তামিলনাড়ুতে মেয়েদের ফ্রি বাস সেবা বাড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী বিজয়, প্রতিদিন উপকৃত হবেন ৮৪ লাখের বেশি নারী
তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী সি. জোসেফ বিজয় শুক্রবার গান্ধীজয়ন্তীর সঙ্গে মিল রেখে নারীদের জন্য বিনামূল্যে বাসে যাতায়াতের সুবিধা 'ভেট্রি পায়ানাম' সম্প্রসারিত কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন।
সরকার জানিয়েছে, বিনামূল্যে বাসে যাতায়াতের এই সুবিধা সম্প্রসারণের ফলে প্রতিদিন ৮৪ লাখের বেশি নারী উপকৃত হবেন।সুবিধাভোগীরা 'ডিলাক্স' ও 'এক্সপ্রেস'সহ বিভিন্ন শ্রেণির বাসেও এই সুবিধা নিতে পারবেন।
এই সুবিধা পেতে কোনো আয়সীমা থাকবে না। একই সঙ্গে প্রতিদিন কতবার বাসে যাতায়াত করা যাবে, তারও কোনো সীমা থাকবে না।
ক্ষমতাসীন দল তামিলাগা ভেট্রি কাজাগামের নাম থেকে এই কল্যাণমূলক কর্মসূচির নাম 'ভেট্রি পায়ানাম' রাখা হয়েছে। এর অর্থ নারীদের জন্য 'বিজয়ী যাত্রা'।
এর আগে, গত ২৪ আগস্ট রাজ্য বিধানসভায় তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী সি. জোসেফ বিজয় বছরে বিনামূল্যে তিনটি এলপিজি সিলিন্ডার এবং বিনা ভাড়ায় বাস ভ্রমণের সুবিধা আরও বাড়ানোসহ নারীদের জন্য বেশ কয়েকটি বড় সুবিধার ঘোষণা দেন।
তিনি জানান, 'অন্নপূর্ণি সুপার সিক্স' নামে নতুন একটি প্রকল্পের আওতায় পরিবারের নারী প্রধানকে বছরে তিনটি বিনামূল্যে এলপিজি সিলিন্ডার দেওয়া হবে। এ প্রকল্পে বছরে প্রায় ৪ হাজার কোটি রুপি ব্যয় হতে পারে বলে জানা যায়।
মুখ্যমন্ত্রী বিজয় জানান, আগামী জানুয়ারিতে পঙ্গল উৎসবের সময় থেকে প্রকল্পটি চালু হবে। এতে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ পরিবার উপকৃত হবে।
এ প্রকল্পের আওতায় সিলিন্ডারের মূল্য সরাসরি পরিবারের নারী প্রধানের ব্যাংক হিসাবে দেওয়া হবে। সিলিন্ডার বুকিং ও সরবরাহের পর তেল বিপণন কোম্পানিগুলোর বিলের ভিত্তিতে অর্থ ফেরত দেওয়া হবে।
বছরে আড়াই লাখ রুপির কম আয় করা পরিবারগুলো 'অন্নপূর্ণি সুপার সিক্স' প্রকল্পের আওতায় সুবিধা পাবে। অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল পরিবার, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের পরিবার এবং প্রতিবন্ধী সদস্য থাকা পরিবারও এর আওতায় থাকবে।
এছাড়া নারীদের জন্য বিনা ভাড়ায় বাস ভ্রমণের বিদ্যমান সুবিধাও বাড়ানোর ঘোষণা দিয়ে বিজয় জানান, এখন থেকে রাজ্য পরিচালিত সাধারণ বাসের পাশাপাশি এক্সপ্রেস ও ডিলাক্স বাসেও নারীরা বিনা ভাড়ায় ভ্রমণ করতে পারবেন। এ সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে নারীদের আয়ের কোনো সীমা বা ভ্রমণের সংখ্যার ওপর কোনো বিধিনিষেধ থাকবে না।
একই সঙ্গে তিনি চেন্নাইয়ের দ্বিতীয় বিমানবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনা বাতিলের ঘোষণা দেন। পাড়ান্দুর এলাকায় বিমানবন্দরটি নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল।
তিনি বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হতো এবং কৃষক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবিকা বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা ছিল।
