ইরান আক্রমণ: ট্রাম্পের দেওয়া যত হুমকি
ইরানের বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে ভয়াবহ হামলার হুমকি দিয়ে চলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরান যদি তার শর্ত অনুযায়ী কোনো চুক্তিতে না আসে, তবে দেশটিকে চড়া মূল্য দিতে হবে বলে বারবার হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন তিনি।
গত ২১ মার্চ থেকে শুরু করে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত ট্রাম্পের দেওয়া বিভিন্ন হুমকি, আল্টিমেটাম এবং দফায় দফায় সময়সীমা পরিবর্তনের একটি টাইমলাইন নিচে তুলে ধরা হলো:
২১ মার্চ: ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার একটি আল্টিমেটাম দেন ট্রাম্প। তিনি শর্ত দেন, ইরানকে 'হরমুজ প্রণালি' উন্মুক্ত করে দিতে হবে। অন্যথায় দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে মার্কিন হামলা চালানো হবে বলে হুমকি দেন তিনি।
২৩ মার্চ: তেহরানের সঙ্গে তথাকথিত আলোচনায় অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প পূর্বনির্ধারিত সময়সীমা আরও পাঁচ দিন পিছিয়ে দেন।
২৬ মার্চ: ট্রাম্প নতুন করে ১০ দিনের সময়সীমা ঘোষণা করেন। এই ডেডলাইন ৬ এপ্রিল রাত ৮টায় শেষ হওয়ার কথা ছিল।
৪ এপ্রিল: ট্রাম্প পুনরায় বলেন যে, কোনো চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য ইরানের হাতে আর মাত্র ৪৮ ঘণ্টা সময় আছে। এর মাধ্যমে তিনি মূলত ৬ এপ্রিলের ডেডলাইনটিকেই পুনর্ব্যক্ত করেন।
৫ এপ্রিল: ট্রাম্প পূর্বনির্ধারিত সময়সীমা আরও একদিন পিছিয়ে ৭ এপ্রিল সন্ধ্যা পর্যন্ত করার ইঙ্গিত দেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরানের নেতারা যদি সেই সময়ের মধ্যে কিছু না করেন, তবে তাদের কোনো 'বিদ্যুৎকেন্দ্র বা সেতু আর দাঁড়িয়ে থাকবে না।'
ঐদিন ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি সুনির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করে লেখেন: 'মঙ্গলবার, ইস্টার্ন টাইম রাত ৮টা!'
৬ এপ্রিল: ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানান, তার সর্বশেষ দেওয়া এই সময়সীমাটিই চূড়ান্ত এবং এটি পেছানোর সম্ভাবনা 'একেবারেই নেই'। তিনি দাবি করেন, ইরানকে চাইলে 'এক রাতেই' ধ্বংস করে দেওয়া সম্ভব।
৭ এপ্রিল: চূড়ান্ত সময়সীমা শেষ হওয়ার প্রায় ১২ ঘণ্টা আগে ট্রাম্প তার হুমকির মাত্রা চরম পর্যায়ে নিয়ে যান। এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে তিনি লিখেন, 'আজ রাতেই একটি সভ্যতা পুরোপুরি বিলীন হয়ে যাবে।'
ট্রাম্পের এসব ধারাবাহিক হুমকি ও আল্টিমেটাম ইরান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনাকে এক নতুন ও বিপজ্জনক পর্যায়ে নিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা।
