মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে তেল-গ্যাসে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা: অর্থমন্ত্রী
মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে তেল-গ্যাস খাতে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
তিনি জানান, পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে আগের সরকারগুলোর রেখে যাওয়া প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকার বকেয়াও পরিশোধ করতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে দুই বছর সময় লাগবে।
আজ শনিবার (১৬ মে) সকালে চট্টগ্রাম মা ও শিশু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী।
স্বাস্থ্যসেবা বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার উল্লেখ করে এ সময় আমীর খসরু বলেন, 'সরকার এখন প্রিভেন্টিভ ও প্রাইমারি হেলথকেয়ারকে গুরুত্ব দিচ্ছে। বিশেষ করে দরিদ্র জনগোষ্ঠী যাতে উন্নত চিকিৎসা পায়, সে জন্য বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।'
তিনি বলেন, 'সরকারি হাসপাতালের সীমাবদ্ধতার কারণে দরিদ্র রোগীদের বেসরকারি হাসপাতালে পাঠিয়ে চিকিৎসার বিল সরকার বহন করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। এজন্য স্বাস্থ্যখাতে বাজেটও বাড়ানো হবে। তবে শুধু বাজেট বাড়ালেই হবে না, বরাদ্দের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।'
অর্থমন্ত্রী অভিযোগ করেন, 'অতীতে স্বাস্থ্যখাতে বিপুল বরাদ্দ দেওয়া হলেও তার বড় অংশ দুর্নীতির মাধ্যমে অপচয় হয়েছে এবং সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা পায়নি। শুধু বড় বড় বিল্ডিং করলে হবে না। যারা পরিচালনা করবে তাদের সততা ও দায়িত্ববোধ না থাকলে জনগণ কোনো সুফল পাবে না।'
তবে সীমাবদ্ধতার মধ্যেও ভালো পারফরম্যান্স করা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরকার সহযোগিতা করার চেষ্টা করবে বলে জানান তিনি।
নতুন মেডিকেল কলেজ ভবনের নকশা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, 'এত বড় একটি মেডিকেল কলেজে মাত্র ৭২টি গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়। এতে ভবিষ্যতে পুরো এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হতে পারে।'
তিনি পরামর্শ দেন, অন্তত ২০০ থেকে ২৫০ গাড়ির পার্কিং সুবিধা রাখতে হবে। প্রয়োজনে আরও বেসমেন্ট নির্মাণের কথাও বলেন তিনি।
অনুষ্ঠানে মেডিকেল শিক্ষার আধুনিকায়নের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, 'বর্তমান বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ডিজিটাল লাইব্রেরি, মাল্টিমিডিয়া সমৃদ্ধ ক্লাসরুম, ইনডোর-আউটডোর খেলাধুলা ও মানসম্মত ক্যান্টিন সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।'
দেশে মেডিকেল টেকনোলজিস্টের সংকটের কথাও তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, 'দক্ষ টেকনোলজিস্টের অভাবে কোটি কোটি টাকার চিকিৎসা যন্ত্রপাতি অব্যবহৃত পড়ে আছে।'
তিনি মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের জন্য আলাদা ইনস্টিটিউট গড়ে তোলার আহ্বান জানান এবং বলেন, 'এ খাতে বিদেশেও ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে।'
মেডিকেল কলেজে শিক্ষার্থী আসন বাড়ানোর প্রসঙ্গে আমীর খসরু সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়ে বলেন, 'শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত, ফ্যাকাল্টি ও অবকাঠামো ঠিক না রেখে শুধুমাত্র আয় বাড়ানোর জন্য সিট বাড়ানো হলে শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত হবে।'
তিনি বলেন, 'টিচার-স্টুডেন্ট রেশিও (অনুপাত), ফ্যাকাল্টি ও ফ্যাসিলিটি ঠিক থাকলে সিট বাড়াতে সমস্যা নেই। কিন্তু মান কমিয়ে সিট বাড়ালে প্রতিষ্ঠানের রেটিং ক্ষতিগ্রস্ত হবে।'
