পূর্বাচল বাস ডিপো চালু হওয়ায় স্বস্তিতে মহাখালী
পূর্বাচল বাস ডিপো চালুর পর প্রথম ছয় সপ্তাহ সেখানে তেমন বাসের আনাগোনা ছিল না। ডিপোর সামনের চায়ের দোকান থেকে বিষয়টি দেখেছেন মোজাম্মেল মিয়া। বাড়ি কাছাকাছি হওয়ায় ক্রেতা না থাকলেও দোকান চালিয়ে গেছেন তিনি। তবে সেপ্টেম্বরে পরিস্থিতি বদলে যায়। জুলাইয়ে চালুর পর থেকে প্রায় অর্ধেক খালি পড়ে থাকা ডিপোটিতে হঠাৎ বাস, চালক ও মেকানিকদের ভিড় বাড়তে থাকে। বাড়ে ক্রেতাদের আনাগোনাও। আর তাতেই চায়ের দোকানের বিক্রি বেড়ে যায় মোজাম্মেলের।
মোজাম্মেলের ছোট্ট চায়ের দোকানের এই পরিবর্তন আসলে সরকারের একটি বড় পরিকল্পনার বাস্তব চিত্র তুলে ধরে। বাস স্থানান্তরের উদ্যোগটি শুরুর দেড় মাসে কার্যকর হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত পরিকল্পনাটি বাস্তবে কাজ করতে শুরু করেছে।
পরিকল্পনাটি শুনতে সহজ হলেও বাস্তবায়নে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। ১৯৮৪ সালে চালু হওয়া মহাখালী আন্তজেলা বাস টার্মিনাল দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় জেলাগুলোতে চলাচলকারী বাসের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। প্রায় ২০০টি বাস রাখার সক্ষমতা নিয়ে নির্মিত এই টার্মিনালটি দীর্ঘদিন ধরেই ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি বাসের চাপ সামলাচ্ছিল।
বছরের পর বছর ধরে টার্মিনালের বাইরে আশপাশের সড়কগুলোতে শত শত বাস পার্ক করে রাখা হতো। গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার নির্ধারিত সময়ের জন্য এসব বাসকে কখনো কখনো ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হতো। ফলে টার্মিনালসংলগ্ন সড়কগুলোতে যানজট প্রায় স্থায়ী রূপ নেয়।
এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে চলতি বছরের ১৫ জুলাই একটি উদ্যোগ নেয় কর্তৃপক্ষ। সিদ্ধান্ত হয়, দূরপাল্লার বাসগুলোকে মহাখালী থেকে সরিয়ে কয়েক কিলোমিটার দূরে পুর্বাচল নিউ টাউনের গুতিয়া এলাকার ৩ নম্বর সেক্টরে অবস্থিত একটি অস্থায়ী ডিপোতে রাখা হবে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, বাসগুলো মূল সড়কের বাইরে ওই ডিপোতে অপেক্ষা করবে। ছাড়ার নির্ধারিত সময় ঘনিয়ে এলে সেখান থেকে মহাখালী টার্মিনালে এসে যাত্রী তুলবে, তারপর গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা দেবে। কাগজে-কলমে পরিকল্পনাটির লক্ষ্য ছিল রাজধানীর অন্যতম যানজটপূর্ণ এই টার্মিনাল এলাকায় বাসের অপ্রয়োজনীয় চলাচল কমানো। কিন্তু বাস্তবে উদ্যোগটি শুরুর পর প্রথম দিকে ডিপোতে বাসের উপস্থিতি ছিল নগণ্য।
শুরুর সেই নীরব অবস্থা থেকে আজকের ব্যস্ত ডিপোতে রূপান্তরের পেছনে পরিকল্পনার কোনো পরিবর্তন ছিল না; বরং বদল আনা হয়েছিল এর বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনায়। আক্ষরিক অর্থেই, বাসকর্মীদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি পূরণ করা হয়। প্রথম কয়েক সপ্তাহে কর্তৃপক্ষ ডিপোতে বিশ্রামের জায়গা, গোসলখানা, শৌচাগার, খাবারের ব্যবস্থা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করে। পাশাপাশি ডিপোর দৈনন্দিন কার্যক্রম সচল রাখতে ট্রাফিক পুলিশও সক্রিয় ভূমিকা পালন করে।
এর ফলও মিলেছে। গত মাস নাগাদ পুর্বাচল ডিপোতে বাসের আনাগোনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। এখন প্রতিদিন গড়ে ১৫০ থেকে ২০০টি বাস সেখানে আসছে।
পুর্বাচলের বাড়তি সুবিধা
পুর্বাচল ডিপোতে এখন গেলে দেখা মিলবে শতাধিক বাসের। সাথী এন্টারপ্রাইজ, জমজম ট্রাভেলস, শাহ ফতেহ আলী, এনা, কাজী পরিবহনসহ এক ডজনেরও বেশি পরিবহনের বাস এখানে রাখা হচ্ছে। এসব বাস ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, নেত্রকোনা, শেরপুর, জামালপুর, কিশোরগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, নওগাঁ, গাইবান্ধা, রংপুর ও কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন রুটে চলাচল করে।
ডিপোর পূর্ব পাশে চলছে বিভিন্ন ধরনের মেরামতের কাজ। কর্মব্যস্ত সময় পার করছেন বাসের বডি মেরামতকারী, মেকানিক, রংমিস্ত্রি, ইলেকট্রিশিয়ান ও লিফ স্প্রিং মেরামতের কারিগরেরা। কোথাও ইঞ্জিন মেরামত চলছে, কোথাও বাসে নতুন রং করা হচ্ছে, আবার কোথাও বদলানো হচ্ছে জানালার কাচ। সব মিলিয়ে বাস রাখার নির্ধারিত জায়গাটি এখন অনেকটা পূর্ণাঙ্গ বাস মেরামতের ইয়ার্ডে পরিণত হয়েছে।
শুরুতে যেসব চালক পুর্বাচলে বাস স্থানান্তরের সিদ্ধান্তে আপত্তি জানিয়েছিলেন, শেষ পর্যন্ত তাঁদের মনোভাব বদলেছে মূলত এখানে পাওয়া স্বাচ্ছন্দ্য ও সুযোগ-সুবিধার কারণে। নীতিগত সিদ্ধান্তের চেয়ে দৈনন্দিন কাজের সুবিধাই তাদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
নিরালা সুপারের চালক সাদ্দাম হোসেন প্রথম দিকে পুর্বাচল ডিপোতে আসতে আগ্রহী ছিলেন না। তার ভাষায়, 'শুরুতে এখানে আসতে আমার ভালো লাগত না। গোসল, শৌচাগার ও খাবারের ব্যবস্থা নিয়ে সমস্যা ছিল। তবে এখন এসব সমস্যার বেশির ভাগই সমাধান হয়েছে। মহাখালীতে আমাদের কর্মীদের বিশ্রামের কোনো ব্যবস্থা ছিল না, কিন্তু এখানে বিশ্রাম নেওয়ার জায়গা আছে। এখন পুর্বাচল বাস ডিপোকে আমাদের বেশ সুবিধাজনক মনে হচ্ছে।'
ইউনাইটেড ট্রান্সপোর্টের চালক সোহেল কিবরিয়ার মতো দূরপাল্লার চালকের কাছে দুই জায়গার পার্থক্য বোঝার মাপকাঠি হলো একটি বাসকে কতবার সরাতে হয় তার ওপর। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মহাখালী টার্মিনালে প্রবেশপথের সংকীর্ণতা ও জায়গার জন্য বাসগুলোর মধ্যে সারাক্ষণ ঠেলাঠেলি চলতে থাকায় অপেক্ষার সময় একটি বাস তাকে অন্তত ৫০ বার পর্যন্ত সরাতে হতো।
কিন্তু পুর্বাচলে আগের রাতে বাস নিয়ে আসার পর থেকে তাকে একবারও ইঞ্জিন চালু করতে হয়নি। সোহেল বলেন, 'মহাখালী বাস টার্মিনালে নানা ধরনের সমস্যা রয়েছে। সেখানে ঢোকা কঠিন, জায়গা খুব কম, অথচ বাসের সংখ্যা অনেক বেশি। সড়কে যানজট তৈরি হয়, আর পুলিশও আমাদের হয়রানি করে।'
শুধু জায়গার সংকট নয়, নিরাপত্তার বিষয়টিও চালকদের নতুন ডিপোমুখী করেছে। মহাখালীতে সম্প্রতি চুরির একটি ঘটনার কথা জানান সোহেল। বাসের জানালার কাচ ভেঙে ভেতরে ঢুকে চোরেরা তার ও সুপারভাইজারের নগদ টাকা এবং মুঠোফোন নিয়ে যায়। তিনি বলেন, 'বাসের ভেতরে নিজেদের জিনিসপত্র নিরাপদে রাখাও আমাদের জন্য কঠিন।' তার মতে, নিরাপত্তার দিক থেকে পুর্বাচলের ব্যবস্থা আগের তুলনায় অনেক ভালো।
এনা পরিবহনের সুপারভাইজার শাহ পরান বিষয়টিকে দেখছেন পরিবহন পরিচালনার সুবিধার দিক থেকে। তার কর্মীরা মহাখালীতে যাত্রী নামিয়ে সরাসরি পুর্বাচল ডিপোতে চলে আসেন। টার্মিনালের আশপাশে অযথা অপেক্ষা করতে হয় না তাদের। শাহ পরান বলেন, 'এখানে যানজট নেই, আর নিরাপত্তাব্যবস্থাও পর্যাপ্ত। কোনো অতিরিক্ত খরচ নেই। কর্তৃপক্ষ আমাদের যথেষ্ট সহযোগিতা করছে। শৌচাগার কিংবা গোসলখানা ব্যবহার করতেও কোনো টাকা দিতে হয় না।'
তবে ডিপোর বর্তমান ব্যবস্থাপনায় সন্তুষ্ট চালক ও কর্মীদেরও কিছু অভিযোগ রয়েছে। শাহ পরানের মতে, বাসের সংখ্যা বেড়ে গেলে বিশ্রাম ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার ওপর চাপ তৈরি হয়। শৌচাগার ও গোসলখানার সংখ্যাও তুলনামূলক কম। ফলে ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেড়ে গেলে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখাও কঠিন হয়ে পড়ে। তিনি বলেন, 'এসব বিষয়ে আরও নজর দেওয়া হলে ডিপোটি ব্যবহার করা বাসের সংখ্যা আরও বাড়বে।'
তার কথায় অসন্তোষের চেয়ে উন্নতির সম্ভাবনাই বেশি স্পষ্ট। পুর্বাচল ডিপো যে ধীরে ধীরে চালকদের আস্থা অর্জন করছে, তা বোঝা যায় তাদের অভিজ্ঞতা থেকেই। এখন প্রয়োজন বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধাগুলো আরও বাড়ানো, যাতে বাড়তি বাসের চাপ সামলেও ডিপোটির কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা যায়।
অবশেষে স্বস্তি ফিরছে মহাখালীতে
পুর্বাচল বাস ডিপো চালুর সুফল এখন স্পষ্ট হয়ে উঠছে মহাখালীতে। এর প্রভাব পড়েছে স্থানীয় বাসচালকদের দৈনন্দিন কাজেও, যাদের কখনো পুর্বাচল পর্যন্ত যেতে হয় না। দূরপাল্লার বাসগুলো মহাখালীর সড়ক ছেড়ে নতুন ডিপোতে অপেক্ষা করায় টার্মিনাল এলাকায় চলাচল আগের তুলনায় অনেক সহজ হয়েছে।
গুলিস্তান-গাজীপুর পরিবহনের চালক আবদুল মান্নান বলেন, 'আগে দূরপাল্লার বাসগুলো সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকত। এতে স্থানীয় বাস চলাচলের জন্য খুব কম জায়গা অবশিষ্ট থাকত। এখন পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। আগের তুলনায় এই এলাকা দিয়ে অনেক সহজে চলাচল করতে পারছি।'
বলাকা পরিবহনের চালক শহিদুল ইসলামও মনে করেন, মহাখালীতে যান চলাচল আগের চেয়ে অনেকটাই স্বাভাবিক হয়েছে। তার কাছে পরিবর্তনটি শুধু সড়কে জায়গা বেড়ে যাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং যানবাহনের চলাচলে স্বস্তি ফিরে আসাটাই বড় বিষয়। তিনি বলেন, 'আগে মহাখালী এলাকায় তীব্র যানজট লেগে থাকত, বিশেষ করে বাসগুলো যখন সড়কে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকত। এখন অনেক দূরপাল্লার বাস পুর্বাচলে রাখা হচ্ছে। ফলে যান চলাচল আগের তুলনায় সহজ হয়েছে। টার্মিনাল এলাকায় বাস নিয়ে প্রবেশ করা ও বের হওয়াও এখন সহজ।'
আজমেরী গ্লোরির সুপারভাইজার মাহবুবুর রহমান বিষয়টি আরও সহজভাবে ব্যাখ্যা করেন। আগে যেসব বাস সড়কে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে অন্য যানবাহনের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করত, সেগুলো এখন আর সেখানে নেই। ফলে সড়কে চলাচলের পথও অনেকটাই উন্মুক্ত হয়েছে।
ঢাকা জেলা বাস-মিনিবাস সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইউসুফ মির্জা শুরু থেকেই এই উদ্যোগের বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ করছেন। পরিকল্পনাটি কার্যকর করতে গিয়ে প্রথম দিকে যে সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে, তাও স্বীকার করেন তিনি। ইউসুফ মির্জা বলেন, 'শুরুতে কিছু সমস্যা ছিল। তবে গত মাস থেকে মহাখালীর বেশির ভাগ বাসই পুর্বাচল ডিপো ব্যবহার করছে।'
পরিসংখ্যানেও এই পরিবর্তনের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। প্রতিদিন গড়ে ১৫০ থেকে ২০০টি বাস পুর্বাচল ডিপোতে আসছে। যেকোনো সময় সেখানে সাধারণত ৮০ থেকে ৯০টি বাস অবস্থান করে। সড়কে বাস পার্ক করে রাখার পুরোনো প্রবণতা যেন আবার ফিরে না আসে, সে লক্ষ্যেই বাসগুলোকে ডিপোতে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
মহাখালী টার্মিনালে বাস রাখার ক্ষেত্রেও এখন রয়েছে সুনির্দিষ্ট নিয়ম। ইউসুফ মির্জা জানান, যেসব বাসের ছাড়ার নির্ধারিত সময় দুই থেকে তিন ঘণ্টার মধ্যে, কেবল সেগুলোকেই টার্মিনালে থাকার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। অন্য বাসগুলোকে অপেক্ষা করতে হচ্ছে পুর্বাচল ডিপোতে। তিনি বলেন, 'এখন আর সড়কের ওপর বাস পার্ক করে রাখতে দেওয়া হয় না। মহাখালী টার্মিনাল এখন আগের তুলনায় অনেকটাই ফাঁকা।'
মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারাও বলছেন, পুর্বাচল ডিপো এখনো পুরোপুরি গুছিয়ে ওঠার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। তবে শুরুর দিকের সমস্যাগুলো কাটিয়ে এর কার্যক্রম যে অনেকটাই স্থিতিশীল হয়েছে, তা স্পষ্ট।
পুর্বাচল ডিপোতে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশের উপপরিদর্শক নুর আলম জানান, এক দিনেই সেখানে ১৫১টি যানবাহন প্রবেশ করেছে। ওয়ার্কশপ ও ডাম্পিং এলাকায় আসা যানবাহনও হিসাবে ধরলে সংখ্যাটি ২০০ ছাড়িয়ে যায়। নির্ধারিত সময়ে কিছু বাস ছেড়ে যাওয়ার পরও ডিপোতে ৭৬টি বাস অবস্থান করছিল।
ডিপোর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক মাসুদ রানাও একই ধরনের পরিবর্তনের কথা জানান। তিনি বলেন, 'গত মাস থেকে আমরা বেশ ভালো সাড়া পাচ্ছি। প্রতিদিন গড়ে ১৫০ থেকে ২০০টি বাস ডিপোতে আসছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আমরা আশা করছি।'
তবে পুর্বাচল ডিপোর কার্যক্রম শুরু হওয়ায় মহাখালীর যানজট পুরোপুরি দূর হয়ে গেছে, এমনটা বলার সুযোগ নেই। ডিপোর নিজস্ব ব্যবস্থাপনায়ও এখনো কিছু ঘাটতি রয়েছে। ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে তাল মিলিয়ে আরও শৌচাগার ও গোসলখানা নির্মাণ, পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা এবং পর্যাপ্ত বিশ্রামের জায়গা তৈরি করা জরুরি হয়ে পড়েছে।
তবে চালুর পর প্রথম দিকে উদ্যোগটি কার্যত ব্যর্থ হতে বসেছিল। সেই পরিস্থিতি থেকে তিন মাসের ব্যবধানে এখন মহাখালীর সড়কে যান চলাচল আগের চেয়ে স্পষ্টতই স্বাভাবিক হয়েছে। আগে যেসব বাস সড়কের পাশে অলস দাঁড়িয়ে থাকত, সেগুলোর অপেক্ষার জন্য এখন বিকল্প জায়গা রয়েছে। আর পুরো পরিবর্তনটি নিজের ছোট্ট চায়ের দোকান থেকে দেখছেন এক চা বিক্রেতা। তার বিক্রির হিসাবই বলে দিচ্ছে, শেষ পর্যন্ত কিছু একটা বদলেছে।
