ফের হামলা হলে ‘সংযম না দেখানোর’ হুঁশিয়ারি তেহরানের, ইরানের বিরুদ্ধে লড়তে আরও যুদ্ধজাহাজ-সেনা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার আজ (২০ মার্চ) ২১তম দিন। হামলার প্রথম দিন গত ২৮ ফেব্রুয়ারিতেই দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ অন্তত ৪০ জন শীর্ষ নেতা নিহত হন। এর জবাবে প্রতিশোধমূলক হামলা শুরু করেছে ইরান। দেশটি ইরাক, কুয়েত, বাহরাইন ও সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় অঞ্চলের যেসব দেশে মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে, সেগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে ইসরায়েলের বিভিন্ন শহরেও হামলা হচ্ছে। এতে সংঘাত ধীরে ধীরে পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের বিমান হামলায় আইআরজিসি মুখপাত্র নিহত
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলায় ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) মুখপাত্র ও জনসংযোগ কর্মকর্তা আলী মহম্মদ নাইনি নিহত হয়েছেন। ইরানি সংবাদমাধ্যমের বরাতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
আইআরজিসি-সংশ্লিষ্ট সংবাদ সংস্থা ফারস নিউজ জানিয়েছে, নাইনি দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে এই বাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। গত দুই বছর ধরে তিনি আইআরজিসি-র প্রধান মুখপাত্র হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
এখনও পুরোদমে ক্ষেপণাস্ত্র বানাচ্ছে ইরান: আইআরজিসি
তেহরানের আর ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সক্ষমতা নেই বলে দাবি করেছিলেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তার সেই দাবি উড়িয়ে দিয়েছে ইরানের আধা-সামরিক বাহিনী রেভোল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। বাহিনীর একজন মুখপাত্র স্পষ্ট জানিয়েছেন, তেহরান এখনও পুরোদমে ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করে চলেছে।
শুক্রবার দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদপত্র 'ইরান'-এর এক প্রতিবেদনে আইআরজিসি মুখপাত্র জেনারেল আলি মহম্মদ নাইনির এই মন্তব্য উদ্ধৃত করা হয়েছে।
নাইনি বলেন, 'আমাদের ক্ষেপণাস্ত্র শিল্পের স্কোর একেবারে ২০-এ ২০। এ নিয়ে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই। দুর্দান্ত বিষয় হলো, এই যুদ্ধাবস্থার মধ্যেও আমরা ক্ষেপণাস্ত্র বানিয়ে চলেছি এবং সেগুলো মজুত করতেও আমাদের কোনো রকম সমস্যা হচ্ছে না।'
হরমুজ প্রণালী সচল করতে 'যথাযথ প্রচেষ্টায়' যোগ দেবে জাপান, যুক্তরাজ্যসহ ৬ দেশ
ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের জেরে উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে হামলার ঘটনায় বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের দাম আকাশচুম্বী হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছে ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশ ও জাপান।
বৃহস্পতিবার ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস এবং জাপানের নেতারা একটি যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন। সেখানে তারা কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পণ্যবাহী জাহাজের 'নিরাপদ চলাচল' নিশ্চিত করতে সব ধরণের 'যথাযথ প্রচেষ্টায়' অবদান রাখার জন্য নিজেদের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন।
তারা এই প্রচেষ্টার ধরন নিয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু না বললেও তেল ও গ্যাস স্থাপনাসহ সকল বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা অবিলম্বে বন্ধের জোর দাবি জানিয়েছেন।
ইরান যুদ্ধ ইস্যুতে নিরপেক্ষ অবস্থান শ্রীলঙ্কার
ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধের বিষয়ে নিরপেক্ষ অবস্থান নেওয়ার কথা জানিয়েছে শ্রীলঙ্কা। পক্ষপাতিত্বের অভিযোগও নাকচ করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েক।
ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সের্হিও গরের সঙ্গে বৈঠকের পর পার্লামেন্টে দেওয়া বক্তব্যে তিনি সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ওঠা সমালোচনার জবাব দেন।
তিনি বলেন, "কিছু পক্ষ বলছে আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি করেছি, তাই ইরানি জাহাজকে অনুমতি দিতে দেরি করেছি।"
তিনি আরও বলেন, "তারা বলছে আমরা পক্ষপাতদুষ্ট। কিন্তু বাস্তবে আমরা নিরপেক্ষ।"
দিসানায়েক জানান, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ই তাদের সামরিক বাহিনীর জাহাজ ভিড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছিল।
তিনি বলেন, "একটি নিরপেক্ষ দেশ হিসেবে আমরা দু'পক্ষকেই 'না' বলেছি। এটিই আমাদের নিরপেক্ষতা।"
ঈদে আল-আকসা মসজিদ বন্ধের নিন্দা জেরুজালেম গভর্নরেটের
অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে আল-আকসা মসজিদ বন্ধ রাখার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে জেরুজালেম গভর্নরেট। এতে ফিলিস্তিনিরা ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করতে পারেনি।
এক বিবৃতিতে গভর্নরেট জানায়, মুসলমানদের এই পবিত্র স্থাপনাটি বন্ধ রাখা "বিপজ্জনক ও নজিরবিহীন উত্তেজনা বৃদ্ধি" এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা ও পবিত্র নগরের বিদ্যমান আইনি ও ঐতিহাসিক অবস্থার স্পষ্ট লঙ্ঘন।
উপসাগরীয় দেশে খোলা স্থানে ঈদের জামাতে নিষেধাজ্ঞা
ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধের কারণে আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ায় উপসাগরীয় দেশগুলোতে এবার ঈদুল ফিতরের নামাজ কেবল মসজিদের ভেতরে আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বড় আকারে খোলা মাঠে এবার ঈদের জামাত হবে না।
কাতার, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, মুসল্লিদের প্রচলিত খোলা ঈদগাহে একত্রিত না হতে বলা হয়েছে, যেখানে সাধারণত হাজারো মানুষ ঈদের নামাজ আদায় করে।
কর্মকর্তারা জানান, চলমান সংঘাত ও ইরানের হামলার প্রেক্ষাপটে জনসমাগমের বিষয়টি নতুন করে মূল্যায়নের অংশ হিসেবে এই সতর্কতামূলক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
দুবাই থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক জেইন বাসরাভি বলেন, খোলা স্থানে জমায়েতে এই বিধিনিষেধ মুসলিম দেশগুলোর প্রচলিত রীতির ব্যতিক্রম। চলমান যুদ্ধ কীভাবে মানুষের দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলছে, তারই একটি উদাহরণ এটি।
ড্রোন হামলার পর আল-আহমাদি শোধনাগারের অংশবিশেষ বন্ধ করল কুয়েত
ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর কুয়েতের মিনা আল-আহমাদি তেল শোধনাগারের একটি ইউনিটে আগুন নেভাতে কাজ করছে কুয়েত পেট্রোলিয়াম করপোরেশন।
শুক্রবার সংস্থাটি জানায়, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে শোধনাগারের কিছু অংশ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
এক বিবৃতিতে বলা হয়, "কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি এবং নির্ধারিত নিরাপত্তা মানদণ্ড মেনে জরুরি সেবা দল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।"
সংযুক্ত আরব আমিরাতের জন্য আরও ৭০০ কোটি ডলারের অস্ত্র অনুমোদন যুক্তরাষ্ট্রের
সংযুক্ত আরব আমিরাতের জন্য ট্রাম্প প্রশাসন প্রায় ৭০০ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে বলে জানিয়েছে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র রপ্তানি সংক্রান্ত নিয়ম অনুযায়ী এসব চুক্তি জনসমক্ষে ঘোষণা করার বাধ্যবাধকতা নেই।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আগে একই দিনে মধ্যপ্রাচ্যের তিনটি দেশের কাছে ১৬৫০ কোটি ডলারের বেশি মূল্যের অস্ত্র বিক্রির ঘোষণার পর এই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে জার্নাল জানায়, অঘোষিত এসব চুক্তির মধ্যে রয়েছে প্রায় ৫৬০ কোটি ডলারের প্যাট্রিয়ট পিএসি-৩ ক্ষেপণাস্ত্র এবং প্রায় ১৩২ কোটি ডলারের সিএইচ-৪৭ চিনুক হেলিকপ্টার বিক্রি।
কর্মকর্তারা জানান, এসব বিক্রি আগে করা চুক্তির সম্প্রসারণ হওয়ায় সেগুলো জনসমক্ষে ঘোষণা করা হয়নি।
কুয়েতের মিনা আল-আহমাদি তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলা
কুয়েত পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের মিনা আল-আহমাদি তেল শোধনাগারে ভোরে একাধিক ড্রোন হামলা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।
শুক্রবার কুয়েত নিউজ এজেন্সি জানায়, হামলায় শোধনাগারের কয়েকটি ইউনিটে আগুন লাগে এবং কিছু ইউনিট বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিস ও জরুরি সেবা কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন।
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে আরও যুদ্ধজাহাজ ও সেনা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র: প্রতিবেদন
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম নিউজম্যাক্স জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে লড়াইরত বাহিনীকে শক্তিশালী করতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী কয়েকটি যুদ্ধজাহাজের সঙ্গে প্রায় ৪ হাজার মেরিন ও নৌসদস্য পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। চারজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তার বরাতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূল থেকে মোতায়েন করা হচ্ছে 'বক্সার অ্যামফিবিয়াস রেডি গ্রুপ'। এতে রয়েছে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র এবং উভচর যান-যা স্থল আক্রমণ পরিচালনায় ব্যবহৃত হতে পারে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় ২ হাজার ৫০০ মেরিন এবং ইউএসএস ট্রিপোলি নামের একটি অ্যামফিবিয়াস অ্যাসল্ট জাহাজ পাঠিয়েছে।
ইরানে নিহতের সংখ্যা ৩,১০০ ছাড়াল: মানবাধিকার সংস্থা
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সির তথ্যমতে, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ইরানে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩ হাজার ১৮৬ জনে পৌঁছেছে।
সংস্থাটির তথ্যানুযায়ী, নিহতদের মধ্যে ১ হাজার ৩৯৪ জন বেসামরিক নাগরিক, যার মধ্যে অন্তত ২১০ জন শিশু রয়েছে।
এ ছাড়া ১ হাজার ১৫৩ জনকে সামরিক সদস্য হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে, আর ৬৩৯ জনের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।
সরবরাহ ব্যাহত হতে থাকলে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৮০ ডলার ছাড়াতে পারে: সৌদি আরব
হরমুজ প্রণালিতে এপ্রিলের শেষ পর্যন্ত উত্তেজনা চলতে থাকলে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৮০ ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে মনে করছেন সৌদি আরবের কর্মকর্তারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তেলের দামে ব্যাপক ওঠানামা দেখা গেছে। বৃহস্পতিবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম সাময়িকভাবে ব্যারেলপ্রতি ১১৯ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছালেও পরে তা কমে আসে।
রিয়াদের কিং ফয়সাল সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজের সৌদি পররাষ্ট্রনীতি বিশেষজ্ঞ উমের করিম আল জাজিরাকে বলেন, যুদ্ধের অগ্রগতির ওপর নির্ভর করে ব্যারেলপ্রতি অন্তত ১৫০ ডলার পর্যন্ত দাম ওঠা সম্ভব।
তিনি বলেন, "যদি লোহিত সাগরের টার্মিনালগুলোতে হামলা হয়—অথবা সেখানে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়—তাহলে ১৫০ ডলারের বেশি দাম হওয়াটা খুবই সম্ভব। বর্তমানে ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে এটিই একমাত্র কার্যকর সংযোগ।"
সৌদি আরব লোহিত সাগরের তীরবর্তী ইয়ানবু বন্দরে অবস্থিত স্থাপনাগুলোর মাধ্যমে তেল রপ্তানি চালিয়ে যেতে পারছে। এই বন্দরটি উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে প্রায় ১,০০০ কিলোমিটার দূরে।
তবে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে ইরান ও ইসরায়েলের হামলার প্রেক্ষাপটে ইয়ানবু বন্দরও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে।
পারস্য নববর্ষের শুরুতেই ইরানে বিমান হামলা অব্যাহত
ইরানি বর্ষপঞ্জির শেষ দিনে রাজধানী তেহরানজুড়ে একাধিক হামলার খবর পাওয়া গেছে। রাতভর পূর্বাঞ্চল থেকে শহরের কেন্দ্র পর্যন্ত অন্তত পাঁচটি হামলা হয়েছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে একটি হামলা পারচিন সামরিক কমপ্লেক্সে আঘাত হানে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী—যদিও এখনো নিশ্চিত করা হয়নি—আরেকটি হামলা শহরের কেন্দ্রের একটি এলাকায় হয়েছে। তেহরানের আকাশে একাধিকবার বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়।
এদিকে, একই সময়ে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস এবং সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, তারা ইসরায়েলের দিকে কয়েক দফা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
এছাড়া, ইরানের আকাশসীমায় একটি মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি এবং দিনে আকাশপথে চার লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার কথাও জানানো হয়েছে।
সব মিলিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ।
তেহরানকে লক্ষ্য করে 'ব্যাপক' হামলা: ইসরায়েল
ইরানের রাজধানী তেহরানে 'ব্যাপক মাত্রায়' হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফার্সি ভাষার অ্যাকাউন্টে একটি পোস্টে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বলেছে, তেহরানের 'সন্ত্রাসবাদী অবকাঠামো' তাদের মূল টার্গেট। তবে এই দাবির সপক্ষে বিস্তারিত কোনো তথ্য বা প্রমাণ তারা দেয়নি।
এর কয়েক ঘণ্টা আগেই ইসরায়েলি বিমানবাহিনী জানিয়েছিল, গত ২৪ ঘণ্টায় ইরানে কয়েক ডজন বিমান হামলা চালানো হয়েছে। পশ্চিম ও মধ্য ইরানের ১৩০টিরও বেশি 'অবকাঠামোগত' লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, 'লাগাতার হামলা চালিয়ে যাচ্ছে বিমানবাহিনী।'
ইরানের হামলার পর বাহরাইনে গুদামে আগুন
বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, "ইরানি আগ্রাসন" থেকে সৃষ্ট ছিটকে পড়া ধ্বংসাবশেষের কারণে একটি কোম্পানির গুদামে আগুন লাগে।
মন্ত্রণালয় জানায়, দমকল কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছেন এবং এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
তবে এই হামলায় ইরান ড্রোন নাকি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছিল, সে বিষয়ে কিছু জানায়নি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
ইসরায়েলের হাইফার তেল শোধনাগারে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
ইসরায়েল জানিয়েছে, দেশটির উত্তরের শহর হাইফার একটি তেল শোধনাগারে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। তবে এতে উল্লেখযোগ্য কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলার প্রতিক্রিয়ায় তেহরান মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে ইসরায়েলের জ্বালানিমন্ত্রী এলি কোহেন বলেন, অয়েল রিফাইনারিজ লিমিটেড স্থাপনায় হামলার কারণে সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হয়েছিল, তবে পরে তা দ্রুতই সামলে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
তিনি বলেন, "উত্তরের বিদ্যুৎ গ্রিডে ক্ষতি সীমিত এবং তেমন গুরুতর নয়।"
আরও বলেন, "উত্তরের দিকে চালানো হামলায় ইসরায়েলের অবকাঠামোতে উল্লেখযোগ্য কোনো ক্ষতি হয়নি।"
গত মাসের শেষ দিকে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে তেহরান মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ধারাবাহিকভাবে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে।
চলতি সপ্তাহে বুধবার ইসরায়েল ইরানের সাউথ পার্স অফশোর গ্যাসক্ষেত্রে হামলা চালানোর জবাবে তেহরান উপসাগরীয় অঞ্চলের বেশ কয়েকটি তেল ও গ্যাস স্থাপনায় হামলা চালায়।
অবকাঠামোতে ফের হামলা হলে কোনো সংযম দেখাবেনা ইরান
ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় আবারও হামলা হলে 'শূন্য সংযম' (জিরো টলারেন্স) দেখানো হবে বলে সতর্ক করেছে দেশটি। ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে ইসরায়েলি হামলার একদিন পর এই হুঁশিয়ারি দিল তেহরান।
সাউথ পার্সে হামলার প্রতিশোধ হিসেবে উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন জ্বালানি স্থাপনায় ইতোমধ্যেই ব্যাপক হামলা চালিয়েছে ইরান।
বৃহস্পতিবার এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, "আমাদের অবকাঠামোর ওপর ইসরায়েলের হামলার জবাবে আমরা আমাদের শক্তির সামান্য অংশ ব্যবহার করেছি। সংযম দেখানোর একমাত্র কারণ ছিল উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বানের প্রতি সম্মান।"
তিনি আরও বলেন, "আমাদের অবকাঠামোতে আবার হামলা হলে কোনো সংযম দেখানো হবে না।"
সাউথ পার্স ইরানের অভ্যন্তরীণ গ্যাস সরবরাহের সবচেয়ে বড় উৎস—যা দেশটির প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদার প্রায় ৮০ শতাংশ পূরণ করে।
এরই মধ্যে কাতার তাদের রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটি এলাকায় ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়ন চালিয়ে যাচ্ছে। ইরানের হামলার পর এই এলাকায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এখানেই বিশ্বের মোট তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় ২০ শতাংশ প্রক্রিয়াজাত করা হয়।
কাতারএনার্জির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার মতে, এই হামলায় কাতারের এলএনজি রপ্তানি সক্ষমতার প্রায় ১৭ শতাংশ নষ্ট হয়েছে। এতে বছরে আনুমানিক ২০ বিলিয়ন ডলারের রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে এবং ইউরোপ ও এশিয়ায় সরবরাহও হুমকির মুখে পড়েছে।
