সীতাকুণ্ডে গ্যাস লিকেজে ৯ শ্রমিকের মৃত্যু: ফেরদৌস স্টিলের সব কার্যক্রম স্থগিত
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে গ্যাস লিকেজে ৯ শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজের সব কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ শিপ রিসাইক্লিং বোর্ড (বিএসআরবি)।
বিএসআরবির মহাপরিচালক শফিউল আলম তালুকদার দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে জানান, দুর্ঘটনার পর শুক্রবার বোর্ড ইয়ার্ডটির কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়।
তিনি বলেন, "প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।"
পরিদর্শন ও তদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত না নেওয়া পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে বলে জানান তিনি।
গতকাল শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারী ইউনিয়নের স্টেশন রোড এলাকার ওই শিপইয়ার্ডে নোঙর করা একটি পুরোনো জাহাজের ভেতরে বিষাক্ত গ্যাসে অসুস্থ হয়ে ৯ শ্রমিক মারা যান।
তদন্ত কমিটি গঠন
শফিউল আলম জানান, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তিনটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। শিল্প মন্ত্রণালয়, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন এবং বিএসআরবি পৃথকভাবে কমিটিগুলো গঠন করেছে।
তিনি বলেন, পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ভর করবে পরিদর্শন ও তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর। কারা দায়ী তা শনাক্ত হওয়ার পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, তদন্তে যদি অবহেলার প্রমাণ পাওয়া যায় এবং ইয়ার্ডটিকে আর কার্যক্রম চালানোর অনুমতি দেওয়া উচিত নয় বলে মনে হয়, তাহলে এটি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হতে পারে।
অন্যদিকে, তদন্তে যদি দেখা যায় দুর্ঘটনাটি অবহেলার কারণে ঘটেনি এবং ইয়ার্ডটি নিরাপদভাবে আবার চালু করা সম্ভব, তাহলে সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী জরিমানাসহ অন্যান্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বিবেচনা করা হতে পারে।
শফিউল আলম বলেন, "ইয়ার্ড বন্ধ রাখা প্রয়োজন বলে প্রমাণিত হলে তা বন্ধই থাকবে। আর কার্যক্রম চালানো সম্ভব বলে প্রমাণিত হলে প্রাসঙ্গিক কারখানা ও শ্রম আইন অনুযায়ী জরিমানাসহ অন্যান্য ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।"
তিনি জানান, পরিদর্শন ও তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতেই কী ধরনের শাস্তি বা ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা নির্ধারণ করবে কর্তৃপক্ষ।
এদিকে, নয়জন শ্রমিকের মৃত্যু হলেও শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত দুর্ঘটনাটি নিয়ে কোনো মামলা হয়নি বলে জানিয়েছেন সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঈনুল ইসলাম।
তিনি বলেন, "নিহতদের কোনো পরিবারের সদস্য আমাদের কাছে এসে অভিযোগ করেননি। এ ঘটনায় মামলা করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকেও আমরা কোনো নির্দেশনা পাইনি।"
