দেশভাগের সময় জোর করে সব হিন্দু গ্রাম বাংলাদেশকে দিয়ে দেওয়া হয়েছে: যোগী আদিত্যনাথ
laming the Congress for India's Partition in 1947, chief minister Yogi Adityanath on Friday stated that if a leader like Narendra Modi had been present then, India would have remained undivided.
দেশভাগের জন্য কংগ্রেসকে দায়ী করে ভারতের উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ বলেছেন, ওই সময় নরেন্দ্র মোদির মতো প্রধানমন্ত্রী থাকলে ভারত অখণ্ড থাকত। এছাড়া দেশভাগের সময় বাঙালি-প্রধান এলাকা ও সব হিন্দু গ্রামকে জোর করে বর্তমান বাংলাদেশের (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল বলেও মন্তব্য করেন এই বিজেপি নেতা।
এ সময় আদিত্যনাথ আরও দাবি করেন, ১৯৪৭ সালে সর্দার বল্লভভাই পটেলের মতো ব্যক্তিত্ব প্রধানমন্ত্রী হলে ভারতকে কেউ খণ্ডবিখণ্ড করতে পারত না।
লখনউ শহরে দেশভাগের স্মরণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আদিত্যনাথ দেশভাগ ও তৎপরবর্তী দাঙ্গার জন্য কংগ্রেসই 'প্রকৃত অর্থে দায়ী' বলে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, 'স্বাধীনতার সময় নরেন্দ্র মোদির মতো প্রধানমন্ত্রী থাকলে ভারত অখণ্ড থাকত। সেই সময়ে সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের মতো কেউ প্রধানমন্ত্রী হলে কেউ ভারতকে টুকরো করতে পারত না। ...এই কংগ্রেস নেতাদের কাপুরুষতার জন্য দেশকে চড়া মূল্য দিতে হয়েছে। সিএএ-র (সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন) বিরুদ্ধে বিক্ষোভের সময়ও তাদের এই একই রূপ আপনারা দেখেছেন।'
এই বিজেপি নেতার অভিযোগ, ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান এমন ভূখণ্ডও পেয়েছিল যা তারা কখনোই চায়নি। তার দাবি, সিন্ধু ছিল হিন্দু ও সিন্ধি-অধ্যুষিত এলাকা। এ এলাকা জোর করে পাকিস্তানের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। একইভাবে পাঞ্জাবি-অধ্যুষিত পাঞ্জাবও তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
যোগী আদিত্যনাথ বলেন, 'বাংলা ছিল বাঙালি-অধ্যুষিত। সেখানকার সমস্ত হিন্দু গ্রাম জোর করে বাংলাদেশকে দেওয়া হয়েছিল। ক্ষমতার লোভে মরিয়া হয়ে কংগ্রেস এই লজ্জাজনক কাজ করেছিল। দেশ তাদের ওপর ভরসা করেছিল, তারা সেই ভরসার প্রতিদান দিয়েছে বিশ্বাসঘাতকতা দিয়ে।'
উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর হামলার ঘটনাতেও কংগ্রেস নীরব থেকেছে। তিনি বলেন, 'তারা ভয় পেয়েছিল, বাংলাদেশের ঘটনা নিয়ে মুখ খুললে এখানকার ভোটব্যাংক হাতছাড়া হতে পারে। দলিত হিন্দুদের হত্যাকাণ্ডের কোনো মূল্য তাদের কাছে নেই; তাদের কাছে নিজেদের ভোটব্যাংকই কেবল গুরুত্বপূর্ণ।'
যোগী আদিত্যনাথ দাবি করেন, ধনসম্পদের কারণেই বিদেশি আক্রমণকারীরা ভারতের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিল। আর বর্ণ, অঞ্চল ও ভাষার ভিত্তিতে বিভাজনের কারণেই দেশটি 'পরাধীন' হয়েছিল।
এই বিজেপি নেতা দাবি করেন, ষোলো ও সতেরো শতকে বিশ্ব অর্থনীতিতে ভারতের অবদান ছিল প্রায় ২৪-২৫ শতাংশ।
তিনি আরও বলেন, দেশভাগের ভুলের মাশুল ভারতকে আজও সন্ত্রাসবাদ, নকশালবাদ, মাওবাদ ও অন্যান্য চরমপন্থার মাধ্যমে চোকাতে হচ্ছে।
ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে কংগ্রেসের ভুমিকারও সমালোচনা করেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী।
দেশভাগকে 'মানবতার অন্ধকারতম অধ্যায়' আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, '১৯৪৭-পূর্ববর্তী সেই ষড়যন্ত্র নিয়ে আমরা সবাই যে নীরবতা পালন করেছি, তার দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন। অথচ আজও এই মানুষগুলো সমাজে এমনভাবে ঘুরে বেড়ায় যেন তারাই ভারত সৃষ্টি করেছে, তারা না থাকলে ভারতের অস্তিত্বই থাকত না।'
সিএএর বিরুদ্ধে কংগ্রেসের অবস্থান নিয়েও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন যোগী আদিত্যনাথ। তিনি বলেন, 'এই আইনের বিরোধিতা করার কোনো যৌক্তিকতাই ছিল না। আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ—যেসব অঞ্চল একসময় অবিভক্ত ভারতের অংশ ছিল এবং হাজার বছরের অভিন্ন ঐতিহ্যের হিস্যাদার—এই তিন দেশের জন্য আইনে বিশেষ বিধান রাখা হয়েছিল।
'আইনে বলা হয়েছিল, ওই দেশগুলো থেকে বিতাড়িত হয়ে কোনো হিন্দু, শিখ, জৈন, বৌদ্ধ, পার্সি কিংবা খ্রিস্টান যদি ভারতে এসে অন্তত পাঁচ বছর আশ্রয় নিয়ে থাকেন, তবে তাদের ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়া হবে।'
এই বিজেপি নেতা বলেন, এ আইনে মুসলিম, কংগ্রেস বা সমাজবাদী পার্টির কারও জমি কেড়ে নেওয়ার কথা বলা হয়নি। 'আইনে এমন কোনো বিধানই ছিল না। তা সত্ত্বেও গোটা দেশে উত্তেজনা উসকে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল,' বলেন তিনি।
