ইরান যুদ্ধের কারণে বিলম্ব, মে মাসে চীন সফরে যাচ্ছেন ট্রাম্প
চলতি বছরের ১৪-১৫ মে চীন সফরে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সফরে তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন বলে জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের সংঘাতের কারণে পূর্বনির্ধারিত এই গুরুত্বপূর্ণ সফরটি আগে স্থগিত করা হয়েছিল।
গত প্রায় এক দশকের মধ্যে এটি কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রথম চীন সফর।
এ ছাড়া চলতি বছরের শেষের দিকে ওয়াশিংটন ডিসিতে শি জিনপিংকে স্বাগত জানানোর পরিকল্পনাও রয়েছে ট্রাম্পের। বুধবার ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, "এই ঐতিহাসিক সফরগুলোর প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।"
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট সফরের তারিখ নিশ্চিত করে জানান, সফর পেছানোর অনুরোধটি শি জিনপিং বুঝেছেন এবং তা মেনে নিয়েছেন।
বুধবার এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, "প্রেসিডেন্ট শি বুঝেছেন যে চলমান সামরিক অভিযানের সময় প্রেসিডেন্টের এখানে থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।"
তবে ট্রাম্প যে তারিখ উল্লেখ করেছেন, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি বেইজিং। সাধারণত চীন আগেভাগে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সফরসূচি প্রকাশ করে না। তবে চলতি মাসের শুরুর দিকে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, ট্রাম্পের সফরের সময়সূচি নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
মূলত ৩১ মার্চ এই সফর হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু গত মাসে ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার পর তা পিছিয়ে দেওয়া হয়। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি নিহত হন।
এর জবাবে ইরান ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর ওপর হামলা শুরু করে, যা এখনও অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি বিশ্বের জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালিও কার্যত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে।
এর আগে সর্বশেষ ২০১৭ সালের নভেম্বরে চীন সফর করেছিলেন ট্রাম্প, তখন তিনি প্রথমবারের মতো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ছিলেন।
ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের সর্বশেষ সাক্ষাৎ হয়েছিল গত বছরের অক্টোবরে দক্ষিণ কোরিয়ায়, এপেক সম্মেলনের পার্শ্ব বৈঠকে।
