রান খরচায় তাসকিনের অস্বস্তির রেকর্ড, বিজয়-শান্তর সেঞ্চুরি

জাতীয় দলের পেস আক্রমণের নেতা তিনি। নিজেকে নতুনভাবে চেনানোর পর থেকে গত কয়েক বছর ধরে পেস আক্রমণকে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন তাসকিন আহমেদ। দারুণ ছন্দে থাকা ডানহাতি এই পেসার সর্বশেষ বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগেও (বিপিএল) ছিলেন দুর্বার, ২৫ উইকেট নিয়ে তালিকায় সবার ওপরে নিজের নামটি বসান। এই তাসকিনেরই ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে এমন এক অনাকাঙ্খিত অভিজ্ঞতা হলো, যা নিশ্চয়ই ভুলে যেত চাইবেন তিনি।
মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের তারকা এই পেসার ৩টি উইকেট নিলেও ১০ ওভারে খরচা করেছেন ১০৭ রান। যা বাংলাদেশের লিস্ট 'এ' ক্রিকেটের ইতিহাসের সর্বোচ্চ খরুচে বোলিং। রেকর্ডটিতে এতোদিন ইকবাল হোসেন ইমনের নাম ছিল। প্রিমিয়ার লিগে গত আসরে আবাহনীর বিপক্ষে ৯ ওভারে ১০৪ খরচা করেন গাজী টায়ার্স ক্রিকেট একাডেমির ডানহাতি এই পেসার। অস্বস্তির এই তালিকার তিন নম্বরে মুক্তার আলী, গত ৪ মার্চ শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাবের বিপক্ষে ৯ ওভারে ৯৯ রান দেন পারটেক্স স্পোর্টিং ক্লাবের এই পেসার।
তাসকিনের বাজে অভিজ্ঞতার দিনে হেরেছে তার দল মোহামেডান। সাভারের বিকেএসপির চার নম্বর মাঠে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সের বিপক্ষে ৬৫ রানে হেরেছে শিরোপা প্রত্যাশী দলটি। টস হেরে আগে ব্যাটিং করতে নামা গাজী গ্রুপ ৫ উইকেটে ৩৩৬ রান তোলে। ১৪৩ বলে ১২টি চার ও ৪টি ছক্কায় অপরাজিত ১৪৯ রানের দুর্বার এক ইনিংস খেলেন ম্যাচসেরা এনামুল হক বিজয়। এটা তার ২১তম লিস্ট 'এ' সেঞ্চুরি, যা বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। গাজী গ্রুপের ওপেনার সাদিকুর রহমান ৭৫ বলে ৬০ ও তোফায়েল আহমেদ ২৯ বলে ৫টি চার ও ৪টি ছক্কায় ৬৩ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন। তাসকিন ৩টি ও নাসুম একটি উইকেট নেন।
বড় লক্ষ্য তাড়ায় দারুণ শুরু হয় মোহামেডানের। উদ্বোধনী জুটিতে ১০.৩ ওভারে ৭২ রান যোগ করেন রনি তালুকদার ও অধিনায়ক তামিম ইকবাল। কিন্তু এই জুটি ভাঙার পর দিক হারানো মোহামেডান আর ঠিক পথে ফিরতে পারেননি। রনি ৯০ বলে ৭৪ ও তামিম ৩৪ বলে ৪৮ রান করেন। এরপর তাওহিদ হৃদয় ৩৬ ও মুশফিকুর রহিম ৪৯ রান করেন। বাকিদের ব্যর্থতায় ৪৮.১ ওভারে ২৭১ রানে গুটিয়ে যায় মোহামেডানের ইনিংস। গাজী গ্রুপে আব্দুল গাফফার সাকলাই সর্বোচ্চ ৪টি উইকেট নেন। আবু হাসিম ২টি এবং লিওসন ইসলাম ও শেখ পারভেজ একটি করে উইকেট নেন।
বিকেএসপির তিন নম্বর মাঠে লেজেন্ড অব রূপগঞ্জের বিপক্ষে ৪ উইকেটে জিতেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আবাহনী। টস হেরে আগে ব্যাটিং করতে নামা রূপগঞ্জ ৬ উইকেটে ২৯২ রান তোলে। সাইফ হাসান ৬৭ ও মাহমুদুল হাসান জয় ৫৮ রান করেন। দলটির প্রায় সবাই আজ রান করেছেন। তবে কেউই ইনিংস বড় করতে পারেননি। তানজিদ হাসান তামিম ২৪, সৌম্য সরকার ২৭, আফিফ হোসেন ধ্রুব ২৬, জাকের আলী অনিক ৩৫ ও মেখ মেহেদি হাসান ২৮ রান করেন। আবাহনীর পেসার নাহিদ রানা ও মোসাদ্দেক ২টি করে উইকেট নেন।
জবাবে বেগ পেতে হলেও ৪৮.৪ ওভারে ৬ উইকেটে জয়ের বন্দরে পৌঁছায় আবাহনী, এটা তাদের টানা পঞ্চম জয়। দলটির জয়ের নায়ক অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান ১০৮ বলে ১২টি চার ও ২টি ছক্কায় ১০১ রান করেন। সব ফরম্যাট মিলিয়ে ৪৭ ইনিংস পর সেঞ্চুরির স্বাদ পেলেন তিনি, সর্বশেষ গত বছরের এপ্রিলে তিন অঙ্কের রান করেন। আবাহনী ওপেনার জিসান আলম ৪৩ ও মোহাম্মদ মিঠুন ৩৪ রান করেন। দুই অপরাজিত ব্যাটসম্যান মুমিনুল হক ৩৫ ও মাহফুজুর রহমান রাব্বি ৩১ রান করেন। রূপগঞ্জের শরিফুল ইসলাম ও শেখ মেহেদি ২টি করে উইকেট নেন।
দিনের আরেক ম্যাচে মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ধানমন্ডি স্পোর্টস ক্লাবকে ৫৫ রানে হারিয়েছে প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব। টস হেরে আগে ব্যাটিং করে ৫ উইকেটে ৩০৮ রান তোলে দলটি। সাব্বির হোসেন ৫০, জাকির হাসান ৬৪, অধিনায়ক ইরফান শুক্কুর ৫৬ ও ম্যাচসেরা শামীম হোসে পাটোয়ারী ৩৭ বলে জড়ো ও হার না মানা ৬২ রান করেন। ধানমন্ডির মঈন খান ৩টি উইকেট নেন। লক্ষ্য তাড়ায় এক বল বাকি থাকতে অলআউট হয় ধানমন্ডি, ২৫৩ রান তোলে তারা। সর্বোচ্চ ৭৯ রান করেন ফজলে মাহমুদ রাব্বি। ইয়াসির আলী রাব্বি ৪৬ ও সানজামুল ইসলাম ৩৭ রান করেন। প্রাইম ব্যাংকের হাসান মাহমুদ ও আরাফাত সানি ৩টি করে উইকেট নেন। ২টি উইকেট পান খালেদ আহমেদ।