ন্যাশনাল ব্যাংক থেকে ৯০৩ কোটি টাকা আত্মসাৎ: ২৬ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলার সিদ্ধান্ত
ভুয়া রেকর্ডপত্র ও জাল-জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে পরস্পর যোগসাজশে ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেড থেকে ৯০৩ কোটি ৬৭ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
আজ রোববার (৪ জানুয়ারি) দুদকের মহাপরিচালক আকতার হোসেন সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, আসামিরা ক্ষমতার অপব্যবহার ও অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের মাধ্যমে একটি ভুয়া 'সিভিল ওয়ার্কস কন্ট্রাক্ট এগ্রিমেন্ট' দাখিল করে ব্যাংক থেকে প্রথমে ৬০০ কোটি টাকা ঋণ অনুমোদন ও উত্তোলন করেন। পরবর্তীতে ঋণের এই অর্থ নগদ, পে-অর্ডার ও ক্লিয়ারিংয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন স্তরে স্থানান্তর, রূপান্তর ও হস্তান্তরের মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়।
দুদকের হিসাব অনুযায়ী, আত্মসাৎকৃত ঋণের আসল ৬০০ কোটি টাকা। এর সঙ্গে ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অনাদায়ী সুদ ও অন্যান্য চার্জ বাবদ আরও ৩০৩ কোটি ৬৭ লাখ ২ হাজার ৬২১ টাকা যোগ হয়ে মোট ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯০৩ কোটি ৬৭ লাখ ২ হাজার ৬২১ টাকা।
এ ঘটনায় দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারা ছাড়াও ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ধারায় মামলা রুজুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।
মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ব্লুম সাকসেস ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহমেদ জালাল খান মজলিশ ও পরিচালক খাদিজা আক্তার। ব্যাংক কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন ন্যাশনাল ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক চৌধুরী মোসতাক আহমেদ (সি এম আহমেদ), সাবেক সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও দিলকুশা শাখার ব্যবস্থাপক মো. হাবিবুর রহমান এবং গুলশান শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক ও ডিএমডি (অবসরপ্রাপ্ত) আরীফ মো. শহীদুল হক।
এছাড়া ন্যাশনাল ব্যাংকের সাবেক ও বর্তমান শীর্ষ কর্মকর্তা, পরিচালনা পর্ষদের সাবেক ও বর্তমান পরিচালক এবং বিভিন্ন ঠিকাদারি ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের মালিকসহ মোট ২৬ জনকে এ মামলায় আসামি করা হচ্ছে।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ভুয়া নথিপত্র তৈরি করেন এবং কোনো যাচাই-বাছাই ছাড়াই বিপুল অঙ্কের এই ঋণ অনুমোদন করেন। ঋণের নামে ব্যাংকের এই অর্থ আত্মসাতের ঘটনাকে আর্থিক খাতে একটি গুরুতর অনিয়ম ও অপরাধ হিসেবে অভিহিত করেছে দুদক।
