রোববার থেকে ৪ সিটি করপোরেশনে ১২ লাখ শিশুকে হামের টিকা দেয়া হবে
রোববার থেকে ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ, ময়মনসিংহ ও বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকায় শুরু হচ্ছে জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি।
১২ এপ্রিল থেকে ১১ মে পর্যন্ত চলা এ কার্যক্রমে চার সিটিতে প্রায় ১২ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। দেশব্যাপী এই কার্যক্রম শুরু হবে ২০ এপ্রিল। সরকারি ছুটির দিন বাদে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত টিকা দেওয়া হবে।
রোববার সকাল ৮টায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের কড়াইল বস্তির এরশাদ মাঠে 'জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন ২০২৬' উদ্বোধন করবেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত। ডিএনসিসির ৫৪টি ওয়ার্ডের প্রতিটিতে তিনটি করে কেন্দ্র থাকবে।
তাদের লক্ষ্য ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী ৪ লাখ ৯৪ হাজার ৬৮৯ জন শিশুকে টিকা দেওয়া। এর মধ্যে ৬-৯ মাস বয়সী শিশু রয়েছে ৪৭ হাজার ৬৬৮ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা দক্ষিণে ৬ লাখ ৬৭ হাজার, ময়মনসিংহে ৬২ হাজার এবং বরিশালে ৪৫ হাজার শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।
হামের প্রাদুর্ভাব বাড়ায় গত ৫ এপ্রিল প্রথম ধাপে দেশের ১৮টি জেলার ৩০টি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ উপজেলায় জরুরি এই কার্যক্রম শুরু হয়।
শনিবার বিশ্ব পারকিনসন দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক সেমিনারে স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, 'গত ৪ বছর টিকাদান কর্মসূচিতে কিছুটা ছেদ পড়ায় বর্তমানে হামের এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করছে সরকার।'
তিনি জানান, গবেষক ও পরামর্শক দলের পরামর্শে রোববার থেকে ৫টি সিটি করপোরেশনে ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের টিকা দেওয়া শুরু হচ্ছে এবং দেশে টিকার কোনো ঘাটতি নেই।
আগে টিকা নিলেও কেন আবারও দিতে হবে?
আগে টিকা নেওয়া শিশুদেরও কেন এই ক্যাম্পেইনে টিকা দিতে হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আবু সাঈদ শিমুল জানান, শুধু টিকা নিলেই সবার শরীরে সংক্রমণ প্রতিরোধের জন্য পর্যাপ্ত সুরক্ষা তৈরি হয় না। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার এই ঘাটতি পূরণের জন্যই অতিরিক্ত ডোজটি প্রয়োজন।
তিনি ব্যাখ্যা করেন, হাম অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ। একজন আক্রান্ত ব্যক্তি ১২-১৮ জনের মধ্যে ভাইরাস ছড়াতে পারে। এটি ঠেকাতে ৯৫ শতাংশের বেশি 'হার্ড ইমিউনিটি' বা গোষ্ঠীগত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা প্রয়োজন। এমনকি ৯৫ শতাংশ শিশুকে টিকা দিলেও কার্যকর সুরক্ষা পাওয়া শিশুর সংখ্যা এর চেয়ে কম হতে পারে।
ডা. শিমুল বলেন, সম্পূরক এই টিকাদান কার্যক্রম রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ঘাটতি দ্রুত পূরণ করে এবং সংক্রমণের শৃঙ্খল ভাঙতে সাহায্য করে। যারা আগে দুই ডোজ টিকা পেয়েছে, তাদের জন্যও এই অতিরিক্ত ডোজ সম্পূর্ণ নিরাপদ ও উপকারী। হাম নিয়ন্ত্রণে আনতে অন্তত ৯৫ শতাংশ কার্যকর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অর্জন করা অত্যন্ত জরুরি।
২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে আরও দুজনের মৃত্যু
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, শনিবার (১১ এপ্রিল) সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে এক শিশু ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরেক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
এ সময়ে ৮৮৮ জন উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং ৮০ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।
চলতি বছর দেশে হামে নিশ্চিতভাবে ২৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে আরও ১৪৫ শিশু।
গত ১৫ মার্চ থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত পরীক্ষাগারে ২ হাজার ৪৮৯ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে।
দেশজুড়ে মোট ১৪ হাজার ৩৮৫ জন সন্দেহভাজন হামের রোগী শনাক্ত হলেও চিকিৎসা শেষে ৯ হাজার ৪৬৩ জন হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছেন।
