আলোচনায় তারেক রহমানকে বহনকারী লাল-সবুজে মোড়া বুলেটপ্রুফ বাস
দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে একটি লাল–সবুজ রঙের বুলেটপ্রুফ বাস। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিরাপত্তার লক্ষ্যে দলের পক্ষ থেকে বিশেষভাবে প্রস্তুত এই বাসটি কেনা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বুলেটপ্রুফ বাসের ব্যবহার নতুন কিছু নয়। বিশ্বের ক্ষমতাধর দেশগুলোতে নির্বাচনী প্রচারণা ও রাজনৈতিক জনসংযোগে বুলেটপ্রুফ বাস ব্যবহারের নজির রয়েছে। তবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এর আগে বুলেটপ্রুফ বাস ব্যবহারের কোনো তথ্য জানা যায়নি। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই এই বাসটি আনা হয়েছে।
বিশেষভাবে প্রস্তুত এই বাসটি লাল ও সবুজ রঙে সজ্জিত করা হয়েছে। বাসটির গায়ে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বড় আকারের প্রতিকৃতি রয়েছে। একই সঙ্গে বাসের গায়ে লেখা রয়েছে তারেক রহমানের দেওয়া স্লোগান—'সবার আগে বাংলাদেশ'।
হিনো মোটরসের তৈরি এই মিনিবাসটি জাপান থেকে আমদানি করা হয়েছে। আমদানির বিল অব এন্ট্রির নথি অনুযায়ী, আমদানিকারক গাড়িটির মূল্য ঘোষণা করেছে ১ লাখ ৫ হাজার মার্কিন ডলার। তবে সরকার গাড়িটির মূল্য নির্ধারণ করেছে ১ লাখ ৩০ হাজার ৭০৪ মার্কিন ডলার ধরে। সেই অনুযায়ী আমদানি শুল্ক ও কর বাবদ গাড়িটির জন্য পরিশোধ করতে হয়েছে ৫৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭১ টাকা।
বাসটিতে বর্তমানে ১৫টি সিট রয়েছে। প্রয়োজনে সিটের সংখ্যা বাড়ানো যাবে। তবে সর্বোচ্চ ৪০টির বেশি সিট সংযোজন করা যাবে না।
রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও দলীয় প্রধানের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে পুরো বাসটিকেই বুলেটপ্রুফ করা হয়েছে। বাসটির জানালায় ব্যবহার করা হয়েছে বিশেষ শক্তিশালী বুলেটপ্রুফ কাচ, যা যেকোনো ধরনের বাহ্যিক হামলা বা বিস্ফোরণ থেকে আরোহীদের সুরক্ষা দিতে সক্ষম। বাসটির ভেতরের অংশ একটি আধুনিক অফিস কক্ষের মতো উন্নত করা হয়েছে। বাসে বসেই মিটিং করা যাবে। একই সঙ্গে এটি একটি চলন্ত মঞ্চ হিসেবেও ব্যবহার করা সম্ভব। বাসের বিশেষ কাচের পাশে দাঁড়িয়ে নেতাকর্মীদের অভিবাদন গ্রহণ করার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
এই বুলেটপ্রুফ বাসে চড়েই নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় অংশ নেবেন তারেক রহমান। দলটির একটি সূত্র জানায়, তারেক রহমানের জন্য একটি বুলেটপ্রুফ বাসের পাশাপাশি একটি জিপও কেনা হয়েছে। গাড়ি দুটি ইতোমধ্যে তারেক রহমান ব্যবহার করছেন। এসব গাড়িতে করেই তিনি সারা দেশে নির্বাচনী জনসংযোগে অংশ নেবেন। তারেক রহমানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা চিন্তা করেই এই যানবাহনগুলো কেনা হয়েছে।
গত ২৫ ডিসেম্বর প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে আসে লাল–সবুজ বুলেটপ্রুফ বাসটি। সেদিন দেশে ফিরে এই বাসে করেই বিমানবন্দর থেকে ৩০০ ফিট এলাকায় সংবর্ধনা মঞ্চে যান তারেক রহমান। সেখান থেকে তিনি রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে দেখতে যান এবং পরে গুলশানের বাসভবনে যান।
পরদিন ২৬ ডিসেম্বরও বুলেটপ্রুফ বাসটি তারেক রহমানের সফরসঙ্গী হয়। ওই দিন তিনি শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে জিয়ারত করেন। এরপর মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে যান।
