সংসদে শীর্ষ ২০ ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রকাশ
স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং খেলাপি ঋণ নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ নিরসনের পদক্ষেপ হিসেবে আজ সোমবার (৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে দেশের শীর্ষ ২০ ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রকাশ করেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
আজকের সংসদীয় প্রশ্নোত্তর পর্বের জন্য নির্ধারিত অর্থমন্ত্রীর উত্তর অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে দেশের ব্যাংকিং খাতে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৪৪ হাজার ৮৩১ কোটি ৮৮ লক্ষ টাকা। বর্তমান সংসদের সংসদ সদস্য এবং তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক এবং ফাইন্যান্স কোম্পানিতে ঋণের পরিমাণ ১১,১১৭ কোটি ৩১ লাখ টাকা। এর বাইরে সংসদ সদস্য ও তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যাংক ও ফাইন্যান্স কোম্পানিতে ৩,৩৩০ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ রয়েছে, যা আদালতের নির্দেশনা মোতাবেক বর্তমানে খেলাপি হিসেবে দেখানো হয়নি।
কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা আবুল হাসনাতের (হাসনাত আবদুল্লাহ) করা এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আজ সংসদে এই লিখিত উত্তর প্রদান করবেন।
অর্থমন্ত্রীর দেওয়া তালিকায় থাকা শীর্ষ ২০টি প্রতিষ্ঠান হলো— এস. আলম সুপার এডিবল অয়েল লিমিটেড, এস. আলম ভেজিটেবল অয়েল লিমিটেড, এস. আলম রিফাইনড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড , এস. আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস লিমিটেড, সোনালী ট্রেডার্স, বাংলাদেশ এক্সপোর্ট ইমপোর্ট কোম্পানি লি., গ্লোবাল ট্রেডিং করপোরেশন লি., চেমন ইসপাত লি., এস আলম ট্রেডিং কোম্পানি প্রাইভেট লি., ইনফিনিট সিআর স্ট্রিপস ইন্ডাজট্রিজ লি., কেয়া কসমেটিকস লি., দেশবন্ধু সুগার মিলস লি., পাওয়ার প্যাক মুতিয়ারা কেরাণীগঞ্জ পাওয়ার প্ল্যান্ট লি., পাওয়ার প্যাক মুতিয়ারা জামালপুর পাওয়ার প্ল্যান্ট লি., প্যাসিফিক বাংলাদেশ টেলিকম লি., কর্ণফুলি ফুডস (প্রা.) লি., মুরাদ এন্টারপ্রাইজ, সিএলসি পাওয়ার কোম্পানি, বেক্সিমকো কমিউনিকেশনস লি. এবং রংধনু বিল্ডার্স (প্রা.) লিমিটেড।
ঋণ খেলাপি সমস্যা সমাধানে সরকার বেশ কিছু আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। এর মধ্যে রয়েছে— ব্যাংক কোম্পানি আইন, নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্ট অ্যাক্ট, অর্থ ঋণ আদালত আইন এবং দেউলিয়া বিষয়ক আইন সংশোধন। এছাড়া ভালো ঋণগ্রহীতাদের প্রণোদনা প্রদান, একজন গ্রহীতার ঋণ গ্রহণের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ এবং অর্থ ঋণ আদালতের জুরি বোর্ডে অভিজ্ঞ ব্যাংকারদের অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, খেলাপিরা যাতে রিট করে আদায় প্রক্রিয়া স্থবির করতে না পারে, সে জন্য অ্যাটর্নি জেনারেলের সাথে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া বেসরকারি খাতে 'অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি' প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়নও সরকারের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
