দুর্বার রাজশাহীকে আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি ক্রীড়া উপদেষ্টার

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) মাঠে গড়িয়েছে গত ৩১ জানুয়ারি। এর কদিন পর থেকেই পারিশ্রমিক জটিলতা নিয়ে আলোচনার শুরু। টুর্নামেন্টের ৩৪ দিন পেরিয়ে যাওয়ার পরও পারিশ্রমিকের আলোচনা তুঙ্গে, যার কেন্দ্রবিন্দুতে দুর্বার রাজশাহী। বারবার প্রতিশ্রুতি দিয়েও নিয়ম মেনে ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক দেয়নি ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। তাদের দেওয়া চেক দুবার বাউন্স হয়। পারিশ্রমিক না পেয়ে একটি ম্যাচে খেলেননি দলটির বিদেশি ক্রিকেটাররা।
দেশি ক্রিকেটাররা ২৫ শতাংশ পারিশ্রমিক পেয়ে অপেক্ষায় ছিলেন বাকি ২৫ শতাংশের। কদিন আগে ২৫ শতাংশ পারিশ্রমিকের চেক দেয় রাজশাহী। কিন্তু জমা দেওয়ার পর সব ক্রিকেটারের চেক বাউন্স হয়। এখনও তারা সেই পারিশ্রমিক বুঝে পাননি। বিদেশি ক্রিকেটারাও ২৫ শতাংশের পর উল্লেখযোগ্য পারিশ্রমিক পাননি। এমন অবস্থায় দুর্বার রাজশাহীকে কড়া বার্তা দিলেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি জানিয়েছেন, কথা বলার পর্ব শেষ; পারিশ্রমিক না দিলে রাজশাহীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
লিগ পর্বের ১২ ম্যাচে ছয় জয়ে ১২ পয়েন্ট নিয়ে শনিবার পর্যন্তও প্লে-অফের রেসে টিকে ছিল রাজশাহী। এদিন ঢাকা ক্যাপিটালসকে হারিয়ে প্লে-অফে উঠে যায় খুলনা টাইগার্স। ঢাকা জিতলে প্লে-অফের টিকেট মিলতো রাজশাহীর। টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেওয়ার দিনে ক্রীড়া উপদেষ্টার কাছ থেকে আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারিও পেতে হলো রাজশাহীকে। এদিন অবশ্য আরও এক দফায় ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক বুঝিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুত দিয়েছে দলটি।
শনিবার মিরপুরে খেলা দেখতে এসে রাজশাহীর স্বত্ত্বাধিকারী শফিক রহমানের সঙ্গে আলোচনায় বসেন ক্রীড়া উপদেষ্টা। রাজশাহীর মালিককে পরিষ্কার বার্তা দেওয়া হয়েছে বলে জানান আসিফ মাহমুদ। সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, 'আমি আজ সরাসরি রাজশাহীর মালিকের সঙ্গে কথা বলেছি। আমাদের তিনি আশ্বস্ত করেছেন, পারিশ্রমিক সমস্যার সমাধান করবেন। আর আমরা বলে দিয়েছি তিনি যদি সেটা করতে ব্যর্থ হন বা না করেন, তাহলে পরবর্তীতে আমরা আর কথা বলার মধ্যে থাকব না। আমরা আইনী ব্যবস্থা নেব।'
রাজশাহীকে ফ্র্যাঞ্চাইজি হিসেবে সুযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে যথেষ্ট যাচাই-বাছাই করা হয়নি বলে জানান বিসিবি পরিচালক ও বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব নাজমুল আবেদীন ফাহিম। তিনি বলেন, 'আমার মনে হয়, আমরা যথেষ্ট ভালোভাবে বিচার-বিবেচনা করিনি এই ফ্র্যাঞ্চাইজি নেওয়ার ক্ষেত্রে। তাদের আর্থিক সক্ষমতা, অভিজ্ঞতার ব্যাপারে বলি, যতোটুকু হিসেব নিকেশ করা দরকার ছিল, এই বিষয়গুলো যথাযথ যাচাই-বাছাই না করে আমরা বোধহয় তাদের অন্তর্ভুক্ত করেছি। যার ফলশ্রুতিতে আমাদের এমন একটা কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছি।'
একই সুরে কথা বলেন বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদও। তিনি জানান, রাজশাহী যা করেছে, একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট ধ্বংস করে দেওয়ার জন্য তা যথেষ্ট। বিসিবি বস বলেন, 'ফ্র্যাঞ্চাইজিদের সাথে আমরা আলাপ করেছি সেপ্টেম্বরের শুরুর দিকে। আমার কাছে তামিমের নেতৃত্বে ক্রিকেটাররা এসেছে। তার সঙ্গে মুশফিক-মিরাজরা ছিল (বিপিএল আয়োজনে আলোচনা)। তারা অনুরোধ করেছে... এতোগুলো ক্রিকেটারের টাকা...। রাজশাহী যেটা করেছে, এর চেয়ে খারাপ কিছু হতে পারে না, একটা টুর্নামেন্টকে ধ্বংস করে দেওয়ার জন্য।'
ফ্রাঞ্চাইজি বাছাইয়ে বেশি 'অপশন' ছিল না বলে জানান ফারুক আহমেদ। এ কারণেই প্রশ্ন ওঠে বিপিএল আয়োজনে কি সরকারের পক্ষ থেকে চাপ ছিল? এমন কিছু ছিল না জানিয়ে বিসিবি সভাপতি বলেন, 'আমার অপশন খুব বেশি ছিল না। আমার সাথে সদস্য সচিব ছিলো, আরও কয়েকজন ছিলো। আমাদের চাপ ছিল না। আমরা আমাদের ধারাবাহিকতা রক্ষা করার চেষ্টা করেছি। গত বছর তিনটা দল ফ্র্যাঞ্চাইজি ফি দেয়নি, ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক বাকি ছিল। এই পারিশ্রমিক সমস্যা কিন্তু গত ১১ বছরের ইতিহাস।'
বিগত বিপিএলের উদাহরণ টেনে তিনি আরও বলেন, 'আমরা এমনভাবে কথা বলছি যেন, বিপিএল আগে শতভাগ ঠিক ছিল। শুধু এবার এসে সমস্যা হয়েছে। কিন্তু বিষয়টা তেমন না। বুঝতে হবে বিষয়গুলো। ক্রিকেটারদের আবেগের বিষয়টা ছিল। তারা যখন বলেছে, তাদের কথাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। আমি মাত্র এলাম, আমাকে কিছুদিন সময় দিন। যে ইস্যুটা হয়েছে, ভাবমূর্তি খারাপ হয়েছে, আমি স্বীকার করছি। তবে আগে যে বিপিএলের ভাবমূর্তি খুব ভালো ছিলো সেটাও নয়। আমরা এখান থেকে বের হয়ে আসব। অপেক্ষা করেন, বিপিএল কী রকম হবে, সময়ই বলে দিতে পারবে।'
'সভাপতি হিসেবে আমি দায় মেনে নিচ্ছি। আমাদের যতোটা যাছাই-বাছাই করার প্রয়োজন ছিলো, আমরা করিনি। কিন্তু অন্য চাপগুলো চিন্তা করেন। দলগুলোকে দুই মাস আগে জানাতে হবে যে বিপিএল করবো। তা না হলে (বিদেশি) ক্রিকেটাররা অন্য টুর্নামেন্টে চলে যাবে। বিপিএল শুরু হবে ডিসেম্বর। আমরা অক্টোবরের ১৫ তারিখের মধ্যে ড্রাফট করে ফেলেছি। আপনাদের বুঝতে হবে পরিস্থিতি কী ছিল। আপনাদের সঙ্গে আমি পরে আরেক দিন কথা বলব। মাননীয় উপদেষ্টাকে এখানে অপেক্ষা করাতে চাই না।' যোগ করেন ফারুক আহমেদ।