‘এটি আমাদের যুদ্ধ নয়’: ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করল ইউরোপ
ইরান বিরোধী বৈশ্বিক অভিযানে যোগ দিতে এবং অবরুদ্ধ প্রায় হরমুজ প্রণালী সচল করতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আহ্বান সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে তার দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ মিত্ররা। বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়া সত্ত্বেও ইউরোপীয় দেশগুলো এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গী হতে রাজি হয়নি।
জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস দেশটির পার্লামেন্টে বলেন, ইরান যাতে তার প্রতিবেশীদের জন্য হুমকি হতে না পারে—সেই বিষয়ে তিনি একমত। তবে এই যুদ্ধের যৌক্তিকতা নিয়ে তিনি গভীর সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
মের্ৎস বলেন, 'আজ পর্যন্ত এই অভিযান কীভাবে সফল হবে, তার কোনো বিশ্বাসযোগ্য পরিকল্পনা আমাদের দেওয়া হয়নি। ওয়াশিংটন আমাদের সাথে কোনো পরামর্শ করেনি এবং আমাদের সহায়তার প্রয়োজন আছে বলেও জানায়নি।'
তিনি আরও স্পষ্ট করে দেন যে, যুদ্ধ চলাকালীন হরমুজ প্রণালীতে কোনো সামরিক অভিযানে জার্মানি অংশ নেবে না। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্টোরিয়াস আরও সোজাসাপ্টা মন্তব্য করে বলেন, 'এটি আমাদের যুদ্ধ নয়, আমরা এটি শুরু করিনি।'
একই সুরে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁও জানিয়ে দিয়েছেন, 'আমরা এই সংঘাতের কোনো পক্ষ নই।'
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এই যুদ্ধে যোগ না দেওয়ায় ডোনাল্ড ট্রাম্প তার তীব্র সমালোচনা করেছেন। ট্রাম্প তাকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কিংবদন্তি নেতা উইনস্টন চার্চিলের সাথে তুলনা করে বলেন, 'স্টারমার কোনোভাবেই চার্চিলের যোগ্য নন।'
তবে স্টারমারের এই অবস্থানে খোদ ব্রিটেনের জনগণের বড় সমর্থন রয়েছে। এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, ৪৯ শতাংশ ব্রিটিশ নাগরিক এই হামলার বিরোধী। এমনকি স্টারমারের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী কনজারভেটিভ নেত্রী কেমি ব্যাডেনোকও ট্রাম্পের এই ব্যক্তিগত আক্রমণকে 'শিশুসুলভ' বলে আখ্যা দিয়েছেন।
রিফর্ম ইউকে-র রবার্ট জেনরিক বলেন, 'বিদেশি নেতাদের হাতে আমাদের প্রধানমন্ত্রী এভাবে অপমানিত হওয়াটা কাম্য নয়।'
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেড্রো সানচেজ ইরানের ওপর হামলাকে 'বেপরোয়া ও অবৈধ' বলে নিন্দা জানিয়েছেন। ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন যে, স্পেন যদি তাদের দেশে থাকা সামরিক ঘাঁটিগুলো এই যুদ্ধে ব্যবহার করতে না দেয়, তবে স্পেনের সাথে বাণিজ্য বন্ধ করে দেওয়া হবে।
এই হুমকির জবাবে স্পেনের উপ-প্রধানমন্ত্রী মারিয়া জেসুস মন্টেরো বলেন, 'আমরা কারও ক্রীড়ানক হতে আসিনি, আমরা আমাদের মূল্যবোধ রক্ষা করব।'
ইউরোপীয় দেশগুলোর এই অনড় অবস্থানের পেছনে কাজ করছে অভ্যন্তরীণ জনমত। জার্মানিতে ৫৮ শতাংশ এবং স্পেনে ৬৮ শতাংশ মানুষ এই যুদ্ধের বিপক্ষে। এমনকি সাধারণত ট্রাম্পের সমর্থক হিসেবে পরিচিত জার্মানির অতি-ডানপন্থী দল 'এএফডি' ট্রাম্পের সমালোচনা করে বলেছে, 'ডোনাল্ড ট্রাম্প শান্তির প্রেসিডেন্ট হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও এখন যুদ্ধের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শেষ করবেন।'
