দুই কমিশনারসহ দুদক চেয়ারম্যান আবদুল মোমেনের পদত্যাগ
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন এবং অন্য দুই কমিশনার আজ আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেছেন। জনস্বার্থে এবং নতুন সরকারের প্রত্যাশাকে সম্মান জানিয়ে তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
পদত্যাগকারী কমিশনের অপর দুই সদস্য হলেন অবসরপ্রাপ্ত জেলা জজ মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী (তদন্ত) এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাফিজ আহসান ফরিদ (অনুসন্ধান)।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) দুপুরে দুদক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন চেয়ারম্যান ড. আবদুল মোমেন।
এর আগে দুপুর আনুমানিক ২টা ৪৫ মিনিটে তারা সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সঙ্গে বৈঠক করেন এবং তার কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। পরে বিকাল ৩টায় পৃথক গাড়িতে করে তারা দুদক কার্যালয়ে ফিরে আসেন।
পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করে চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন বলেন, 'পদত্যাগের পেছনে বিশেষ কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ নেই। নতুন নির্বাচিত সরকারের একটি প্রত্যাশা থাকে এবং সেই প্রত্যাশা পূরণ করার জন্য সরকার আমাদের চেয়ে অধিকতর যোগ্য কমিশন এখানে স্থাপন করবেন। এতে দুদক যেমন ভালো হবে, রাষ্ট্রেরও উপকার হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।'
দুদকের কার্যকারিতা বা 'নখদন্ত' থাকা না থাকা এবং বিগত দিনের কার্যক্রম নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে চেয়ারম্যান বলেন, 'আমাদের সময়ে কমিশন কতটা কার্যকর ছিল তা বিচার করার দায়িত্ব জনগণের। প্রতিটি সরকারের একটি ম্যান্ডেট বা ইশতেহার থাকে এবং সরকার সেই অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেয়।'
এদিকে কমিশনার (তদন্ত) মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী সাংবাদিকদের জানান, তিনি ব্যক্তিগত কারণে পদত্যাগ করেছেন এবং বিধি অনুযায়ী সরকারকে এক মাসের নোটিশ দিয়েছেন।
দুদক আইন অনুযায়ী, কমিশনের চেয়ারম্যান বা কোনো কমিশনার ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে যেকোনো সময় পদত্যাগ করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির উদ্দেশে লেখা পদত্যাগপত্র অন্তত এক মাস আগে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাধ্যমে জমা দিতে হয়। রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর এই পদত্যাগপত্র কার্যকর হয়।
উল্লেখ্য, ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন ২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর পাঁচ বছরের মেয়াদে দুদক চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পান। এর আগে তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
একই প্রজ্ঞাপনে মিঞা মুহাম্মদ আলী আকবর আজিজী ও অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হাফিজ আহসান ফরিদকে কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। আজিজী ১১ ডিসেম্বর এবং হাফিজ আহসান ফরিদ ১৫ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। তিন মাসের মাথায় তারা সশরীরে পদত্যাগপত্র জমা দিলেন।
