বউ বরণের আনন্দ এখন লাশ দাফনের শোক: বাগেরহাটে সড়ক দুর্ঘটনায় বর-কনেসহ নিহত ১৪
পরনে লাল খয়েরি বেনারসি, হাতে রাঙা মেহেদি। যে সাজ ছিল নতুন জীবনের সূচনার জন্য, সেই সাজেই হাসপাতালের মর্গে পড়ে ছিল কনের নিথর দেহ। একে একে খুলে নেওয়া হচ্ছিল গহনা। পাশেই পড়ে ছিল স্বামী আহাদুর রহমান সাব্বিরের প্রাণহীন দেহ। বিয়ের পর পাশাপাশি থাকার যে স্বপ্ন, তা শেষ পর্যন্ত পূরণ হলো মর্গের ঠান্ডা মেঝেতে। এরপর দুটি মরদেহ চলে যায় দুই জেলায়—দাফনের জন্য।
খুলনার কয়রা উপজেলার আমাদী ইউনিয়নের নাকসা গ্রামের মার্জিয়া আক্তার (মিতু) ও বাগেরহাটের মোংলার বাসিন্দা আহাদুর রহমান সাব্বিরের বিয়ে হয়েছিল বুধবার (১১ মার্চ) রাতে। পরদিন বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে কনেসহ ১৫ জন স্বজন একটি মাইক্রোবাসে করে রওনা দেন মোংলায় বরের বাড়ির উদ্দেশে।
কিন্তু সেই যাত্রা আর গন্তব্যে পৌঁছায়নি। খুলনা-মোংলা মহাসড়কের বেলাই ব্রিজ এলাকায় মাইক্রোবাসটির সঙ্গে নৌবাহিনীর একটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। ভয়াবহ ওই দুর্ঘটনায় মাইক্রোবাসে থাকা ১৫ জনের মধ্যে ১৪ জন ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন—বর আহাদুর রহমান সাব্বির, তার বাবা আবদুর রাজ্জাক, ভাই আবদুল্লাহ সানি, বোন উম্মে সুমাইয়া (ঐশী) ও তার ছেলে সামিউল ইসলাম ফাহিম, বড় ভাই আশরাফুল আলম (জনি), তার স্ত্রী ফারহানা সিদ্দিকা (পুতুল) এবং তাদের সন্তান আলিফ, আরফা ও ইরাম। এছাড়া নিহতদের মধ্যে রয়েছেন—কনে মার্জিয়া আক্তার (মিতু), তার ছোট বোন লামিয়া আক্তার, দাদি রাশিদা বেগম, নানি আনোয়ারা বেগম এবং মাইক্রোবাসের চালক নাঈম।
নাঈমের বাড়ি বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার পেড়িখালী ইউনিয়নের সিংগেরবুনিয়া গ্রামে।
দুর্ঘটনায় বরের পরিবারের ৯ জনের মরদেহ মোংলায় দাফন করা হচ্ছে। কনের পরিবারের চারজনকে দাফন করা হয়েছে খুলনার কয়রা উপজেলার নাকসা গ্রামে। আর মাইক্রোবাসের চালক নাঈমকে দাফন করা হবে তার নিজ এলাকা রামপালে।
নিহত আবদুর রাজ্জাকের ছোট ভাই সাজ্জাদ সরদার বলেন, 'আশপাশের নয়টি মসজিদ থেকে খাটিয়া আনা হয়েছে। গোসল শেষে একে একে নয় স্বজনকে খাটিয়ায় রাখা হয়েছে। জুমার নামাজের পর উপজেলা পরিষদ চত্বরে তাদের জানাজা হবে। এরপর পৌর কবরস্থানে দাফন করা হবে।'
এদিকে কনের বাড়ি কয়রার নাকসা গ্রামে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সেখানে নিহত চারজনের দাফন ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
বাগেরহাটের কাটাখালী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাফর আহমেদ জানান, মাইক্রোবাসটিতে চালকসহ মোট ১৫ জন ছিলেন। ভয়াবহ ওই দুর্ঘটনায় ১৪ জন মারা গেছেন। আহত একজন বর্তমানে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
