গ্রিনল্যান্ড কিনতে যুক্তরাষ্ট্রের খরচ হতে পারে ৭০০ বিলিয়ন ডলার; ৮০ শতাংশ আমেরিকানই কিনতে চায় না
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড কেনার লক্ষ্য পূরণ করতে যুক্তরাষ্ট্রের ৭০০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত খরচ হতে পারে। এ বিষয়ে অবগত তিন ব্যক্তি এ তথ্য জানিয়েছে।
এই হিসাবটি তৈরি করেছেন শিক্ষাবিদ ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তারা। আর্কটিক অঞ্চলে আমেরিকার প্রধান শত্রুদের বিরুদ্ধে কৌশলগত রক্ষাকবচ হিসেবে ৮ লাখ বর্গমাইলের এই দ্বীপটি অর্জনের যে আকাঙ্ক্ষা ট্রাম্পের রয়েছে, এটি তারই পরিকল্পনার অংশ। এই মূল্যতালিকাটি ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা অগ্রাধিকারের সঙ্গে যুক্ত প্রতিরক্ষা দপ্তরের বার্ষিক বাজেটের অর্ধেকেরও বেশি। ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট ও তার স্ত্রীকে আটক করতে মার্কিন সামরিক অভিযানের নির্দেশ দেওয়ার পর থেকে গ্রিনল্যান্ড দখলের বিষয়ে তার আচরণ ইউরোপ এবং ক্যাপিটল হিল জুড়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে।
ডেনমার্ক রাজ্যের অর্ধ-স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয়। যুক্তরাষ্ট্র 'যেভাবেই হোক' গ্রিনল্যান্ড দখল করবে—প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন দাবিকে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের কর্মকর্তারা প্রত্যাখ্যান করেছেন। তবে হোয়াইট হাউসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে গ্রিনল্যান্ড কেনার একটি প্রস্তাব তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এবং ট্রাম্প এই পরিকল্পনাকে 'উচ্চ অগ্রাধিকার' হিসেবে দেখছেন।
বুধবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের কর্মকর্তাদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ট্রাম্পের উদ্দেশ্য ও প্রস্তাব সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পেতেই তারা ওয়াশিংটনে সফর করছেন। এর আগে গত সপ্তাহে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে হোয়াইট হাউসের ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের নিম্নপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
গ্রিনল্যান্ড কোনো প্রস্তাব দিতে পারে কি না—রোববার সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, 'আমি তাদের সঙ্গে একটা চুক্তি করতে চাই। এটা সহজ হবে। কিন্তু কোনো না কোনোভাবে আমরা গ্রিনল্যান্ড পাবোই।'
বুধবারের বৈঠকের কয়েক ঘণ্টা আগে গ্রিনল্যান্ড সরকারের পক্ষ থেকে একই বার্তা পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে পৌঁছে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিভিয়ান মোৎজফেল্ড বলেন, 'গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন হতে চায় না, তাদের দ্বারা শাসিত হতে চায় না কিংবা তাদের অংশ হতেও চায় না। আমরা আজ গ্রিনল্যান্ডকে যেভাবে চিনি—অর্থাৎ ডেনমার্ক রাজ্যের অংশ হিসেবে—তাকেই বেছে নিচ্ছি।'
গ্রিনল্যান্ডের ব্যবসা ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী নাজা নাথানিয়েলসেন মঙ্গলবার বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আসা বার্তাগুলো গ্রিনল্যান্ডবাসীদের মধ্যে এতটাই উদ্বেগের সৃষ্টি করছে যে তাদের ঘুমাতেও কষ্ট হচ্ছে।
লন্ডনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নাথানিয়েলসেন বলেন, 'এটি (যুক্তরাষ্ট্রের চাপ) সত্যিই প্রতিটি ঘরের আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা এক বিশাল চাপের মধ্যে রয়েছি এবং মানুষ এর প্রভাব অনুভব করছে।'
উদ্বেগ থাকা সত্ত্বেও নাথানিয়েলসেন বলেন, 'আমাদের আমেরিকান হওয়ার কোনো ইচ্ছা নেই।'
এই বিষয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক মার্কিন কর্মকর্তার মতে, দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান চুক্তির অধীনেই যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডে আরও সেনা মোতায়েন করা হতে পারে এবং সেখানে তাদের সামরিক ও নিরাপত্তা সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে পারে।
ওই কর্মকর্তা বলেন, 'যখন তারা আপনার কাছে তুলনামূলক ভালো দামে দুধ বিক্রি করছে, তখন গরুটি দখল করার প্রয়োজন কী?'
যদিও ট্রাম্প প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা বলেছেন যে ৫৭ হাজার বাসিন্দার এই দ্বীপটি দখল করতে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক শক্তি ব্যবহার করতে পারে, তবে প্রশাসনের অন্য কিছু কর্মকর্তা এবং হোয়াইট হাউসের বাইরের মিত্ররা মনে করেন, গ্রিনল্যান্ড কেনার চেয়ে এর সঙ্গে নতুন কৌশলগত জোট গঠন করাই বেশি সম্ভাবনাময় উপায়।
বিবেচনায় থাকা আরেকটি বিকল্পের মধ্যে রয়েছে গ্রিনল্যান্ডের সাথে একটি 'কম্প্যাক্ট অফ ফ্রি অ্যাসোসিয়েশন' বা মুক্ত সংশ্লিষ্টতার চুক্তি গঠন করা; যে চুক্তির আওতায় সেখানে নিরাপত্তা বজায় রাখার বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র আর্থিক সহায়তা প্রদান করবে বলে এনবিসি নিউজ জানিয়েছে। ইতোমধ্যে মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ প্রজাতন্ত্র, মাইক্রোনেশিয়ার ফেডারেটেড স্টেটস এবং পালাউ প্রজাতন্ত্রের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের একই ধরনের চুক্তি রয়েছে।
গ্রিনল্যান্ডকে এই তালিকায় যুক্ত করা হলে পশ্চিম গোলার্ধে মার্কিন আধিপত্য বিস্তারে ট্রাম্পের বিস্তৃত পরিকল্পনার কিছুটা পূরণ হতে পারে এবং এটি গ্রিনল্যান্ড কেনার জন্য অনুমিত ৫০০ বিলিয়ন থেকে ৭০০ বিলিয়ন ডলারের চেয়ে কম ব্যয়বহুল হতে পারে।
১৯১৬ সালের চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ডেনমার্কের কাছ থেকে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ কিনতে রাজি হয়েছিল এবং বিনিময়ে এটি স্বীকার করেছিল যে পুরো গ্রিনল্যান্ডের ওপর ডেনমার্ক সরকারের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ বজায় রাখার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র 'কোনো আপত্তি জানাবে না'।
ট্রাম্প বলেছেন যে তিনি গ্রিনল্যান্ডের ভূমির ওপর আরও বেশি অধিকার পেতে এটি দখল করতে চান। বিষয়টিকে তিনি একটি সম্পত্তি ইজারা নেওয়া বনাম মালিকানা পাওয়ার সাথে তুলনা করেছেন। মালিকানা পাওয়া গেলে গ্রিনল্যান্ড গুয়াম, আমেরিকান সামোয়া বা পুয়ের্তো রিকোর মতো একটি মার্কিন অঞ্চলে পরিণত হতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে দ্বীপটির সাথে ওয়াশিংটনের কৌশলগত সম্পর্ককে আরও সুসংহত করতে পারে।
এই বিষয়ের কিছু বিশেষজ্ঞ এবং সাবেক মার্কিন কর্মকর্তাদের সংসদীয় সাক্ষ্য অনুযায়ী—গ্রিনল্যান্ড দখলের বিষয়ে ট্রাম্পের এই আকাঙ্ক্ষা আংশিকভাবে এই উদ্বেগ থেকে তৈরি হয়েছে যে, দ্বীপটির বাসিন্দারা স্বাধীনতা চাইতে পারে। আর তারা সফল হলে দ্বীপটির ২৭ হাজার মাইল দীর্ঘ উপকূলরেখা রাশিয়া বা চীনের মতো শত্রুপক্ষের হাতে চলে যেতে পারে।
তবে গ্রিনল্যান্ডবাসী বিশাল ব্যবধানে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হওয়ার ধারণাটি প্রত্যাখ্যান করেছে। গত বছরের একটি স্বাধীন জনমত জরিপ অনুযায়ী, প্রায় ৮৫ শতাংশ মানুষ এই ধারণাটি নাকচ করে দিয়েছে।
সাবেক আবাসন ব্যবসায়ী ট্রাম্প দীর্ঘকাল ধরেই গ্রিনল্যান্ডের ওপর নজর রাখছেন। তার মতে, উত্তর মেরু বা আর্কটিক সার্কেলে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্রের এটি প্রয়োজন এবং তারা এটি দখলের বিষয়টি বিবেচনা করবে। ট্রাম্প যখন প্রথম মেয়াদে দ্বীপটি কেনার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন, তখন তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীরাও বিষয়টিকে খুব একটা গুরুত্ব দেননি।
তবে তার দ্বিতীয় মেয়াদে পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে বদলে গেছে। গ্রিনল্যান্ড নিয়ে তার এই পরিকল্পনা এখন তার প্রশাসনের ভেতরে এবং আমেরিকার মিত্র দেশগুলোর কাছে অনেক বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। গত জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ট্রাম্প এ বিষয়ে প্রকাশ্য তৎপরতা শুরু করেন। ডিসেম্বরে তিনি লুইজিয়ানার গভর্নর জেফ ল্যান্ড্রিকে গ্রিনল্যান্ড বিষয়ক বিশেষ দূত হিসেবে নিয়োগ দেন, যা ডেনমার্ক এবং গ্রিনল্যান্ডের কর্মকর্তাদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ জাগিয়ে তুলেছে।
বর্তমানে ইউরোপ এবং যুক্তরাষ্ট্রে এক ধরণের ক্রমবর্ধমান ধারণা তৈরি হয়েছে। পশ্চিম গোলার্ধে মার্কিন প্রভাব বিস্তারের লক্ষ্যে ট্রাম্প তার গ্রিনল্যান্ড দখলের আকাঙ্ক্ষায় কিছুটা হলেও সফল হবেন। এখন প্রশ্ন হলো পদ্ধতিটি কী হবে—অর্থনৈতিক জবরদস্তি, কূটনীতি নাকি সামরিক শক্তি—এবং এর সীমা কতদূর?
একটি নির্দলীয় থিঙ্ক ট্যাঙ্ক 'জার্মান মার্শাল ফান্ড অফ দ্য ইউনাইটেড স্টেটস'-এর ফেলো ইয়ান লেসারের মতে, সামরিক শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনা জিইয়ে রেখে গ্রিনল্যান্ড দখলের বিষয়ে ট্রাম্পের এই হুমকি দেওয়ার উদ্দেশ্য হতে পারে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডকে আলোচনার টেবিলে বসতে বাধ্য করা; যাতে সেখানে যুক্তরাষ্ট্র আরও সুবিধাজনক অবস্থানে থাকতে পারে। তিনি বলেন, 'আমি এখনও মনে করি যে এই ইস্যুতে শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনা অত্যন্ত কম।'
তিনি আরও বলেন, 'এটি অপ্রয়োজনীয়। এর সার্থকতা কী? এটি ন্যাটো জোটের ভেতরে অকল্পনীয় উত্তেজনা তৈরি করবে এবং এমনকি এই জোটের সমাপ্তিও ঘটাতে পারে; আর আমার মনে হয় না যে ক্যাপিটল হিলের কেউ এসবের জন্য প্রেসিডেন্টকে সমর্থন করবেন।'
গ্রিনল্যান্ডের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের এই রণহুঙ্কার ক্যাপিটল হিলে বাধার মুখে পড়েছে। এমনকি তার কিছু রিপাবলিকান মিত্র—যারা ভেনিজুয়েলায় তার প্রশাসনের সামরিক অভিযানের প্রশংসা করেছিলেন—তারাও এই ক্ষেত্রে দ্বিমত পোষণ করছেন।
মঙ্গলবার, দুইপক্ষীয় (বাইপার্টিজান) এক সিনেটর জুটি একটি আইন প্রস্তাব উপস্থাপন করেছেন, যা ডিফেন্স ডিপার্টমেন্টকে কোনো ন্যাটো সদস্য রাষ্ট্রের অনুমতি ছাড়া বা নর্থ আটলান্টিক কাউন্সিলের (ন্যাটো-এর প্রধান রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী সংস্থা) অনুমোদন ছাড়া সেই রাষ্ট্রের সার্বভৌম এলাকায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে তহবিল ব্যবহার করতে বাধা দেবে। এটি গ্রিনল্যান্ড দখলের বিষয়ে ট্রাম্পের আচরণের বিরুদ্ধে বিরোধিতার একটি স্পষ্ট বার্তা।
গ্রিনল্যান্ডে পিটুফিক স্পেস বেসে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ছোট সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। গত বছর ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং তার স্ত্রী উষা ভ্যান্স ঘাঁটিটি পরিদর্শন করেন। এই ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের স্পেস ফোর্স ও অন্যান্য সামরিক কর্মীরা রাডার সিস্টেম পরিচালনা করেন, যা রাশিয়ার সম্ভাব্য আক্রমণের জন্য আগাম সতর্কবার্তা সরবরাহ করে। এছাড়াও, যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক নিয়মিতভাবে অঞ্চলের সামরিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্য ভাগাভাগি করে।
গ্রিনল্যান্ড দীর্ঘকাল ধরেই আরও বেশি মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন অথবা তাদের কৌশলগত সম্পদ—যার মধ্যে বিরল খনিজ উপাদান অন্তর্ভুক্ত—সেগুলো নিয়ে আলোচনার বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়ে আসছে।
ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন গত বছর বলেছিলেন, গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন সামরিক বাহিনীর জন্য 'আরও শক্তিশালী পদচিহ্ন নিশ্চিত করার উপায় খুঁজে বের করা সম্ভব'। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র 'ইতোমধ্যেই সেখানে আছে, এবং তাদের সামনে আরও সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে'। তবে ফ্রেডেরিকসেন সম্প্রতি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ড দখলের যেকোনো মার্কিন প্রচেষ্টা ন্যাটো জোটকে ধ্বংস করে দেবে, কারণ ডেনমার্ক এবং যুক্তরাষ্ট্র উভয়ই এর সদস্য।
গত সপ্তাহে ডেনমার্কসহ আমেরিকার ইউরোপীয় মিত্ররা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, তারা গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব এবং ভূখণ্ডের অখণ্ডতা রক্ষার জন্য প্রতিরক্ষা সহায়তা অব্যাহত রাখবে।
তারা বলেছে, 'গ্রিনল্যান্ড কেবল তার জনগণের।'
