বর্তমানে এই প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে 'বিশেষ শর্ত' কার্যকর থাকবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী বর্তমানে এই জলপথের নিয়ন্ত্রণ করছে এবং কোনো দেশই এই পথ ব্যবহার করে ইরানের ওপর আক্রমণ চালাতে পারবে না।
ইসমাইল বাগাই আরও বলেন, একটি উপকূলীয় দেশ হিসেবে জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং 'আগ্রাসীদের' এই জলপথের অপব্যবহার রুখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পূর্ণ অধিকার ইরানের রয়েছে। তার মতে, ইরান ঐতিহাসিকভাবেই হরমুজ প্রণালীর নিরাপদ চলাচলের রক্ষক হিসেবে কাজ করে আসছে। তবে বর্তমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতির জন্য তিনি সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করেন।
ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় অঞ্চলে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত
ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় অঞ্চলে অন্তত একটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছে বলে দেশটির একাধিক সংবাদমাধ্যম খবর প্রকাশ করেছে। সোমবার ইসরায়েল জুড়ে বিমান হামলার সাইরেন বাজার পর এই ঘটনা ঘটে।
তবে এটি সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত নাকি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ধ্বংস করা ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চল জুড়ে সতর্কতা জারি করার পর প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম 'হ্যারেৎজ' জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় ইসরায়েলে একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, 'দ্য টাইমস অব ইসরায়েল' দেশটির উদ্ধারকারী সংস্থাগুলোর বরাত দিয়ে জানিয়েছে, মধ্য ইসরায়েলে অন্তত দুটি স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র বা এর অংশবিশেষ আছড়ে পড়েছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, কোনো সরাসরি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।
ইসরায়েলি আর্মি রেডিও এক সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে নিশ্চিত করেছে যে, একটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র তেল আবিব সংলগ্ন এলাকায় পড়েছে। হামলার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
মার্কিন রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ডের লজিস্টিক সাপোর্ট সেন্টারগুলো এখন ইরানের 'লক্ষ্যবস্তু'
লোহিত সাগরে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী 'ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড' -এর উপস্থিতিকে ইরানের জন্য সরাসরি হুমকি হিসেবে ঘোষণা করেছে তেহরান। এর ফলে এই রণতরী বহরকে সহায়তাকারী সব লজিস্টিক ও সাপোর্ট সেন্টার এখন থেকে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর 'লক্ষ্যবস্তু' হিসেবে গণ্য হবে।
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার ইরানের 'খাতাম আল-আম্বিয়া' কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাগারি এই কড়া হুঁশিয়ারি দেন।
জোলফাগারি বলেন, 'লোহিত সাগরে মার্কিন এই রণতরীর অবস্থান ইরানের নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।'
তিনি স্পষ্ট করে জানান, এই রণতরী বহরকে যারা রসদ ও অন্যান্য সহায়তা প্রদান করছে, সেইসব কেন্দ্রগুলো এখন ইরানের সামরিক বাহিনীর নিশানায় রয়েছে।
ড্রোন হামলার পর ফের সচল হচ্ছে দুবাই বিমানবন্দর
ড্রোন হামলার জেরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর সোমবার থেকে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ধীরে ধীরে ফ্লাইট চলাচল শুরু হয়েছে। সাময়িক স্থগিতাদেশ কাটিয়ে বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত এই এভিয়েশন হাবটি পুনরায় সচল করার চেষ্টা করছে কর্তৃপক্ষ।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধ বিশ্বব্যাপী বিমান চলাচল ব্যবস্থাকে এক চরম অস্থিরতার মুখে ঠেলে দিয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার আশঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যের বেশিরভাগ আকাশপথ বন্ধ থাকায় অসংখ্য ফ্লাইট বাতিল, পুনঃনির্ধারণ এবং রুট পরিবর্তন করতে হচ্ছে।
সোমবারের এই ড্রোন হামলাটি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হওয়া তৃতীয় হামলা। ইরান দাবি করেছে, এই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতিকে লক্ষ্য করেই তারা এসব হামলা চালাচ্ছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ উপসাগরীয় দেশগুলোতে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থাকায় ইরান এসব দেশে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে।
তবে সামরিক স্থাপনার পরিবর্তে বিমানবন্দর, হোটেল এবং বন্দরের মতো বেসামরিক স্থাপনাগুলোই বারবার লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে।
দুবাই মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, দুবাই সিভিল এভিয়েশন অথরিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) এক বিবৃতিতে নির্দিষ্ট কিছু গন্তব্যে 'ধীরে ধীরে' ফ্লাইট চলাচল শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে।
তেহরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় নিহত ৫০০ ছাড়াল, আহত প্রায় ৬ হাজার
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে শুধুমাত্র তেহরান প্রদেশেই নিহতের সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়ে গেছে।
সোমবার ইরানের জরুরি চিকিৎসা সেবা (ইএমএস) বিভাগের এক শীর্ষ কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ইরানের সংবাদ সংস্থা 'মেহের নিউজ'-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেহরান প্রদেশের ইমার্জেন্সি মেডিকেল সার্ভিস বা জরুরি চিকিৎসা সেবা প্রধান মোহাম্মদ ইসমাইল তাওয়াকোলি জানিয়েছেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই হামলায় এ পর্যন্ত শুধুমাত্র তেহরান প্রদেশেই ৫০৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
তাওয়াকোলি আরও জানান, হামলার শুরু থেকে এ পর্যন্ত এই এলাকায় প্রায় ৫,৭০০ জন আহত হয়েছেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনীর ব্যাপক বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রয়েছে, যার বড় প্রভাব পড়েছে রাজধানী ও এর আশপাশের জনপদে।
ইরান যুদ্ধ আরও কয়েক সপ্তাহ চলতে পারে: ইসরায়েলের ক্রীড়ামন্ত্রী মিকি
ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ আরও বেশ কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে বলে জানিয়েছেন ইসরায়েলের সংস্কৃতি ও ক্রীড়ামন্ত্রী মিকি জোহার। একই সঙ্গে তিনি আগামী দিনগুলোতে যুদ্ধের তীব্রতা বা 'উত্তেজনা বৃদ্ধি' পাওয়ার আশঙ্কায় দেশবাসীকে আরও সতর্ক ও প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান।
ইসরায়েলের রেডিও ১০৩এফএম-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মিকি জোহার বলেন, 'আমরা জানি যে আগামী দিনগুলোতে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে। আমাদের সবাইকে, পুরো ইসরায়েল রাষ্ট্রকে এই পরিস্থিতির জন্য আরও বেশি প্রস্তুত থাকতে হবে। এটি খুবই সম্ভব যে, এই যুদ্ধ আরও দীর্ঘ কয়েক সপ্তাহ ধরে চলবে।'
চলমান এই সংঘাত নিয়ে ইসরায়েলি কোনো মন্ত্রীর পক্ষ থেকে এটিই প্রথম স্পষ্ট ইঙ্গিত যে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ত্রিমুখী এই উত্তেজনা খুব শীঘ্রই শেষ হচ্ছে না।
ইরানের খোমেইন শহরে স্কুলে বিমান হামলা
ইরানের মারকাজি প্রদেশের খোমেইন শহরে সোমবার ভোরে একটি স্কুলে ভয়াবহ বিমান হামলা চালানো হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা 'ফার্স নিউজ' এই হামলাকে 'যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনীর যৌথ হামলা' হিসেবে উল্লেখ করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, 'শহীদ খোমেনি বয়েজ স্কুল' লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। ফার্স নিউজের প্রকাশিত বেশ কিছু ছবিতে দেখা গেছে, হামলায় স্কুল ভবনটি প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
পরবর্তীতে ইরানের 'মেহের নিউজ এজেন্সি' মারকাজি প্রদেশের একজন উপ-গভর্নরকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, খোমেইন শহরের ওই স্কুলে হামলার ঘটনায় কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। তবে হামলার তীব্রতায় স্কুলের আশপাশের বেশ কিছু বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিও তাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে ধ্বংসাবশেষের ছবি শেয়ার করে জানিয়েছে, এটি খোমেইনের একটি স্কুলে চালানো বিমান হামলার দৃশ্য।
যে কারণে হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে না চীন
হরমুজ প্রণালি সচল রাখতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আহ্বানের পর এখন পর্যন্ত বেইজিংয়ের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের চাপে নতি স্বীকার করে চীন সেখানে যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে—এমন সম্ভাবনা খুবই কম। এর পেছনে মূলত তিনটি বড় কারণ কাজ করছে:
১. হুমকির কাছে মাথা নত না করা: চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং কখনোই ট্রাম্পের হুমকির কাছে নতি স্বীকার করার পক্ষপাতী নন। এর আগে গত বছর বাণিজ্য যুদ্ধের সময় ট্রাম্প যখন চীনা পণ্যের ওপর ১০০ শতাংশের বেশি শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন, তখন বেইজিং দমে না গিয়ে বরং পাল্টা ব্যবস্থা নিয়েছিল। সুতরাং, বর্তমান পরিস্থিতিতেও শি জিনপিং যে সহজে ট্রাম্পের দাবি মেনে নেবেন না, তা বলাই বাহুল্য।
২. কূটনৈতিক অবস্থানের পরিপন্থী: চলমান এই যুদ্ধের শুরু থেকেই চীন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ডের কড়া সমালোচনা করে আসছে। বেইজিং ক্রমাগত উত্তেজনা প্রশমন এবং আলোচনার মাধ্যমে সংকটের সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।
চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বারবার স্পষ্ট করেছেন যে, 'শক্তি প্রয়োগ কোনো সমাধান হতে পারে না'। এমন অবস্থায় নিজেরাই ওই অঞ্চলে যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়ে সামরিক কর্মকাণ্ডে জড়ানো চীনের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক অবস্থানের সম্পূর্ণ বিপরীত হবে।
৩. ইরানের সাথে ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক সম্পর্ক: হরমুজ প্রণালি দিয়ে চীনা জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে বেইজিং খুব একটা ঝুঁকি দেখছে না। কিছু প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীন ও ইরানের সুসম্পর্কের কারণে চীনা জাহাজগুলো এখনও সেখানে নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারছে। উল্লেখ্য, চীন বর্তমানে ইরানের তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা।
ইরানের স্কুলে হামলায় দায়ীদের জবাবদিহিতার দাবি রুশ রাষ্ট্রদূতের
ইরানের মিনাব শহরের একটি বালিকা বিদ্যালয়ে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় দায়ীদের কঠোর জবাবদিহিতার আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন ইরানে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত কাজেম জালালি। ওই হামলায় অন্তত ১৭০ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে বিশাল একটি অংশই শিক্ষার্থী।
ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাষ্ট্রদূত জালালি বলেছেন, 'আগ্রাসী শক্তিকে তাদের শুরু করা এই যুদ্ধের জন্য অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে। তারা যে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি করেছে, তার ক্ষতিপূরণ দিতে তারা বাধ্য।'
ঘটনার প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনীর যৌথ অভিযান শুরুর প্রথম দিকেই দক্ষিণ ইরানের ওই বালিকা বিদ্যালয়ে একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এতে প্রাণ হারান অন্তত ১৭০ জন, যাদের অধিকাংশই ছিল স্কুলছাত্রী।
প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে যে, স্কুলটিতে আঘাত হানা ক্ষেপণাস্ত্রটি যুক্তরাষ্ট্রের হতে পারে। তবে ঠিক কী পরিস্থিতিতে এবং কেন একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্যবস্তু করা হলো, তা নিয়ে এখনো বিস্তারিত তদন্ত চলছে।
ইরানের চাবাহার মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চলের কাছে মার্কিন বিমান হামলা
ইরানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় চাবাহার মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চলের কাছে অবস্থিত একটি পাহাড়ের সামরিক স্থাপনায় মার্কিন যুদ্ধবিমান হামলা চালিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। ভয়েস অফ আমেরিকার (ভিওএ) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চাবাহার মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চলের পেছনের এলাকায় অত্যন্ত শক্তিশালী এবং তীব্র বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। পাহাড়ি ওই এলাকায় অবস্থিত সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করেই মূলত এই হামলা চালানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চাবাহার মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চলটি ইরানের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সিস্তান ও বালুচিস্তান প্রদেশে অবস্থিত, যা প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানের সীমান্তের অত্যন্ত কাছে।
এখন পর্যন্ত এই হামলার বিষয়ে পেন্টাগন বা ইরান সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি।
ইরান ইস্যুতে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক পেছাতে পারেন ট্রাম্প
ইরান সংকটের জেরে চলতি মাসের শেষে বেইজিংয়ে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে নির্ধারিত বহুল প্রত্যাশিত বৈঠকটি পিছিয়ে দিতে পারেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সংবাদমাধ্যম ফিনান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প নিজেই এই ইঙ্গিত দিয়েছেন।
ট্রাম্পের মতে, চীন তাদের প্রয়োজনের প্রায় ৯০ শতাংশ তেল মধ্যপ্রাচ্যের এই অঞ্চল থেকে সংগ্রহ করে। তাই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি সচল রাখতে বেইজিংয়ের সক্রিয় ভূমিকা রাখা উচিত। মূলত ইরান ইস্যুতে চীনকে চাপে রাখতেই তিনি বৈঠক পেছানোর এই হুমকি দিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
২০১৭ সালের পর কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রথম চীন সফর সফল করতে দুই দেশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা প্যারিসে দফায় দফায় বৈঠক করছেন; এমন সময়ে ট্রাম্প এই মন্তব্য করলেন।
এই সফরের মূল লক্ষ্য ছিল বিশ্বের দুই শীর্ষ পরাশক্তির মধ্যকার বৈরী সম্পর্ক স্থিতিশীল করা এবং নানাবিধ মতপার্থক্য যাতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায়, তা নিশ্চিত করা। এই বৈঠকে মার্কিন প্রযুক্তি রপ্তানি এবং চীনের 'রেয়ার আর্থ' (বিরল খনিজ) রপ্তানির মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক চুক্তিগুলো নিয়ে আলোচনার কথা রয়েছে।
ইসরায়েলি বিমান হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ইরানের রেড ক্রিসেন্টের ক্লিনিক ও ত্রাণ কেন্দ্র
ইরানের রাজধানী তেহরানে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক বিমান হামলায় রেড ক্রিসেন্টের একটি ক্লিনিক এবং একটি ত্রাণ কেন্দ্র ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সোমবার ইরান রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির পক্ষ থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
সংস্থাটির পক্ষ থেকে অনলাইনে প্রকাশিত একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, হামলার তীব্রতায় ক্লিনিকের জানালার কাঁচ ভেঙে পড়েছে এবং ভেতরে থাকা চিকিৎসা সরঞ্জামগুলো বিধ্বস্ত হয়ে মেঝেতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।
ইসরায়েলি বাহিনী তেহরানে নতুন দফায় বিমান হামলা চালানোর ঘোষণা দেওয়ার পরপরই শহরটিতে বেশ কয়েকটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এরপরই রেড ক্রিসেন্টের এই মানবিক সহায়তা কেন্দ্রগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর সামনে আসে।
ড্রোন আতঙ্কে দুবাই বিমানবন্দরে আগুন, সাময়িকভাবে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ
দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন-সংশ্লিষ্ট এক ঘটনার পর জ্বালানি ট্যাংকে অগ্নিকাণ্ডের জেরে সাময়িকভাবে সব ধরনের ফ্লাইট চলাচল স্থগিত করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত রাতে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর নিরাপত্তার স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, একটি জ্বালানি ট্যাংকে ড্রোন সদৃশ বস্তুর আঘাতের পর সেখানে আগুন ধরে যায়। তবে এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে 'প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা' নেওয়া হচ্ছে বলে কর্মকর্তারা আশ্বস্ত করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, যাত্রী ও কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে 'আগাম সতর্কতা' হিসেবে বিমান চলাচল স্থগিত রাখা হয়েছে।
যেসব দেশ হরমুজ ইস্যুতে সাহায্য করবে না, তাদের কথা 'আমরা মনে রাখব': ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি
ইরান ইস্যুতে হরমুজ প্রণালি নিরাপদ রাখতে মিত্র দেশগুলো যদি এগিয়ে না আসে, তবে যুক্তরাষ্ট্র তা 'মনে রাখবে' বলে হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
প্রেসিডেন্টকে বহনকারী বিমান 'এয়ার ফোর্স ওয়ান'-এ অবস্থানকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন।
ট্রাম্প জানান, হরমুজ প্রণালিতে 'এসকোর্ট' বা টহল দেওয়ার বিষয়ে তিনি বর্তমানে অন্তত সাতটি দেশের সঙ্গে আলোচনা করছেন। এই অভিযানকে একটি 'অতি সামান্য প্রচেষ্টা' হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, 'কোন দেশগুলো এই কাজে যুক্তরাষ্ট্রকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসে, তা দেখাটা বেশ কৌতুহলোদ্দীপক হবে।'
তিনি আরও কঠোর সুরে বলেন, যারা এই সংকটে পাশে দাঁড়াবে না, ওয়াশিংটন ভবিষ্যতে তাদের কথা 'মনে রাখবে'।
ইরান ইস্যুতে সহায়তা না করলে ন্যাটোর ভবিষ্যৎ 'ভয়াবহ': ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি
ইরান ইস্যুতে বিশেষ করে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি সচল রাখতে মিত্রদেশগুলো যদি যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা না করে, তবে সামরিক জোট ন্যাটোর ভবিষ্যৎ 'অন্ধকার' হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সংবাদমাধ্যম ফিনান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন।
সাক্ষাৎকারে মার্কিন নেতৃত্বাধীন এই সামরিক জোটের কঠোর সমালোচনা করে ট্রাম্প বলেন, 'ন্যাটো নামের আমাদের একটি সংস্থা রয়েছে। আমরা এতদিন তাদের প্রতি অনেক সদয় ছিলাম। ইউক্রেন আমাদের দেশ থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে হওয়া সত্ত্বেও আমরা তাদের সাহায্য করেছি। এখন দেখার বিষয় তারা আমাদের সাহায্য করে কি না।'
মিত্রদের ওপর অনাস্থা প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, 'আমি অনেক আগেই বলেছি যে, আমরা সবসময় তাদের পাশে থাকব, কিন্তু তারা আমাদের প্রয়োজনে পাশে থাকবে না। তারা আদৌ আসবে কি না, তা নিয়ে আমার সন্দেহ আছে।' ঠিক কী ধরনের সহায়তা প্রয়োজন—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, 'যা কিছু প্রয়োজন (সবই করতে হবে)।'
এ সময় তিনি যুক্তরাজ্যের ভূমিকার প্রতি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, 'যুক্তরাজ্যকে আমাদের এক নম্বর এবং দীর্ঘদিনের মিত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু আমি যখন তাদের সহায়তা চেয়েছিলাম, তারা আসতে চায়নি। যখন আমরা ইরানের বিপদ প্রায় কাটিয়ে উঠলাম, তখন তারা বলছে দুটি জাহাজ পাঠাবে। আমি তাদের বলেছি, আমাদের জয়ী হওয়ার আগে জাহাজ প্রয়োজন ছিল, পরে নয়। আমি অনেক আগে থেকেই বলছি, ন্যাটো একটি একমুখী রাস্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে।'
হরমুজ প্রণালি সচল রাখার বিষয়ে ট্রাম্প যুক্তি দেন, এই পথ দিয়ে তেল সরবরাহের ওপর চীন এবং ইউরোপ অনেক বেশি নির্ভরশীল, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের নির্ভরতা বেশ কম। তাই এই পথ নিরাপদ রাখার দায়িত্ব তাদেরও নিতে হবে।
এই ইস্যুতে চীন সরকারকে চাপে রাখতে চলতি মাসের শেষের দিকে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে নির্ধারিত বৈঠকটি ট্রাম্প পিছিয়ে দিতে পারেন বলেও সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করা হয়েছে। ট্রাম্পের মতে, যারা এই প্রণালির সুবিধাভোগী, সেখানে কোনো দুর্ঘটনা যাতে না ঘটে তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব তাদেরই।
হরমুজ প্রণালিতে এসকোর্ট যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে না জাপান
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্রমাগত চাপের মুখেও হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী ট্যাংকার পাহারায় কোনো যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর পরিকল্পনা নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে জাপান।
দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি সোমবার জাপানি পার্লামেন্টে সরকারের এই অবস্থানের কথা জানান।
পার্লামেন্টে দেওয়া ভাষণে তাকাইচি বলেন, 'এসকোর্ট জাহাজ পাঠানোর বিষয়ে আমরা এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত নিইনি। আমরা বর্তমানে খতিয়ে দেখছি যে, বিদ্যমান আইনি কাঠামোর মধ্যে থেকে জাপান স্বাধীনভাবে আর কী কী পদক্ষেপ নিতে পারে।'
আগামী সপ্তাহের শেষের দিকে ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকে বসার কথা রয়েছে জাপানি প্রধানমন্ত্রী তাকাইচির। সেই গুরুত্বপূর্ণ সফরের ঠিক আগমুহূর্তেই তিনি এই মন্তব্য করলেন।
হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে না অস্ট্রেলিয়া
ইরান ইস্যুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আহ্বানের পরিপ্রেক্ষিতে অস্ট্রেলিয়া জানিয়ে দিয়েছে যে, তারা হরমুজ প্রণালিতে কোনো যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে না।
দেশটির পরিবহন মন্ত্রী ক্যাথরিন কিং সোমবার এবিসি রেডিওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সরকারের এই অবস্থানের কথা স্পষ্ট করেন।
ক্যাথরিন কিং বলেন, 'মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে অস্ট্রেলিয়ার অবদান এবং সহায়তার বিষয়ে সরকার অত্যন্ত পরিষ্কার। বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা সহায়তা হিসেবে বিমান মোতায়েন রয়েছে, যা মূলত ওই অঞ্চলে থাকা বিপুল সংখ্যক অস্ট্রেলীয় নাগরিকের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে করা হয়েছে।'
তবে নৌপথে সরাসরি কোনো যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে তিনি বলেন, 'আমরা হরমুজ প্রণালিতে কোনো জাহাজ পাঠাচ্ছি না। আমরা জানি এই নৌপথটি কতটা গুরুত্বপূর্ণ। তবে এ ধরনের কোনো অনুরোধ আমাদের কাছে আসেনি।'
