ট্রাম্পের চীন সফর: কঠিন এক বছরের ধকল স্পষ্ট মার্কিন প্রেসিডেন্টের চোখে-মুখে
গত বছর দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় আসার পর– এই জয়ের প্রাথমিক উন্মাদনা ও সাফল্যের জোয়ারে ভাসছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই সময়ই তিনি তাঁর প্রথম বড় ধরনের বিদেশ সফর শেষ করে ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, বিশ্বজুড়ে দীর্ঘদিনের মার্কিন 'নেশন-বিল্ডিং' বা রাষ্ট্র গঠনের ঐতিহ্যগত নীতি থেকে তিনি সম্পূর্ণ সরে আসবেন।
সৌদি আরব, কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে সেই সফরের ঠিক এক বছর পর, তিনি যখন এবছর চীন সফরে এলেন, তখন তাঁর প্রেসিডেন্সির প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। দেশটিতে এখন মূল্যস্ফীতি লাগামহীন এবং ইরানের সাথে চলমান সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসার কোনো সহজ পথও তাঁর সামনে খোলা নেই। এই যুদ্ধ মার্কিন সামরিক বাহিনীকে এক কঠিন জালে জড়িয়ে ফেলেছে, যার ফলে একদিকে যেমন জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হয়েছে, অন্যদিকে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার সূচকও তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে।
এবারের সফরে ট্রাম্পের আমেরিকার বিশ্ব পরিচালনার নীতি নিয়ে কোনো জাঁকজমকপূর্ণ বা বড় বড় ঘোষণা দেখা যায়নি; কিংবা দেখা যায়নি উপসাগরীয় রাজপরিবারের সদস্যদের সাথে সেই চেনা করমর্দন ও আন্তরিকতার দৃশ্য—যারা গতবার তাঁকে সোনার তরবারি উপহার দিয়েছিল এবং যেখানে আরবীয় ঘোড়ায় চড়ে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়েছিল।
এর পরিবর্তে সেখানে উপস্থিত ছিলেন চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং—যিনি ট্রাম্পকে শ্রদ্ধা দেখালেও ছিলেন পুরোপুরি পেশাদার। তিনি ট্রাম্পকে স্বাগত জানালেও—মার্কিন নেতার অগ্রাধিকার বা দাবিদাওয়ার সামনে বিন্দুমাত্র নতি স্বীকার করার কোনো লক্ষণ দেখাননি।
ট্রাম্প বেইজিংয়ে এসেছিলেন বড় বড় বাণিজ্য চুক্তি করার আশা নিয়ে। তবে শি জিনপিং স্পষ্ট করে দেন যে, বিনিয়োগ নয়, বরং তাইওয়ানের ভাগ্য নির্ধারণই চীনের প্রধান অগ্রাধিকার। ট্রাম্পের পছন্দের বাণিজ্যিক বিষয়গুলো থেকে আলোচনার আলো কেড়ে নিয়ে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এই বিতর্কিত ভূখণ্ড নিয়ে মতবিরোধের সঠিক সমাধান না হলে—যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে "মুখোমুখি সংঘাত ও যুদ্ধ" বেঁধে যেতে পারে।
আগামী সেপ্টেম্বরে শি জিনপিংয়ের হোয়াইট হাউস সফরের একটি প্রতিশ্রুতি এবং মূলত হতাশাজনক কিছু বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে গত শুক্রবার ট্রাম্প বেইজিং ছাড়েন। এই হতাশার পরিমাপ করা যায় একটি পরিসংখ্যানে—ট্রাম্প বেইজিংয়ে পৌঁছানো থেকে শুরু করে তাঁর প্রস্থান পর্যন্ত সময়ের মধ্যে মার্কিন বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের শেয়ারের দাম ৮ শতাংশ পড়ে গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট অবশ্য এই সফরে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ব্যবসায়ী কর্মকর্তাদের সাথে চীনা নেতার সাক্ষাতের সুযোগ তৈরি হওয়াকে নিজের বড় আনন্দ হিসেবে ঘোষণা করেছেন; তবে এই বৈঠক থেকে সুনির্দিষ্ট কী কী লেনদেন বা চুক্তি হয়েছে, তার কোনো জোরালো প্রমাণ তিনি দিতে পারেননি।
ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, "বিশ্বের সবচেয়ে বড় বড় ব্যবসায়ী পুরুষ এবং কয়েকজন নারী—যাদের বেশিরভাগই, বলা যায় প্রায় সবাই, কিন্তু অন্তত সিংহভাগই আগে কখনো প্রেসিডেন্ট শি-র সাথে দেখা করার সুযোগ পাননি। এবারই প্রথম তাদের দেখা হলো। তাই তারা বিষয়টিকে অত্যন্ত রোমাঞ্চকর মনে করেছেন।"
ট্রাম্প আরও বলেন, "আমাদের দেশে তাদের নিজস্ব ব্যবসা-বাণিজ্য রয়েছে, কিন্তু এখানে তারা এই বিশাল দেশ এবং তার শীর্ষ নেতৃত্বের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছেন। আমার মনে হয়, তারা সত্যিই খুব ভালো পারফর্ম করেছেন।"
এক বছরে বদলে যাওয়া বৈশ্বিক সমীকরণ
ঠিক এক বছর আগের তুলনায় এটি ছিল এক আমূল পরিবর্তন, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট এক উপসাগরীয় রাজতন্ত্র থেকে অন্য রাজতন্ত্রে ছুটে বেড়াচ্ছিলেন এবং ঘোষণা করছিলেন যে এক নতুন যুগের সূচনা হতে চলেছে। তখন তিনি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক শুল্ক আরোপ করেছিলেন, যার মধ্যে চীনের ওপর আরোপিত শুল্ক এক পর্যায়ে সর্বোচ্চ ১৪৫ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছিল। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেছিলেন, তাঁর দিকনির্দেশনায় ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ খুব শীঘ্রই শেষ হয়ে যাবে। একইসময়ে তিনি ইরানকে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি ত্যাগ করতে কূটনৈতিক আলোচনায় বসার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন।
তবে সেই সব প্রচেষ্টার বেশিরভাগই এখন ভেস্তে গেছে। ইউক্রেন যুদ্ধ এখনো পুরোদমে চলছে। তাঁর আরোপিত অনেক শুল্ক মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট বাতিল করে দিয়েছে। আর ইরানের সাথে কূটনীতির পথ পুরোপুরি পরিহার করে এখন যুদ্ধের পথ বেছে নেওয়া হয়েছে।
জনপ্রিয়তার ধস এবং দেশের নড়বড়ে অর্থনীতির কারণে ট্রাম্প এখন যখন বিশ্বমঞ্চে সফর করছেন, তখন এক বছর আগের তুলনায় নিজের দেশের অভ্যন্তরীণ সমর্থন তাঁর পক্ষে অনেক কম। ইরানের ক্ষেত্রে, তেহরানের ওপর বেইজিংয়ের প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে তিনি হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে এবং পারমাণবিক ইস্যুতে ওয়াশিংটনের সাথে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে চাপ দিতে পারতেন।
ট্রাম্প জানান, এবিষয়ে তিনি শি জিনপিংয়ের সাথে কথা বলেছেন। তবে শি'র সামনে নিজেকে কোনোভাবেই একজন অনুগ্রহপ্রার্থী বা সাহায্যপ্রার্থনাকারী হিসেবে উপস্থাপন না করার বিষয়ে সতর্ক ছিলেন তিনি।
এয়ার ফোর্স ওয়ানে চড়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার পথে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, "আমি কোনো অনুগ্রহ বা সুবিধা চাচ্ছি না, কারণ আপনি যখন কারও কাছে সুবিধা চাইবেন, তখন বিনিময়ে আপনাকেও সুবিধা দিতে হবে। আমাদের কোনো অনুগ্রহের প্রয়োজন নেই।"
এর পরিবর্তে তিনি দাবি করেন, এই যুদ্ধের আগে তেহরান কখনো যে প্রণালিটি বন্ধ করার সাহস দেখায়নি, সেই হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করার জন্য মার্কিন প্রচেষ্টা মূলত গোটা বিশ্ব এবং এই রুটের ওপর নির্ভরশীল দেশগুলোর প্রতি একটি বড় উপকার।
এই সফরে বেশকিছু চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে বলে ট্রাম্প বড়াই করলেও—তিনি বলেছিলেন, "আমাদের কৃষকরা খুব খুশি হতে যাচ্ছেন"— কিন্তু, কোনো পক্ষের কাছ থেকেই সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য না আসায় এই প্রশ্নটি থেকেই যায় যে, আসলে ঠিক কী বিষয়ে দুই দেশ একমত হয়েছে।
গত বছর শি জিনপিংয়ের সাথে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে ট্রাম্পের যে ব্যাপক ও সুদূরপ্রসারী উচ্চাকাঙ্ক্ষা ছিল, তার সাথে এই বাস্তবতার ব্যবধান আকাশ-পাতাল। তখন এই দুই নেতা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনর্গঠনের জন্য ২০২৬ সালের মধ্যে চারবার বৈঠকে বসতে সম্মত হয়েছিলেন। কিন্তু বর্তমানে ইরান সংকট ট্রাম্পকে পুরোপুরি আচ্ছন্ন করে রাখায় এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ায়, নতুন করে কিছু ভাবার মতো সময় বা সুযোগ এখন বড্ড সীমিত।
এদিকে, গত বছর ট্রাম্পের বাণিজ্যিক পদক্ষেপের পাল্টা জবাব দিতে উন্নত শিল্প উৎপাদনে ব্যবহৃত বিরল খনিজ বা 'রেয়ার আর্থ মেটাল' রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছিল চীন। পরবর্তীতে চীনারা একটি সমঝোতার মাধ্যমে রেয়ার আর্থের সরবরাহ পুনরায় চালু করলেও, ট্রাম্পের কোনো নীতি যদি বেইজিংয়ের ক্ষোভের কারণ হয়, তবে তা আবারও বন্ধ করে দেওয়ার পথ তারা খোলা রেখেছে।
বেইজিংয়ের রেনমিন ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক এবং সাবেক চীনা কূটনীতিক ওয়াং ইওয়েই বলেন, "গত বছর ট্রাম্প ছিলেন আক্রমণাত্মক ভূমিকায়। কিন্তু এই বছর মনে হচ্ছে চীন অনেক বেশি সক্রিয় এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনর্গঠনে তারাই মূল নেতৃত্ব দিচ্ছে। ক্ষমতায় এক বছরেরও বেশি সময় কাটানোর পর তিনি বুঝতে পারছেন যে, চীনের ক্ষেত্রে সবসময় 'লাঠি' (জোর খাটানো) কাজ করে না এবং নিজের চালগুলো খাটিয়ে সুবিধা নেওয়া বড্ড কঠিন।"
চীনের অনমনীয় কূটনীতি ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা
এই সপ্তাহে শি জিনপিংয়ের মূল মনোযোগ ছিল এক বছর আগের ট্রাম্পের 'নতুন যুগ' ভাবনার সম্পূর্ণ বিপরীত। চীনা নেতা মূলত বিদ্যমান পরিস্থিতি (স্ট্যাটাস কো) এবং স্থিতিশীলতার ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি ট্রাম্পের জন্য এমন একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলেন যা ২০১৭ সালে চীনে তাঁর শেষ সফরের সাথে হুবহু মিলে যায়। এছাড়া তাঁরা সাবেক এক রাজকীয় উদ্যানে একসাথে হাঁটেন, যেখানের কিছু গাছের বয়স নাকি হাজার বছরেরও বেশি—যা মূলত চীনের প্রাচীন ঐতিহ্যের নিরবচ্ছিন্নতার এক মৃদু ইঙ্গিত।
বর্তমানে চীনের শীর্ষ নেতাদের সুরক্ষিত সদর দফতর ও বাসভবন হিসেবে ব্যবহৃত ঝংনানহাই পরিদর্শনের এই পুরো সফরটি ছিল ট্রাম্পের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের একটি সুপরিকল্পিত আয়োজন, কারণ সেখানে বিদেশিদের প্রবেশাধিকার বড্ড বিরল। তবে এটি একই সাথে চীনের এক ধরণের শক্তি প্রদর্শনও ছিল, যা মার্কিন অতিথিদের মনে করিয়ে দেয় যে, ট্রাম্পের ক্ষমতা ছাড়ার বহু বছর পরও শি জিনপিং ঠিক একইভাবে এই গোলাপ বাগান পরিচর্যা করে যাবেন—আজ ট্রাম্প যার প্রশংসা করছেন।
ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের চায়না সেন্টারের পরিচালক রায়ান হাস বলেন, "ট্রাম্প যাতে এই সফর থেকে নিজের কোনো বড় সাফল্য দাবি করতে পারেন, বেইজিং তাকে তেমন কোনো প্ল্যাটফর্ম বা সুযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে দৃশ্যত বড্ড কম আগ্রহ দেখিয়েছে।"
হাস আরও উল্লেখ করেন, মার্কিন নেতা যেখানে অন্য রাষ্ট্রপ্রধানদের সাথে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্কের ওপর বেশি জোর দেন, সেখানে শি জিনপিং ট্রাম্পের মেয়াদের বাইরে এবং ২০২৮ সালের পরবর্তী সুদূরপ্রসারী ভবিষ্যতের দিকে তাকাচ্ছেন।
হাস বলেন, শি জিনপিং "ট্রাম্পের পর যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী প্রশাসনগুলোর সাথেও কাজ করার মানসিকতা রাখছেন। বেইজিং বিশ্বাস করে, বর্তমান পরিস্থিতি ও এই স্থিতিশীলতা তাদের নিজস্ব স্বার্থ রক্ষা করছে, কারণ চীনের নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন বৈশ্বিক পরিস্থিতি এখন তাদের অনুকূলেই যাচ্ছে।"
এই অনুকূল পরিস্থিতির অন্যতম লক্ষণ হলো, বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট তাঁর পূর্বসূরিদের মতো চীনের দাবি করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনপুষ্ট বিতর্কিত ভূখণ্ড তাইওয়ানের সুরক্ষায়— সাবেক প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যানের কয়েক দশক পুরোনো প্রতিশ্রুতির রক্ষায় খুব একটা শ্রদ্ধাশীল বা আগ্রহী নন।
সেই আশির দশকের নজির অনুসরণে নিজের অনীহার কথা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ট্রাম্প এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের বলেন, "আমি মনে করি ১৯৮০-এর দশক এখন অনেক পুরোনো বিষয়; সেটি এক বিশাল সময়ের ব্যবধান।" গত ডিসেম্বরে তাঁর প্রশাসন তাইওয়ানের জন্য রেকর্ড ১১ বিলিয়ন ডলারের একটি অস্ত্র প্যাকেজ অনুমোদন করেছিল, যা ছিল ইতিহাসের সর্ববৃহৎ। তবে এর পরবর্তী মাসেই মার্কিন কংগ্রেস আরও ১৪ বিলিয়ন ডলারের যে অতিরিক্ত অস্ত্র বিক্রির প্যাকেজে সবুজ সংকেত দিয়েছিল, তা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন এখনও কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
ট্রাম্প স্পষ্ট করেই বলেন, "এই মুহূর্তে আমাদের সর্বশেষ যে জিনিসটি প্রয়োজন, তা হলো সাড়ে ৯ হাজার মাইল দূরে কোনো যুদ্ধ বাঁধিয়ে বসা।" অবশ্য তাইওয়ানে কোনো হামলা হলে তিনি কী ভূমিকা নেবেন—এমন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর এড়িয়ে গিয়ে তিনি তাইওয়ান নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টদের চিরাচরিত 'কৌশলগত অস্পষ্টতা'র নীতিই বজায় রাখেন।
ট্রাম্প জানান, তিনি এই ১৪ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র প্যাকেজ নিয়ে চিন্তাভাবনা অব্যাহত রাখবেন। এটি কার্যকর করতে হলে তাঁর প্রশাসনকে আনুষ্ঠানিকভাবে কংগ্রেসে প্রস্তাব পাঠাতে হবে। বিশ্লেষকদের মতে, আগামী সেপ্টেম্বরে শি জিনপিংকে হোয়াইট হাউসে স্বাগত জানানোর আগপর্যন্ত এই সিদ্ধান্তটি স্থগিত রাখা হতে পারে—আর এই বিলম্ব নিজে থেকেই বেইজিংয়ের জন্য এক বড় জয় বা পুরস্কার।
এশিয়া সোসাইটির সেন্টার অন ইউএস-চায়না রিলেশনসের ভাইস প্রেসিডেন্ট অরভিল শেল, যিনি এই শীর্ষ সম্মেলনটি সশরীরে পর্যবেক্ষণ করতে বেইজিং সফর করেছিলেন, তিনি বলেন, এই সপ্তাহের বৈঠকগুলো "আগামী মাসগুলোতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্থিতিশীল করার লক্ষ্যে নতুন কিছু ঘটার পথ উন্মুক্ত রেখেছে।"
তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, দুই দেশের মধ্যকার গভীর ও মৌলিক কাঠামোগত উত্তেজনাগুলো কিন্তু রয়েই যাবে।
তিনি বলেন, "কোনো ভুল করবেন না। এই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে বিপন্ন করে তোলা বৈপরীত্য বা বিরোধগুলো ভেতরে ভেতরে এখনও ফুটছে এবং যেকোনো সময় তা আবারও প্রকাশ পেতে পারে।"
কয়েকজন চীনা বিশ্লেষক অবশ্য বলেছেন, তাঁরা ট্রাম্পের এই রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে বেশ গুরুত্ব সহকারেই নিচ্ছেন—তবে তাঁরা মনে করেন ট্রাম্পের মূল লক্ষ্য হলো বিশ্বজুড়ে মার্কিন আধিপত্য বা ছায়াকে কিছুটা গুটিয়ে আনা।
সিংহুয়া ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজি-র পরিচালক ডা ওয়েই বলেন, "আমার মনে হয় তিনি সমগ্র বিশ্বের সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের ধরনটি মৌলিকভাবে বদলে দিতে চান। অতীতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ছিল একমেরু বিশ্বব্যবস্থার এমন এক পরাশক্তি, যা অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তার দিক থেকে বৈশ্বিক অভিভাবকের ভূমিকা পালন করত। এখন তিনি এই সম্পর্ককে পুরোপুরি বদলে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে একটি 'সাম্রাজ্য' থেকে অন্য সাধারণ দেশগুলোর মতো একটি সাধারণ 'জাতি-রাষ্ট্রে' (নেশন স্টেট) রূপান্তর করতে চান।"
ডা ওয়েই আরও বলেন, "তাই তিনি এমন একজন ব্যক্তি যিনি বিশ্বে এক মৌলিক পরিবর্তন নিয়ে আসছেন এবং এর জন্য মূল্য চুকাতেও তিনি প্রস্তুত। আমি তাঁকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথেই মূল্যায়ন করি।"
