চট্টগ্রামে অগ্রণী ব্যাংকের ভল্ট থেকে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা উধাও, গ্রেপ্তার ২
চট্টগ্রামে অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির লালদীঘি পূর্ব কর্পোরেট শাখার ক্যাশ ভল্ট থেকে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।
গত সোমবার (১০ আগস্ট) এ ঘটনা ঘটে।
গ্রেপ্তারেরা হলেন- অগ্রণী ব্যাংক লালদীঘি পূর্ব কর্পোরেট শাখার সিনিয়র অফিসার ও ক্যাশ ইনচার্জ কামরুল হোসেন ও জাফরুল্লাহ তানভীর।
এ ঘটনায় গত ১০ আগস্ট শাখাটির জেনারেল ম্যানেজার মোস্তাক আহমেদ বাদী হয়ে নগরের কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। মামলায় কামরুল হোসেন ও জাফরুল্লাহ তানভীরের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, কামরুল হোসেন শাখাটির ক্যাশ ও ভল্টের দায়িত্বে ছিলেন। ৯ আগস্ট নিয়মিত ব্যাংকিং কার্যক্রম ও লেনদেন শেষে নগদ অর্থের হিসাব এবং ভল্টে সংরক্ষিত অর্থের হিসাব মেলানোর সময় গরমিল ধরা পড়ে। পরে ভল্টের হিসাব, সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র ও নথি যাচাই করে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা ঘাটতি পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে কামরুল হোসেন সন্তোষজনক কোনো জবাব দিতে পারেননি বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে কামরুল হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে আরও বলা হয়েছে, ভল্টে টাকা জমা দেওয়ার সময় ১ হাজার টাকার বড় বান্ডিলের মধ্যে ১০০ টাকা বা তার কম মূল্যমানের নোট ঢুকিয়ে বান্ডিল সাজানো হতো। ফলে বাইরে থেকে বান্ডিল দেখে ভল্টে পর্যাপ্ত টাকা রয়েছে বলে মনে হলেও প্রকৃত অর্থের পরিমাণ কম থাকত।
মামলার নথিতে বলা হয়েছে, এভাবে সরানো অর্থ জাফরুল্লাহ তানভীরের দেখাশোনার শর্তে বিনিয়োগ করে হাটহাজারীর উত্তর বুড়িশ্চর এলাকায় 'ইশরাত এগ্রো' নামে একটি গরুর খামারের কার্যক্রম শুরু করা হয়। বর্তমানে ওই খামারে বিভিন্ন জাতের ৫০ থেকে ৬০টি গরু রয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ইকবাল হোসেন দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে (টিবিএস) বলেন, গ্রাহকদের ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় এজাহারনামীয় দুই আসামি কামরুল হোসেন ও জাফরুল্লাহ তানভীরকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
তিনি বলেন, আসামিদের কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া তাদের মধ্যে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ ও বিভিন্ন তথ্যের স্ক্রিন রেকর্ডসহ ৬৪ জিবির একটি পেনড্রাইভ জব্দ করা হয়েছে। মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে লালদীঘি পূর্ব কর্পোরেট শাখার জেনারেল ম্যানেজার মোস্তাক আহমেদের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
