মার্কিন প্রতিষ্ঠান গানভরের কাছ থেকে ১৩ বছরে ১১৭ কার্গো এলএনজি আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন
দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান গানভর ইউএসএ এলএলসি থেকে সরকার থেকে সরকার (জিটুজি) পদ্ধতিতে আগামী ১৩ বছরে মোট ১১৭ কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।
আজ বুধবার অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। এখন মার্কিন কোম্পানিটির সঙ্গে চুক্তি সই করবে পেট্রোবাংলা। চলতি বছর অর্থাৎ ২০২৬ থেকে ২০৩৮ সাল পর্যন্ত এই এলএনজি আমদানি করা হবে।
অনুমোদিত ক্রয় প্রস্তাব অনুযায়ী, গানভর ইউএসএ এলএলসি বাংলাদেশকে চলতি বছর ৫ কার্গো এলএনজি সরবরাহ করবে। ২০২৭ সালে ৬ কার্গো ও ২০২৮ সালে ৩ কার্গো এলএনজি সরবরাহ করবে।
এই ১৪ কার্গো এলএনজি সরবরাহ করার ক্ষেত্রে দর নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি এমএমবিটিইউ'তে এশিয়ার স্পট মার্কেট (খোলাবাজার) প্রাইস হিসেবে পরিচিত জাপান-কোরিয়া মার্কার (জেকেএম) এর সঙ্গে অতিরিক্ত ০.০৮৭৫ ডলার।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত দামের কারণে আটকে গেল মার্কিন প্রতিষ্ঠানের সাথে বাংলাদেশের এলএনজি চুক্তি
এছাড়া, ২০২৮ সালে ৩ কার্গো এবং ২০২৯ থেকে ২০৩৮ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর ১০ কার্গো করে এলএনজি সরবরাহ করবে কোম্পানিটি। এক্ষেত্রে প্রতি এমএমবিটিইউ এর দাম অনুমোদন করা হয়েছে উত্তর আমেরিকার প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রধান মূল্য নির্ধারণের ভিত্তি 'হেনরি হাব' এর ১২১ শতাংশের সঙ্গে আরও ৫.২০ ডলার।
গত শুক্রবার (৭ আগস্ট) এই ক্রয় প্রস্তাব ফেরত পাঠিয়েছিল ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। তখন ২০২৬ থেকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত যে ১৪ কার্গো এলএনজি সরবরাহ করা হবে, তার প্রতি ইউনিটের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল জেকেএম + ০.৮৭৫ মার্কিন ডলার।
পরবর্তীতে পেট্রোবাংলা যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিটির সঙ্গে নেগোসিয়েশন করে এক্ষেত্রে দাম কমাতে সক্ষম হয়েছে বলে জানা গেছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তিতে জ্বালানি ও বাণিজ্য সহযোগিতার অংশ হিসেবে দীর্ঘমেয়াদী চুক্তিতে এলএনজি আমদানির বিষয়টি বিশেষভাবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ওই চুক্তির আওতায় আগামী ১৫ বছরে বাংলাদেশ প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি ডলার বা ১৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যের মার্কিন এলএনজি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির মাধ্যমে আমদানির পরিকল্পনা নেয় সরকার। এর অংশ হিসেবেই গানভর ইউএসএ এলএলসির সঙ্গে এই চুক্তি সই করতে যাচ্ছে সরকার।
এছাড়া, ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে হংকং থেকে চলতি বছর ২ কার্গো এলএনজি আমদানির প্রস্তাবও অনুমোদন করেছে। এতে প্রতি এমএমবিটিইউ এর দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৪.৯৫ ডলার।
এছাড়া, যুক্তরাজ্যের ব্ল্যাককিউব ইন্টারন্যানশনাল থেকে প্রতি এমএমবিটিইউ ১৫.৫০ ডলার দরে ২ কার্গো এবং ওমানের ম্যাক্সওয়েল ইন্টারন্যাশনাল এসপিসি থেকে জেকেএম + ০.৫৪ ডলার/এমএমবিটিইউ দরে ২ কার্গো এলএনজি আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন করেছে ক্রয় কমিটি।
