যুদ্ধ 'শিগগিরই' শেষ হবে, ইরানে হামলা করার মতো 'কার্যত আর কিছুই বাকি নেই': ট্রাম্প
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার আজ (১১ মার্চ) বারোতম দিন। হামলার প্রথম দিন গত ২৮ ফেব্রুয়ারিতেই নিহত হন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ অন্তত ৪০ জন শীর্ষ নেতা।
এর জবাবে প্রতিশোধমূলক হামলা শুরু করেছে ইরান। দেশটি ইরাক, কুয়েত, বাহরাইন ও সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় অঞ্চলের যেসব দেশে মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে, সেগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে ইসরায়েলের বিভিন্ন শহরেও হামলা হচ্ছে।
গুরুত্বপূর্ণ তেল বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালীতে মাইন পাতা শুরু করেছে ইরান। এতে সংঘাত ধীরে ধীরে পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে।
যুদ্ধ 'শিগগিরই' শেষ হবে, ইরানে হামলা করার মতো 'কার্যত আর কিছুই বাকি নেই': ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ 'খুব শিগগিরই' শেষ হবে। কারণ হিসেবে তিনি বলেছেন, দেশটিতে 'আঘাত হানার মতো কার্যত আর কিছুই অবশিষ্ট নেই'।
বুধবার সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এ কথা বলেন।
পাঁচ মিনিটের ওই ফোনালাপে ট্রাম্প বলেন, 'এদিক-ওদিক সামান্য কিছু বাকি আছে... আমি যখনই চাইব, তখনই এই যুদ্ধ শেষ হয়ে যাবে।'
ট্রাম্প আরও বলেন, 'যুদ্ধ দারুণভাবে এগোচ্ছে। আমরা নির্ধারিত সময়সূচির চেয়ে অনেক এগিয়ে আছি। আমরা যে ছয় সপ্তাহের পরিকল্পনা করেছিলাম, তার চেয়েও অনেক বেশি ক্ষতি এর মধ্যেই করে ফেলেছি।'
তিনি বলেন, ইরানের বৈরিতা কেবল ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, তা পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর জন্যও হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
পরিশেষে ট্রাম্প বলেন, 'তারা পুরো মধ্যপ্রাচ্যের পেছনে লেগেছিল। গত ৪৭ বছর ধরে তারা যে মৃত্যু ও ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে, এখন তারই মূল্য দিচ্ছে। এটা প্রতিশোধের সময়। তারা এত সহজে পার পাবে না।'
ট্রাম্প প্রকাশ্যে তার সামরিক অভিযানের লক্ষ্য অর্জনের ইঙ্গিত দিলেও, মার্কিন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তারা বলছেন ভিন্ন কথা। যুদ্ধ কবে থামবে, সে বিষয়ে এখনও অভ্যন্তরীণ কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বুধবার জানিয়েছেন, যুদ্ধ চলবে 'বিনা সময়সীমায়, যতদিন প্রয়োজন হয়, যতক্ষণ না আমরা আমাদের সব লক্ষ্য অর্জন করতে পারি এবং এই অভিযানে চূড়ান্তভাবে জয়ী হই।'
এমনকি ইসরায়েলি এবং মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, ইরানে আরও অন্তত দুই সপ্তাহ ধরে হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা।
মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র গোয়েন্দা সূত্রে জানতে পারে, তেল সরবরাহের জন্য বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে মাইন বসাতে শুরু করেছে ইরান।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরান ঠিক কতগুলো মাইন বসিয়েছে তা এখনও পরিষ্কার নয়, তবে তাদের ধারণা এই সংখ্যা খুবই কম। ট্রাম্প অ্যাক্সিওসকে নিশ্চিত করেছেন যে, মঙ্গলবার মার্কিন হামলায় মাইন বসানোর কাজে যুক্ত ১৬টি নৌকা ধ্বংস করা হয়েছে এবং এর মাধ্যমে ইরানের পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দেওয়া হয়েছে।
বুধবার এক ভিডিও বার্তায় ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার বলেন, ওই প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে হয়রানি করা এবং শক্তি প্রদর্শনে ইরানের সক্ষমতা পুরোপুরি নির্মূল করাই মার্কিন সামরিক বাহিনীর মূল লক্ষ্য।
কুপার আরও বলেন, 'মার্কিন বাহিনী ইরান সরকারের বিরুদ্ধে বিধ্বংসী আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি বাড়ছে, আর ইরানের যুদ্ধ-সক্ষমতা কমছে।' তিনি উল্লেখ করেন যে, ইরানের মিসাইল ও ড্রোন হামলা ব্যাপকভাবে কমে গেছে।
তুরস্কের ন্যাটো রাডার ঘাঁটির কাছে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন
তুরস্কের সংবাদমাধ্যমে সম্প্রচারিত একটি ভিডিও অনুযায়ী, আঙ্কারা ন্যাটোর একটি রাডার ঘাঁটির কাছে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েনের ঘোষণা দেওয়ার পর পূর্ব তুরস্কের একটি সড়কে মার্কিন তৈরি প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দেখা গেছে।
মালাতিয়া প্রদেশের ফুটেজে আজ (১১ মার্চ) ভোরের দিকে একটি হাইওয়ে দিয়ে প্যাট্রিয়ট মিসাইল লঞ্চার নিয়ে যেতে দেখা গেছে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাটি কুরাসিক ঘাঁটির কাছে স্থাপন করা হবে৷
রয়টার্স সংবাদ সংস্থার তথ্যমতে, গত এক সপ্তাহে তুরস্কের দিকে ধেয়ে আসা দুটি ইরানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করতে এই ঘাঁটি সাহায্য করেছিল। তবে ইরান তুরস্ককে লক্ষ্যবস্তু করার কথা অস্বীকার করেছে এবং জানিয়েছে যে তারা আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত নয়৷
তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ২০০ ডলার হওয়ার প্রস্তুতি নিন, বিশ্বের প্রতি ইরানের বার্তা
ইরানের সামরিক কমান্ড বুধবার (১১ মার্চ) জানিয়েছে, অবরুদ্ধ উপসাগরে আরও তিনটি জাহাজ আক্রান্ত হওয়ার প্রেক্ষাপটে বিশ্বের উচিত তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ২০০ ডলারে পৌঁছানোর জন্য প্রস্তুত থাকা।
ইরান বুধবার ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এর মাধ্যমে তারা প্রমাণ করেছে যে পেন্টাগন যাকে এযাবৎকালের সবচেয়ে তীব্র মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা বলে বর্ণনা করেছে, সেটার পরও ইরান এখনও পাল্টা লড়াই করতে এবং জ্বালানি সরবরাহে বাধা দিতে সক্ষম।
চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে তেলের যে দাম লাফিয়ে বেড়েছিল তা কিছুটা কমেছে এবং শেয়ার বাজার আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে।
বিনিয়োগকারীরা আশা করছেন যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রায় দুই সপ্তাহ আগে ইসরায়েলের সাথে মিলে যে যুদ্ধ শুরু করেছিলেন, তা শেষ করার একটি পথ দ্রুত খুঁজে পাবেন।
কিন্তু এখন পর্যন্ত যুদ্ধের ময়দানে কোনো শিথিলতা আসেনি এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ নিরাপদে চলাচলের কোনো লক্ষণও দেখা যাচ্ছে না।
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের কোনো সময়সীমা নেই: ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চলমান যৌথ বোমা হামলা অভিযান যতদিন প্রয়োজন ততদিন চলবে।
তিনি অভিযানের ব্যাপ্তি সম্পর্কে স্পষ্ট করে বলেন, 'এই অভিযান কোনো সময়সীমা ছাড়াই চলবে, যতদিন প্রয়োজন, যতক্ষণ না আমরা সমস্ত লক্ষ্য অর্জন করি এবং অভিযানের ফলাফল নির্ধারণ করি।'
নিহত কমান্ডারদের জানাজায় তেহরানে বিশাল জনসমাগম
সাম্প্রতিক মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় নিহত বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ ইরানি কমান্ডারের জানাজায় অংশ নিতে তেহরানে হাজার হাজার মানুষ সমবেত হয়েছেন।
রাজধানী থেকে প্রচারিত এক ভিডিওতে দেখা গেছে, শোকাতুর মানুষের এক বিশাল অংশ এই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন, যেখানে হামলায় প্রাণ হারানো উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাদের প্রতি সম্মান জানানো হচ্ছে।
ইরান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ১৫০ জন মার্কিন সেনা আহত: রয়টার্স
ইরানের সাথে চলমান ১০ দিনের যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ১৫০ জন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) এ বিষয়ে অবগত দুই ব্যক্তি রয়টার্সকে এই তথ্য জানিয়েছেন।
আহত হওয়ার এই সংখ্যা এর আগে কখনো প্রকাশ করা হয়নি। রয়টার্স এই পরিসংখ্যানটি প্রকাশের আগে পেন্টাগন কেবল আটজন মার্কিন সেনার গুরুতর আহত হওয়ার কথা জানিয়েছিল।
রয়টার্সের প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর এক বিবৃতিতে পেন্টাগন আনুমানিক ১৪০ জন আহত হওয়ার কথা উল্লেখ করেছে এবং বলেছে যে তাদের মধ্যে বিশাল একটি অংশ সামান্য আহত হয়েছেন৷
পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পার্নেল বলেন, 'অপারেশন এপিক ফিউরি শুরু হওয়ার পর থেকে টানা ১০ দিনের হামলায় প্রায় ১৪০ জন মার্কিন সামরিক সদস্য আহত হয়েছেন।'
তিনি জানান, আহত মেম্বারদের মধ্যে ১০৮ জন ইতোমধ্যেই আবার দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন।
পুতিন ও ইউএই প্রেসিডেন্টের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত নিয়ে আলোচনা
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সাথে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিয়ে আলোচনা করেছেন বলে জানিয়েছে ক্রেমলিন।
ক্রেমলিন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, 'নেতৃবৃন্দ মধ্যপ্রাচ্যের বিপজ্জনকভাবে অবনতিশীল পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় অব্যাহত রেখেছেন, যা ইরান এবং আরব দেশগুলোর জন্য গুরুতর পরিণতি বয়ে আনছে।'
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, 'রুশ প্রেসিডেন্ট এই সংঘাতের বিস্তার বন্ধ করার এবং আলোচনার মাধ্যমে এর সমাধানের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন।'
হরমুজ প্রণালীতে ৩ জাহাজে হামলা, একটিতে আগুন
কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে অন্তত তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজ অজ্ঞাত বস্তুর (প্রজেক্টাইল) আঘাতের শিকার হয়েছে। বুধবার সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
হামলার ফলে একটি জাহাজে অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়, যার ফলে জাহাজের অধিকাংশ নাবিককে দ্রুত সরিয়ে নিতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।
সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিষয়ক দুটি সূত্র জানায়, ওমান থেকে প্রায় ১১ নটিক্যাল মাইল উত্তরে থাইল্যান্ডের পতাকাবাহী বাল্ক ক্যারিয়ার 'ময়ূরি নারি' হামলার লক্ষ্যবস্তু হয় এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
পরবর্তীতে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) এক বিবৃতিতে জানায়, আক্রান্ত জাহাজটির আগুন নিভিয়ে ফেলা সম্ভব হয়েছে। এতে পরিবেশগত কোনো ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি নেই বলেও নিশ্চিত করা হয়েছে। বর্তমানে জাহাজটির পরিচালনা সচল রাখতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক নাবিক সেখানে অবস্থান করছেন।
আহত হলেও 'নিরাপদ আছেন' ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা: প্রেসিডেন্টের ছেলে
ইরানের নবনিযুক্ত সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি যুদ্ধে আহত হলেও বর্তমানে তিনি 'নিরাপদ ও সুস্থ' আছেন। বুধবার ইরানের সরকারি উপদেষ্টা এবং দেশটির প্রেসিডেন্টের পুত্র ইউসুফ পজেশকিয়ান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নিজের টেলিগ্রাম চ্যানেলে দেওয়া এক পোস্টে ইউসুফ পজেশকিয়ান লিখেছেন: 'আমি খবর পেয়েছি যে জনাব মোজতবা খামেনি আহত হয়েছেন। আমি যোগাযোগ রয়েছে এমন কিছু বন্ধুর কাছে এ বিষয়ে জানতে চেয়েছি। তারা আমাকে জানিয়েছেন যে, আল্লাহর রহমতে তিনি নিরাপদ ও সুস্থ আছেন।'
তবে তার শরীরে কোথায় আঘাত লেগেছে বা সেটি কতটা গুরুতর, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম 'নিউ ইয়র্ক টাইমস'-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রথম দিনেই মোজতবা খামেনি আহত হয়েছিলেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তিনজন ইরানি এবং দুজন ইসরায়েলি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছিল সংবাদমাধ্যমটি।
যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ আদায়ে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে কর বসাতে পারে ইরান: বিশ্লেষক
সংঘাত বাড়ার সাথে সাথে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল খাতকে লক্ষ্যবস্তু বানাতে পারে কি না—এমন প্রশ্নের মুখে তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের 'ফ্যাকাল্টি অফ ওয়ার্ল্ড স্টাডিজ'-এর রাজনৈতিক বিশ্লেষক ফয়াদ ইজাদি বলেছেন, যুদ্ধের প্রতিটি পয়সা আদায়ের দিকেই এখন ইরানি কর্মকর্তাদের মূল নজর।
কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফয়াদ ইজাদি বলেন, ইরানের তেল অবকাঠামোতে হামলা মার্কিন কৌশলের অংশ হতে পারে বলে অনেকেই আশঙ্কা করছেন। তিনি বলেন, "হ্যাঁ, মানুষ বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত।" তবে তিনি যোগ করেন যে, ইরানি নেতারা মনে করেন যারা যুদ্ধের এই ক্ষয়ক্ষতি ঘটিয়েছে, শেষ পর্যন্ত তাদেরই এর দাম দিতে হবে।
ইজাদি বলেন, "আমার মনে হয় ইরানি সরকারি কর্মকর্তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে, প্রতিপক্ষ ইরানের ওপর যে ক্ষয়ক্ষতি চাপিয়ে দিচ্ছে, তার প্রতিটি সেন্ট যেন তারা ফেরত পায় তা নিশ্চিত করা হবে।"
ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে ইরানে আলোচিত হওয়া কিছু প্রস্তাবনার কথা উল্লেখ করেন এই বিশ্লেষক। এর মধ্যে একটি হলো যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দিতে একটি 'আঞ্চলিক পুনর্গঠন তহবিল' গঠন করা। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "হয় আমরা একটি আঞ্চলিক পুনর্গঠন তহবিল গঠন করব এবং যারা এই ক্ষয়ক্ষতি ঘটিয়েছে তাদের সেই তহবিলের মাধ্যমে ইরানকে অর্থ ফেরত দিতে হবে।"
তিনি আরও একটি প্রস্তাবের কথা জানান, যা হলো কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর কর আরোপ করা।
ইজাদি স্পষ্ট করে বলেন, "ইরান অর্থনৈতিকভাবে ধুঁকবে আর বাকিরা সবাই আনন্দ করবে—সেই দিন এখন শেষ হয়ে গেছে।"
দুবাই বিমানবন্দরের কাছে ড্রোন ভূপাতিত, বাংলাদেশিসহ আহত ৪
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের মধ্যে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে দুটি ড্রোন 'ভূপাতিত' হওয়ার ঘটনায় একজন বাংলাদেশিসহ চারজন আহত হয়েছেন। দুবাই মিডিয়া অফিস এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
দুবাই মিডিয়া অফিস জানায়, ড্রোনগুলো বিমানবন্দরের কাছাকাছি এলাকায় পড়ার ফলে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে একজন ভারতীয় নাগরিকের আঘাত 'মাঝারি' ধরনের। অন্যদিকে, ঘানার দুই নাগরিক এবং একজন বাংলাদেশি নাগরিকের আঘাত 'সামান্য'। আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
হরমুজ প্রণালীতে ১৬ ইরানি মাইন স্থাপনকারী জাহাজ ধ্বংসের ভিডিও প্রকাশ করল যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড কয়েকটি নৌযান ধ্বংসের ফুটেজ প্রকাশ করেছে৷ তাদের দাবি অনুযায়ী,ধ্বংস হওয়া নৌযানগুলো ইরানি নৌযান৷
তারা জানিয়েছে, মঙ্গলবার (১০ মার্চ) যেসব লক্ষ্যবস্তু নির্মূল করা হয়েছে তার মধ্যে হরমুজ প্রণালীর কাছে থাকা ১৬টি মাইন-লেয়ার (মাইন স্থাপনকারী জাহাজ) অন্তর্ভুক্ত ছিল।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালীতে মাইন স্থাপনের চেষ্টাকারী যে কোনো ইরানি নৌযান ধ্বংস করার হুমকি দিয়েছিলেন।
এক্স-এ (সাবেক টুইটার) যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড কর্তৃক প্রকাশিত ফুটেজে দেখা গেছে, বিভিন্ন আকারের জাহাজগুলো প্রজেক্টাইলের আঘাতে বিস্ফোরিত হচ্ছে।
গুগল, মাইক্রোসফটসহ বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যপ্রাচ্য অবকাঠামো ইরানের 'বৈধ লক্ষ্যবস্তু' হতে পারে: আইআরজিসি
মধ্যপ্রাচ্যে গুগলসহ প্রধান মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যালয় ও অবকাঠামো এখন ইরানের 'বৈধ লক্ষ্যবস্তু' হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।
আইআরজিসি-সংশ্লিষ্ট সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এমন কিছু মার্কিন প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রকাশ করেছে যাদের সাথে ইসরায়েলের যোগসূত্র রয়েছে এবং যাদের প্রযুক্তি সামরিক প্রয়োজনে ব্যবহৃত হচ্ছে। তাসনিম নিউজ এসব স্থাপনাকে ইরানের 'নতুন লক্ষ্যবস্তু' হিসেবে বর্ণনা করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, 'আঞ্চলিক যুদ্ধের পরিধি যখন অবকাঠামোগত যুদ্ধের দিকে মোড় নিচ্ছে, তখন ইরানের বৈধ লক্ষ্যবস্তুর পরিধিও বিস্তৃত হচ্ছে।'
এই তালিকার মধ্যে গুগল, মাইক্রোসফট, পালানটির, আইবিএম, এনভিডিয়া এবং ওরাকলের মতো বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠানগুলো রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠানের ক্লাউড-ভিত্তিক সেবার দপ্তর ও অবকাঠামোগুলো ইসরায়েলের বিভিন্ন শহরের পাশাপাশি পারস্য উপসাগরীয় কয়েকটি দেশেও অবস্থিত।
হরমুজ প্রণালীতে তৃতীয় পণ্যবাহী জাহাজে হামলা
যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে একটি 'অজ্ঞাত বস্তু' বা প্রজেক্টাইলের আঘাতে তৃতীয় আরও একটি পণ্যবাহী জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
জিএমটি সময় অনুযায়ী রাত ২টা ৫ মিনিটে এই হামলার খবর পাওয়া যায়। দুবাই থেকে প্রায় ৯৩ কিলোমিটার (৫০ নটিক্যাল মাইল) উত্তর-পশ্চিমে জাহাজটি আক্রান্ত হয়। তবে জাহাজের সকল নাবিক ও কর্মী 'নিরাপদ ও সুস্থ' আছেন বলে জানানো হয়েছে। এ ছাড়া এই ঘটনায় সাগরে পরিবেশের কোনো ক্ষতি হয়নি বলেও নিশ্চিত করেছে সংস্থাটি।
এর আগে বুধবার সকালেই ইউকেএমটিও জানিয়েছিল যে, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) উপকূলে একটি জাহাজ আক্রান্ত হয়েছে এবং ওমানের উত্তরে অন্য একটি জাহাজে হামলার পর সেখান থেকে কর্মীদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
হরমুজ প্রণালিতে কার্গো জাহাজে আগুন, ক্রুদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে: ইউকেএমটিও
হরমুজ প্রণালিতে একটি কার্গো জাহাজে অজ্ঞাত এক হামলায় আগুন লেগেছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও)।
এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, "জাহাজটি সহায়তা চাওয়ার পর ক্রুদের সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।"
তারা আরও জানায়, জাহাজটি ওমানের মুসানদাম উপদ্বীপের প্রায় ১১ নটিক্যাল মাইল উত্তরে অবস্থান করছিল।
ইউকেএমটিওর বিবৃতিতে বলা হয়, "জাহাজগুলোকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করতে এবং কোনো সন্দেহজনক কার্যকলাপ দেখলে তা জানানোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।"
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ওমানের কোস্ট গার্ড বুধবার সকালে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি বলে জানিয়েছে সিএনএন।
এর আগে বুধবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপকূলের কাছেও আরেকটি জাহাজে অজ্ঞাত প্রজেক্টাইলের আঘাতে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে ইউকেএমটিও।
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ইরানের বড় ধরনের হামলা চালানোর দাবি
মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে একযোগে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। কাতার, কুয়েত ও ইরাকে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয় বলে দাবি করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইএসএনএ প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কাতারের আল উদাইদ, কুয়েতের ক্যাম্প আরিফজান এবং ইরাকের হারির বিমান ঘাঁটিতে 'বিশাল পরিসরে' এই ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয় যে, এই হামলায় ওই অঞ্চলে মোতায়েন করা মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। আইআরজিসি-র মতে, হামলায় মার্কিন সেনাবাহিনীর 'অপারেশনাল অবকাঠামো ধ্বংস' হয়ে গেছে।
অন্য একটি পোস্টে ইরান এই অভিযানকে বর্তমান যুদ্ধের শুরু থেকে এ পর্যন্ত 'সবচেয়ে বিধ্বংসী এবং শক্তিশালী অভিযান' বলে অভিহিত করেছে।
তবে ইরানের এই দাবির বিষয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ইরান যুদ্ধ নিয়ে বিভ্রান্তিকর বার্তা, বিশ্ববাজারে তেলের দামে চরম অস্থিরতা
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে একের পর এক পরস্পরবিরোধী বার্তার কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে চরম অস্থিরতা দেখা দিচ্ছে। ব্যবসায়ীরা পরিস্থিতির সঠিক আঁচ পেতে হিমশিম খাওয়ায় তেলের দামে বড় ধরনের ওঠানামা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মানদণ্ড হিসেবে পরিচিত ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের (অপরিশোধিত তেল) দাম গত মঙ্গলবার ১৭ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৮০ ডলারের নিচে নেমে আসে। কিন্তু মার্কিন জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ একটি পোস্ট দেওয়ার পর দাম আবারও বেড়ে ৯০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছায়। রাইট দাবি করেছিলেন যে, মার্কিন নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালী দিয়ে একটি তেলবাহী ট্যাংকারকে নিরাপত্তা দিয়ে নিয়ে গেছে। তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি পোস্টটি মুছে ফেলেন।
পরে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট সাংবাদিকদের জানান , ওই প্রণালী দিয়ে কোনো সশস্ত্র পাহারার ব্যবস্থা করা হয়নি। মূলত ইরানি হুমকির কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে বর্তমানে সব ধরনের জাহাজ চলাচল বন্ধ রয়েছে।
বুধবার সকালে তেলের দাম আবারও ব্যাপকভাবে পড়ে যায়। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে জানানো হয় যে, বিশ্ববাজারে সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) তাদের ইতিহাসের সবথেকে বড় মজুত থেকে তেল ছাড়ার কথা বিবেচনা করছে। এই খবরের পর গ্রিনিচ মান সময় রাত ২টা নাগাদ ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেল প্রতি ৮৫ ডলারের নিচে নেমে আসে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরুর পর তেলের দাম ৫০ শতাংশ বেড়ে প্রায় ১২০ ডলারে পৌঁছেছিল। বর্তমানে দাম কিছুটা কমলেও তা যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় এখনও ১৭ শতাংশ বেশি।
হরমুজে মাইন বসানো নৌযান ধ্বংস করল যুক্তরাষ্ট্র, ইরানকে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি
ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মার্কিন সামরিক বাহিনী হরমুজ প্রণালীর কাছে ১৬টি ইরানি মাইন স্থাপনকারী জাহাজ 'নিষ্ক্রিয়' বা ধ্বংস করেছে। একই সময়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ইরান যদি ওই প্রণালীতে কোনো মাইন পেতে থাকে, তবে তা অবিলম্বে সরিয়ে ফেলতে হবে।
এর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ১০টি নিষ্ক্রিয় মাইন স্থাপনকারী জাহাজ পুরোপুরি ধ্বংস করেছে।
বিশ্বের প্রধান তেল সরবরাহকারী এই জলপথে ইরান মাইন স্থাপন শুরু করেছে—এমন সংবাদ প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাম্প তার 'ট্রুথ সোশ্যাল' প্ল্যাটফর্মে পোস্ট করেছেন, 'ইরান যদি হরমুজ প্রণালীতে কোনো মাইন স্থাপন করে থাকে, যদিও আমাদের কাছে তেমন কোনো রিপোর্ট নেই, তবে আমরা চাই সেগুলো অবিলম্বে সরিয়ে ফেলা হোক!'
তিনি আরও লেখেন, 'তেহরান যদি এটি না করে তবে তাদের সামরিক পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।' তবে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি।
ট্রাম্প আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র মাদক পাচারকারীদের বিরুদ্ধে যে প্রযুক্তি ব্যবহার করে, সেই একই প্রযুক্তি এখন হরমুজ প্রণালীতে মাইন স্থাপনের চেষ্টাকারী যেকোনো বোট বা জাহাজকে 'স্থায়ীভাবে নির্মূল' করতে ব্যবহার করছে।
ইরান যুদ্ধ শুরুর পর প্রথম খসড়া প্রস্তাবের ওপর জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ভোট আজ
ইরান যুদ্ধ এবং পুরো অঞ্চলে এর প্রভাব নিয়ে আজ জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে দুটি পাল্টাপাল্টি খসড়া প্রস্তাবের ওপর ভোট হওয়ার কথা রয়েছে। সংঘাত শুরু হওয়ার পর এই প্রথম নিরাপত্তা পরিষদ কোনো আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে।
প্রথম প্রস্তাবটি পেশ করেছে উপসাগরীয় দেশগুলো। এতে জর্ডান এবং তাদের ওপর ইরানের হামলার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। এই খসড়া প্রস্তাবে বর্তমানে যুক্তরাজ্যসহ ৯০টিরও বেশি দেশ সমর্থন দিচ্ছে। এতে ইরানের পক্ষ থেকে (সরাসরি বা প্রক্সি বাহিনীর মাধ্যমে) ছয়টি উপসাগরীয় দেশ ও জর্ডানের ওপর সব ধরনের হামলা ও হুমকি অবিলম্বে বন্ধের দাবি জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া, আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ পথ 'হরমুজ প্রণালী' বন্ধ করা বা এতে বিঘ্ন ঘটানোর যেকোনো চেষ্টারও নিন্দা জানানো হয়েছে এই প্রস্তাবে।
অন্যদিকে, নিরাপত্তা পরিষদে ইরানের মিত্র হিসেবে পরিচিত রাশিয়া একটি বিকল্প খসড়া প্রস্তাব পেশ করেছে। ইরান, ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্রের নাম সরাসরি উল্লেখ না করে এই প্রস্তাবে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর সব ধরনের হামলার নিন্দা জানানো হয়েছে।
তবে জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাঈদ ইরাভানি উপসাগরীয় দেশগুলোর প্রস্তাবের কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি একে 'পক্ষপাতদুষ্ট ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত' বলে অভিহিত করেন।
আমিরাতের রাস আল-খাইমার নিকট কন্টেইনার জাহাজে হামলা
যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশন (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাস আল-খাইমার থেকে প্রায় ২৫ নটিক্যাল মাইল (৪৬ কিমি) উত্তরে একটি কন্টেইনার জাহাজে অজ্ঞাত একটি প্রকল্পাইল আঘাত করেছে।
জাহাজের মাস্টার জানিয়েছেন, জাহাজে ক্ষতি হয়েছে, তবে ক্ষতির প্রকৃতি ও পরিমাণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ইউকেএমটিও আরও জানিয়েছে, জাহাজের সব ক্রু নিরাপদে আছেন।
লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় রেড ক্রসের স্বাস্থ্যকর্মী নিহত, মানবিক পরিস্থিতির 'দ্রুত অবনতি'
দক্ষিণ লেবাননের টায়ার জেলায় রেড ক্রসের একটি অ্যাম্বুলেন্সে ইসরায়েলি হামলায় আহত এক স্বাস্থ্যকর্মী মারা গেছেন। দেশটির জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বুধবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মাজদাল জউন শহরে একটি উদ্ধার অভিযান চালানোর সময় ওই অ্যাম্বুলেন্সটি হামলার শিকার হয়। এতে দুইজন স্বাস্থ্যকর্মী আহত হয়েছিলেন, যাদের মধ্যে একজন পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
এদিকে জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা বিষয়ক দপ্তর (ইউএন ওসিএইচএ) বুধবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, লেবাননের সামগ্রিক মানবিক পরিস্থিতির 'দ্রুত অবনতি' ঘটছে, যা বর্তমানে ১০ লাখেরও বেশি মানুষকে সরাসরি প্রভাবিত করছে।
ইউএন ওসিএইচএ আরও জানিয়েছে, লিটানি নদীর দক্ষিণ তীরের বাসিন্দা ছাড়াও বালবেক প্রদেশ, বেকা উপত্যকা এবং বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলির বিশাল এলাকার মানুষ এই সংঘাতের কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
লেবাননের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ইউনিটের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে ইসরায়েলি হামলা শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত দেশটিতে অন্তত ৫৭০ জন নিহত হয়েছেন এবং প্রায় ৭ লাখ ৬০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
জাতিসংঘের এই সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, ইসরায়েলের অব্যাহত বিমান হামলা এবং গণহারে এলাকা ছাড়ার নির্দেশের ফলে অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতির হার অনেক বেড়েছে। এতে দেশটির স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোর ওপর মাত্রাতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে। সেই সঙ্গে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা এবং বিশেষ করে নারী ও শিশুদের সুরক্ষার বিষয়টি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
হরমুজ প্রণালী বন্ধ হলে খাদ্যমূল্য বৃদ্ধির শঙ্কা, জীবনযাত্রার চাপ বৃদ্ধি পেতে পারে: ইউএনসিটিএডি
জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থা (ইউএনসিটিএডি) সতর্ক করেছে, হরমুজ প্রণালী বন্ধ হলে খাদ্যমূল্য বৃদ্ধি এবং 'জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা' রয়েছে।
ইউএনসিটিএডি -এর নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের একটি বড় অংশ এই সংকীর্ণ নৌপথ দিয়ে প্রবাহিত হয়। বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের ৩৮ শতাংশ, এলপিজি'র ২৯ শতাংশ এবং এলএনজি'র ১৯ শতাংশ হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে পরিবাহিত হয়।
সমুদ্রপথে পরিবহন করা মোট সারের এক-তৃতীয়াংশও এই প্রণালীর মধ্য দিয়ে হয়।
ইউএনসিটিএডি বলেছে, 'জ্বালানি, সার এবং পরিবহন খরচ বাড়লে খাদ্যমূল্য বাড়তে পারে এবং সামগ্রিক জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়ে যেতে পারে।'
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়বে এশিয়ার দেশগুলোতে। কারণ এখানকার ৮৪ শতাংশ পণ্য পরিবহন হয় এই প্রণালীর মাধ্যমে।
ইসরায়েলের হাইফা, তেল আবিব, জেরুজালেমে হামলার দাবি ইরানের
ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে তারা ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ৩৭ বারের মতো পরিচালনা করেছে। এতে তিন ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ধারাবাহিকভাবে বহুস্তরীয় হামলায় 'সুপার-হেভি খোররামশাহর ক্ষেপণাস্ত্র' নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
ফার্স নিউজ এজেন্সিতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, তেল আবিবের দক্ষিণে হায়েলা স্যাটেলাইট যোগাযোগ কেন্দ্রকে দ্বিতীয়বারের মতো লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এছাড়া বীর ইয়াকুব, পশ্চিম জেরুজালেম ও হাইফার সামরিক স্থাপনাতেও হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইরাকের এরবিলে মার্কিন ঘাঁটি এবং বাহরাইনের মানামায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরেও 'ভারী হামলা' চালিয়েছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী।
আইআরজিসি জানিয়েছে, তাদের লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত 'নির্দিষ্ট ও শক্তিশালী হামলা' অব্যাহত থাকবে।
তারা বলেছে, 'এই যুদ্ধে আমাদের লক্ষ্য একটাই—শত্রুর সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ।'
হরমুজে মাইন পাততে শুরু করেছে ইরান
ইরান বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালীতে মাইন পাততে শুরু করেছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট দুটি সূত্র জানিয়েছে।
সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত মাইন পাতার কার্যক্রম খুব বিস্তৃত নয়। সম্প্রতি কয়েক ডজন মাইন পাতা হয়েছে।
একটি সূত্র জানায়, এখনও ইরানের ছোট নৌযান ও মাইন পাতা জাহাজের প্রায় ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ অক্ষত রয়েছে। ফলে দেশটির বাহিনী চাইলে এই নৌপথে শত শত মাইন পাততে পারে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালী দিয়ে বৈশ্বিক মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হয়।
সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কার্যত ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এখন দেশটির নৌবাহিনীর সঙ্গে মিলে হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তাদের বিক্ষিপ্তভাবে মোতায়েন করা মাইন পাতা নৌযান, বিস্ফোরক বোঝাই নৌকা এবং উপকূলভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যাটারি ব্যবহার করে একটি 'গন্টলেট' ধরনের প্রতিরক্ষা বলয় গড়ে তোলার সক্ষমতা আছে।
মঙ্গলবার ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, 'যদি ইরান হরমুজ প্রণালীতে কোনো মাইন পেতে থাকে, যদিও এ বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো প্রতিবেদন নেই, তাহলে আমরা চাই সেগুলো অবিলম্বে সরিয়ে ফেলা হোক।'
আইআরজিসি এর আগে সতর্ক করে বলেছিল, প্রণালী দিয়ে যাওয়া যেকোনো জাহাজে হামলা করা হবে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে কার্যত এই নৌপথ বন্ধ রয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী কোনো জাহাজকে এই প্রণালী দিয়ে পারাপারে সহায়তা করেনি। তবে গত সোমবার ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, এ ধরনের সহায়তা দেওয়ার বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে তার প্রশাসন বিবেচনা করছে।
কুয়েতে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি ইরানের
কুয়েতে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে ইরান।
ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর সদর দপ্তরে মোট চারটি ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছে। এর মধ্যে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র কুয়েতে অবস্থিত ক্যাম্প আরিফজান লক্ষ্য করে নিক্ষেপ করা হয়েছে।
তবে এখন পর্যন্ত হামলার ঘটনা বা ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।
তেহরানে ব্যাংকে ইসরায়েলি বিমান হামলা, নিহত ১
ইরানের রাজধানী তেহরানে একটি ব্যাংক ভবনে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত একজন কর্মী নিহত হয়েছেন। আরবি ভাষার সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার লাইভ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেহরানের একটি ব্যাংক ভবন লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। হামলার ফলে ভবনটিতে কর্মরত এক কর্মী নিহত হন।
তবে হামলার বিস্তারিত তথ্য বা নিহতের পরিচয় এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
এ ঘটনায় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রকে 'শান্তির পথে ফেরার আহ্বান' কাতারের
কাতারের মন্ত্রী মোহাম্মদ বিন আবদুলআজিজ আল-খুলাইফি বলেছেন, কাতার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছে এবং যুদ্ধের সব পক্ষকে 'শান্তির পথে ফিরে আসতে' এবং 'আলোচনার টেবিলে' ফেরার আহ্বান জানাচ্ছে।
তিনি বলেন, দোহা ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে এই বিষয়গুলোতে সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে।
