সরকারের অব্যবস্থাপনা-অদক্ষতায় বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট চরমে: অভিযোগ জামায়াতের
সরকারের অব্যবস্থাপনা, অদক্ষতা, অদূরদর্শিতা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি ও দলীয়করণের কারণে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট চরমে উঠেছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। আজ বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) এক বিবৃতিতে সংগঠনটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এ অভিযোগ করেন। সেই সঙ্গে বিদ্যুৎ-গ্যাসের ব্যাপক সংকটে জনদুর্ভোগ ও শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।
বিবৃতিতে গোলাম পরওয়ার বলেন, গত ৯ আগস্ট থেকে দেশে ব্যাপক লোডশেডিং শুরু হয়েছে। ৯ আগস্ট ৩ হাজার ৬৭১ মেগাওয়াট, ১০ আগস্ট ৩ হাজার ৭৫৭ মেগাওয়াট, ১১ আগস্ট ৩ হাজার ৪৬৫ মেগাওয়াট এবং ১২ আগস্ট ৩ হাজার ৩৮২ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছে। এতে গত কয়েকদিনে গড়ে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতি রয়েছে। ফলে দেশের সাধারণ মানুষ ও শিল্পখাত ভোগান্তিতে পড়েছে।
তিনি আরও বলেন, গতকাল বুধবার (১২ আগস্ট) ৩৮০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ছিল মাত্র ২০৩ কোটি ঘনফুট। তার অভিযোগ- সরকারের অব্যবস্থাপনা, অদক্ষতা, অদূরদর্শিতা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি ও দলীয়করণের কারণে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট চরমে উঠেছে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জ্বালানি সংকট বাড়ায় জনরোষও ক্রমশ বাড়ছে। ইতোমধ্যে দেশের ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে নিরাপত্তা জোরদারের জন্য পুলিশ সদর দপ্তরে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশন। এটিকে সরকারের বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় ব্যর্থতার একটি চিত্র বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় সুদূরপ্রসারী সিদ্ধান্ত না নেওয়ার কারণে শিল্প-কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। বাসাবাড়িতে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটে রান্নাবান্নাসহ দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায়ও বিঘ্ন ঘটছে। সর্বোপরি নাগরিক জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।
সংকট মোকাবিলায় সরকারকে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো, শিল্পে গ্যাস চুরি বন্ধ, লিকেজ ও সিস্টেম লস কমানো, এনার্জি কনভার্শনের প্রয়োজনীয় নীতি ও যন্ত্রপাতি আমদানি সহজ করা এবং তেল পাচার রোধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান গোলাম পরওয়ার। একই সঙ্গে সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে অপরিশোধিত তেল আমদানির ব্যবস্থা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিতরণের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের দক্ষতা উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
অভ্যন্তরীণ গ্যাস অনুসন্ধানের ওপরও গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, স্থলভাগের গ্যাস রিজার্ভার ব্যবস্থাপনায় নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার, নতুন এক্সপ্লোরেশন কূপ ও ডেভেলপমেন্ট কূপ খননে সক্ষম বিদেশি অংশীদার আনা জরুরি।
গোলাম পরওয়ার সতর্ক করে বলেন, জনগণের মৌলিক ও দৈনন্দিন চাহিদা পূরণে সরকার ব্যর্থ হলে যেকোনো উদ্ভূত পরিস্থিতির দায় সরকারকেই নিতে হবে।
