জনগণ দেশের নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে নেবে, মোদি-শাহ সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার সময় ঘনিয়ে এসেছে: রাহুল গান্ধী
ভারতের লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সরকারের সময় ফুরিয়ে আসছে।
তিনি বলেন, ভারতীয় জনগণ প্রজাতন্ত্রের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে ফিরিয়ে নেবে—সেই দিন আর বেশি দূরে নয়।
আজ সোমবার (১৮ অক্টোবর) গোয়ায় এক সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় রাহুল গান্ধী এসব কথা বলেন।
এসময় এই কংগ্রেস নেতা বলেন, বিজেপি নেতাদের আসল রূপ মানুষ দেখে ফেলেছে। জোরজবরদস্তি করে কিংবা টাকা দিয়ে মানুষের মন বদলানো যাবে না।
রাহুল গান্ধী বলেন, দেশের মানুষ নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহের আসল চেহারা দেখে ফেলেছে। মানুষ একবার সত্যটা বুঝে গেলে তাদের আর নতুন করে ভুল বোঝানো যায় না। তারা [সরকার] যত খুশি বলপ্রয়োগ করুক, প্রচারণার পেছনে যত খুশি অর্থ ব্যয় করুক, কিন্তু দেশের মানুষ যখন সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে এবং বুঝতে পারে যে আসলে কী ঘটছে, তখনই সেই সরকারের পতন ঘটে। তারা দুজনই এটা জানেন। জ্ঞানেশ কুমারও নিশ্চিতভাবেই এটা জানেন। এ কারণেই তিনি রাতে ঘুমাতে পারেন না।
তিনি বলেন, 'ইদানীং তার [নরেন্দ্র মোদির] চেহারা দেখেছেন? সেই ৫৬ ইঞ্চি বুকের ছাতি কোথায়? আজ নরেন্দ্র মোদি জনগণের মুখোমুখি হতে পারছেন না।'
তিনি আরও বলেন, 'অমিত শাহও জানেন, সবকিছু প্রায় শেষ হয়ে গেছে। এ দেশের তরুণেরা তাদের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন। তিনি রাতে ঘুমাতে পারেন না। তাদের ক্ষমতার মেয়াদ শেষ হওয়ার সময় ঘনিয়ে এসেছে। তারা আমাদের হাত থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পারবেন না। সেই দিন আর বেশি দূরে নয়।'
রাহুল গান্ধী বলেন, 'দেশে কী ঘটছে, তা আপনারা সবাই দেখতে পাচ্ছেন। পুরো দেশ জানে, জ্ঞানেশ কুমার ভোট চুরির ঘটনা বাস্তবায়ন করছেন, অমিত শাহ তা কার্যকর করছেন এবং নেপথ্য থেকে পুরো পরিকল্পনা করছেন মোদি।'
নিজের বিরুদ্ধে থাকা মানহানির মামলাগুলোর প্রসঙ্গ তুলে লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা জানান, প্রধানমন্ত্রী মোদিকে 'ভোট চোর' বলার কারণে তার বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো মানহানির মামলা হয়নি।
রাহুল গান্ধী বলেন, 'আমার বিরুদ্ধে ৪৫টির বেশি মানহানির মামলা রয়েছে। সব রাজ্যে গিয়েই আমি বলি, নরেন্দ্র মোদি একজন ভোট চোর। অথচ আজ পর্যন্ত নরেন্দ্র মোদিকে ভোট চোর বলার কারণে আমার বিরুদ্ধে কোনো মানহানির মামলা হয়নি।'
তিনি বলেন, 'বাস্তবতা হলো আমরা প্রমাণ করেছি যে মধ্যপ্রদেশ, হরিয়ানা, কর্ণাটক, ছত্তিশগড়, মহারাষ্ট্র, পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে তারা ভোট চুরি করেছে। তারা বিরোধীদলের ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে এবং নিজেদের ভোট বাড়িয়েছে। ভোটারদের এক জেলা থেকে অন্য জেলায়, এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে স্থানান্তর করেছে।'
রাহুল গান্ধী বলেন, নির্বাচনের সময় সতর্ক থাকা, সংবিধান রক্ষা করা এবং ভোট চুরির ঘটনা ঘটার সময়ই তা শনাক্ত করার দায়িত্ব কংগ্রেস কর্মীদের।
তিনি বলেন, 'দিল্লিতে আমরা এমন পরিস্থিতি তৈরি করেছি যে জ্ঞানেশ কুমার রাতে ঘুমাতে পারেন না। অমিত শাহ কিংবা নরেন্দ্র মোদিও ঘুমাতে পারেন না। কারণ তারা জানেন, আজ হোক বা কাল, তাড়াতাড়িই হোক বা দেরিতে হোক—কংগ্রেস ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে।'
তিনি আরও বলেন, 'নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহ ও জ্ঞানেশ কুমারকে বিচারের মুখোমুখি হতেই হবে এবং তারা যা করেছেন তার মূল্য দিতে হবে।'
আগামী বছরের শুরুর দিকে গোয়া রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন হওয়ার কথা। এ নির্বাচন সামনে রেখে রাজ্য কংগ্রেস মাসব্যাপী 'গয় রাখোন্ন যাত্রা' আয়োজন করেছে।
রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন পর্যায়ে আয়োজিত এ পদযাত্রার শেষ পর্বে অংশ নেন রাহুল গান্ধী। জমি দখল, পাহাড় কাটা, দুর্নীতি, প্রতারণা, বেকারত্ব, সরকারি চাকরি বিক্রি এবং জনগণের প্রয়োজনের বদলে ব্যবসায়িক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরাই এ যাত্রার লক্ষ্য।
রাহুল গান্ধী বলেন, 'গোয়া একটি স্বর্গ, দেশের অন্যতম সুন্দর রাজ্য। কিন্তু এখানে সরকার আপনাদের জমি চুরি করে কোটি কোটি রুপির বিনিময়ে বাইরের লোকদের কাছে বিক্রি করছে।'
এছাড়া বিজেপির বিরুদ্ধে গোয়াকে নিজেদের ব্যক্তিগত অর্থের ভান্ডারে পরিণত করার অভিযোগও করেন তিনি।
রাহুল গান্ধী বলেন, 'গোয়ায় দেশের মধ্যে বেকারত্ব সবচেয়ে বেশি। একদিকে মানুষ কাজের জন্য বিদেশে চলে যাচ্ছে, আরেকদিকে বিজেপির কর্মীরা ক্রমেই ধনী হচ্ছেন। মুখ্যমন্ত্রীর সম্পদ বাড়ছে। তরুণদের কোনো ভবিষ্যৎ নেই। পুরো ব্যবস্থাটাই ওলটপালট হয়ে গেছে।'
রাজ্যজুড়ে পদযাত্রার বিভিন্ন পর্যায়ে কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমার ও তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডি অংশ নেন। এছাড়া কংগ্রেস নেতা শচীন পাইলট ও কে সি ভেনুগোপালসহ অন্যান্য নেতারাও এতে অংশ নেন।
২০২৭ সালের শুরুর দিকে উত্তর প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড ও পাঞ্জাবের মতো রাজ্যগুলোর সঙ্গে গোয়াতেও বিধানসভা নির্বাচন হওয়ার কথা।
২০২২ সালের নির্বাচনে ৪০ আসনের বিধানসভায় ১১টি আসনে জয় পেয়েছিল কংগ্রেস। তবে একই বছর দলটির ১১ জন বিধায়কের মধ্যে আটজন বিজেপিতে যোগ দেওয়ায় বর্তমানে কংগ্রেসের বিধায়ক রয়েছেন মাত্র তিনজন।
