ইরানের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব ‘গুরুত্বপূর্ণ’ হলেও ‘যথেষ্ট নয়’: ট্রাম্প
ইরানের পক্ষ থেকে আসা ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবকে একটি 'গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ' হিসেবে অভিহিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে একই সঙ্গে তিনি মন্তব্য করেছেন যে, এই প্রস্তাবটি এখন পর্যন্ত 'যথেষ্ট নয়'।
সোমবার হোয়াইট হাউসে আয়োজিত বার্ষিক 'ইস্টার এগ রোল' অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এসব কথা বলেন। ইরান পরিস্থিতি এবং চলমান সংকট নিরসনে বিভিন্ন দেশের মধ্যস্থতায় তৈরি করা খসড়া প্রস্তাব নিয়ে তিনি নিজের প্রতিক্রিয়া জানান।
ট্রাম্প বলেন, 'তারা একটি প্রস্তাব দিয়েছে এবং এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব। এটি একটি বড় পদক্ষেপ। তবে এটি যথেষ্ট নয়, যদিও এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ।'
বর্তমানে আলোচনা চলছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, 'তারা আলোচনা করছে এবং খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ নিয়েছে। দেখা যাক শেষ পর্যন্ত কী ঘটে।'
ইরানের বর্তমান নেতৃত্বের বিষয়ে নিজের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে ট্রাম্প বলেন, তেহরানের বর্তমান শাসকরা এখন আগের চেয়ে 'অনেক বেশি যুক্তিপূর্ণ'। তিনি বলেন, 'প্রথম শাসনব্যবস্থাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, দ্বিতীয়টি গত হয়েছে। এখন আমরা যাদের সঙ্গে ডিল করছি, সেই তৃতীয় গোষ্ঠীটি আগের মতো উগ্র নয় এবং আমরা মনে করি তারা আসলে অনেক বেশি বুদ্ধিমান।'
সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, ইরানি জনগণ সুযোগ পেলে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে 'পাল্টা লড়াই' করবে। তিনি বলেন, 'ইরানি জনগণ যখনই জানবে যে তাদের ওপর গুলি চালানো হবে না এবং তারা অস্ত্র পাবে, তখনই তারা লড়াই শুরু করবে।'
ট্রাম্পের মতে, ইরানিদের হাতে অস্ত্র থাকলে 'ইরান দুই সেকেন্ডের মধ্যে নতি স্বীকার করত', কারণ তারা পরিস্থিতি সামাল দিতে পারত না।
এক চাঞ্চল্যকর মন্তব্যে ট্রাম্প বলেন, ইরানি জনগণ 'বোমার শব্দ শুনতে চায় কারণ তারা মুক্ত হতে চায়'। তিনি বলেন, 'আমরা তাদের জন্য লড়ছি। আমরা তাদের ভবিষ্যতের জন্য লড়াই করছি। আমি আপনাদের বলছি—এটি আমাকে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, যখন বোমা বর্ষণ বন্ধ হয়ে যায়, তখনই ইরানি জনগণ সবচেয়ে বেশি নারাজ হয়।'
এদিকে, তেহরানের বিরুদ্ধে নিজের হুমকির সুর আরও কড়া করেছেন ট্রাম্প। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, হরমোজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও সেতুগুলোতে বোমা হামলার যে হুমকি তিনি আগে দিয়েছিলেন, তার চেয়েও 'ভয়াবহ' বিকল্প তার হাতে রয়েছে।
হোয়াইট হাউসের সাউথ লনে দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, 'তাদের কোনো সেতু থাকবে না, কোনো বিদ্যুৎ কেন্দ্র থাকবে না, কিছুই থাকবে না। আমি এর চেয়ে বেশি কিছু এখন বলব না, কারণ ওই দুটির (বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও সেতু) চেয়েও আরও ভয়াবহ অনেক কিছু আছে।'
