জাতীয় গ্রিডে সামিটের এলএনজি সরবরাহ শুরু, শনিবারের মধ্যে পূর্ণ সক্ষমতায় ফেরার আশা
দেশজুড়ে তীব্র গ্যাস সংকটের মধ্যে স্বস্তির খবর দিয়েছে কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত সামিটের এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) টার্মিনাল। শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে জাতীয় গ্রিডে পুনরায় গ্যাসে রূপান্তর করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (আরএলএনজি) সরবরাহ শুরু করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
সামিটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে টার্মিনালটি থেকে দৈনিক ১১০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) হারে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়। শনিবার (১৫ আগস্ট) সকালের মধ্যে এই সরবরাহ ধাপে ধাপে বেড়ে পূর্ণ সক্ষমতা অর্থাৎ ৫৫০ এমএমসিএফডিতে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সামিট পাওয়ার ইন্টারন্যাশনালের মহাব্যবস্থাপক মোহসিনা হাসান নিশ্চিত করেছেন, এলএনজি বহনকারী জাহাজ 'বিডব্লিউ লেসমেস' সফলভাবে সামিট টার্মিনালে ভিড়েছে। এই অতিরিক্ত গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ায় শিল্প কারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং সাধারণ গ্রাহকদের গ্যাস সংকট কিছুটা লাঘব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এর আগে, বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে এলএনজি কার্গো টার্মিনালের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনে জটিলতা দেখা দেওয়ায় সরবরাহ বন্ধ ছিল। ফলে শুক্রবার জাতীয় গ্রিডে এলএনজি সরবরাহ আশঙ্কাজনকভাবে কমে প্রায় ৩০০ এমএমসিএফডিতে নেমে আসে। এতে বাসাবাড়ি, শিল্প ও পরিবহনে তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দেয়, যদিও বিদ্যুৎ সরবরাহে কিছুটা উন্নতি লক্ষ্য করা গেছে।
পেট্রোবাংলা এবং জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, 'আল হামরা' নামের একটি এলএনজি কার্গো গত তিন দিন ধরে বঙ্গোপসাগরে অপেক্ষায় থাকলেও সামিটের ভাসমান টার্মিনালে সেটিকে ভিড়তে দেওয়া হয়নি। সামিটের টার্মিনালটি কারিগরিভাবে পরিচালনা করে এক্সিলারেট এনার্জি। তারা জাহাজটির উপযুক্ততা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সেটিকে ভিড়তে বাধা দেয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
তবে পেট্রোবাংলা কর্মকর্তাদের দাবি, সামিট ও এক্সিলারেট উভয়ের এফএসআরইউ-ই আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন এবং এগুলো 'মস-টাইপ' ও 'মেমব্রেন-টাইপ' উভয় ধরনের এলএনজি জাহাজ থেকে গ্যাস গ্রহণ করতে সক্ষম।
এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য এক্সিলারেট এনার্জি বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর মো. হাবিবুর রহমান ভূঁইয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, তিনি মিটিংয়ে আছেন জানিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
সামিট টার্মিনাল পুনরায় চালু হওয়ায় শিল্প খাতে উৎপাদন সচল রাখা এবং বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় বড় ধরনের অগ্রগতি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
