সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের জমি-গাড়ি জব্দ, পিএস শফিকুলের ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ
দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ জব্দের (ক্রোক) নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তার একান্ত সচিব (পিএস) শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়ার ৬টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ (ফ্রিজ) করার আদেশ দেওয়া হয়েছে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পৃথক দুটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজ সোমবার (৫ জানুয়ারি) ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. সাব্বির ফয়েজ এই আদেশ দেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের জব্দকৃত সম্পদের মধ্যে রয়েছে তিনটি গাড়ি ও ৬ দশমিক ২২ একর জমি। জব্দ করা এসব সম্পদের আনুমানিক মূল্য ৬ কোটি ২৫ লাখ ৫৫ হাজার ৭৭৯ টাকা।
দুদকের উপপরিচালক জাহাঙ্গীর আলম আদালতে দাখিল করা আবেদনে উল্লেখ করেন, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক 'পাবলিক সার্ভেন্ট' হিসেবে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। তিনি অসাধু উপায়ে নিজের নামে এবং তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ ১৪৬ কোটি ১৯ লাখ ৭০ হাজার ৯৬ টাকার সম্পদের মালিকানা অর্জন করেছেন।
তদন্তকারী কর্মকর্তা আবেদনে আরও জানান, আনিসুল হকের ২৯টি ব্যাংক হিসাবে অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব হিসাবে মোট ৩৪৯ কোটি ১৫ লাখ ২১ হাজার ৫৮২ টাকা জমা এবং ৩১৬ কোটি ৪৮ লাখ ৮১ হাজার ৬০৮ টাকা উত্তোলনের প্রমাণ মিলেছে। তার বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই মামলা দায়ের করা হয়েছে। সম্পদগুলো জব্দ করা না হলে তা বিক্রি বা হস্তান্তর হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা রাষ্ট্রের জন্য অপূরণীয় ক্ষতির কারণ হতে পারে।
পিএস শফিকুলের ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ
এদিকে একই আদালতের আদেশে আনিসুল হকের একান্ত সচিব শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়ার ৬টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করা হয়েছে। এসব হিসাবে মোট ৫০ লাখ ১৪ হাজার ৮১৮ টাকা জমা রয়েছে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।
এর আগে দুদকের উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম আদালতে এই হিসাবগুলো অবরুদ্ধ করার আবেদন করেন। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগের অনুসন্ধান চলছে। এ লক্ষ্যে দুদকের একটি ছয় সদস্যবিশিষ্ট অনুসন্ধান টিমও গঠন করা হয়েছে।
অনুসন্ধান চলাকালে জানা গেছে যে শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া তার অপরাধলব্ধ অর্থ এসব ব্যাংক হিসাব থেকে উত্তোলন, স্থানান্তর বা বেহাত করার চেষ্টা করছেন। তাই হিসাবগুলো জরুরি ভিত্তিতে অবরুদ্ধ করা প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করে দুদক।
