সবজির কেজি সেঞ্চুরিতে, মাছ-মুরগি-ডিমের দামেও ঊর্ধ্বগতি
রাজধানীর কাঁচাবাজারে নিত্যপণ্যের, বিশেষ করে সবজির দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় চাপে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের ক্রেতারা।
সবজির বাজারে ১০০ টাকার নিচে পণ্য এখন হাতে গোনা। মাছের বাজারে ২০০ টাকার নিচে মিলছে না কোনো মাছ। বেড়েছে মুরগি, ডিম, পেঁয়াজ ও আদার দামও।
বিক্রেতারা বলছেন, সরবরাহ সংকট, পরিবহন খরচ বৃদ্ধি ও মৌসুমি ঘাটতির কারণে বাজারে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, নিউমার্কেট ও হাতিরপুলসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র দেখা গেছে।
সবজির বাজারে গিয়ে দেখা যায়, প্রতি কেজি লম্বা বেগুন ১০০ টাকা, গোল বেগুন ১২০ টাকা, শসা ১০০ টাকা, করোলা ১০০ টাকা, ঝিঙা ১০০ টাকা, বরবটি ৮০ টাকা, কচুর লতি ৮০ টাকা, পেঁপে ১০০ টাকা, পটোল ৮০ টাকা, চিচিঙ্গা ১০০ টাকা, কাঁকরোল ১২০ টাকা, ধুন্দুল ১০০ টাকা এবং গাজর ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা মরিচের কেজি ১৬০ টাকা। লাউ বিক্রি হচ্ছে প্রতি পিস ১০০ টাকায়। তুলনামূলক কম দামে বিক্রি হচ্ছে শুধু ঢেঁড়স, প্রতি কেজি ৬০ টাকা। জালি বিক্রি হচ্ছে প্রতি পিস ৭০ টাকায়।
নিউমার্কেটে বাজার করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী জহিরুল ইসলাম টিবিএসকে বলেন, "এখন ১০০ টাকার নিচে কোনো সবজি পাওয়া যায় না বললেই চলে। আগে এক কেজি করে কিনতাম, এখন আধা কেজি বা আড়াইশো গ্রাম করে কিনতে হচ্ছে। মাছ-মাংসের দাম তো আগেই বেশি ছিল, এখন সবজিও নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।"
নিউমার্কেটের সবজি বিক্রেতা তারেক হোসেন বলেন, "কয়েক দিন ধরেই সবজির দাম বাড়তি। পরিবহন খরচ বেড়েছে, আবার অনেক সবজির মৌসুমও শেষের দিকে। ফলে সরবরাহ কমে গেছে।"
মাছের বাজারেও একই চিত্র দেখা গেছে। রাজধানীর বাজারে ২০০ টাকার নিচে নেই কোনো মাছ। নিম্নবিত্তের পরিচিত পাঙাশও বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা কেজিতে। তেলাপিয়া ২৩০ টাকা, রুই ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা, পাবদা ৩৫০ টাকা, কই ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, শিং ৪০০ টাকা, টাকি ৪০০ টাকা, বাইন ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, সইল ৭০০ টাকা এবং চিংড়ি ৯০০ থেকে ১১০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
নদীর মাছের দাম আরও বেশি। বেলে মাছের কেজি ৫০০ টাকা এবং দেশি টেংরা ৬০০ টাকা।
বিক্রেতারা জানান, নদীতে মাছ ধরা কমে যাওয়া, বৈরী আবহাওয়া এবং পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে সরবরাহ কমেছে। এর প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে।
হাতিরপুলে কথা হয় গৃহিণী রওশন আক্তারের সঙ্গে। তিনি বলেন, "যে মাছ আগে ৩০০ টাকায় কিনেছি, এখন সেটাই ৪৫০ টাকা চাইছে। সাধারণ মানুষের জন্য মাছ কেনা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।"
ইলিশের দাম নির্ভর করছে আকারের ওপর। বিক্রেতা সোহাগ বলেন, এক কেজির বেশি ওজনের ইলিশ ৩ হাজার টাকার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে মুরগি ও ডিমের দামও বেড়েছে। বর্তমানে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা কেজিতে, সোনালি ৩৩০ থেকে ৩৫০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায়। গত মাসেও সোনালির কেজি ছিল ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা, আর ব্রয়লার বিক্রি হয়েছে ১৭০ থেকে ১৭৫ টাকায়।
একইভাবে বেড়েছে ডিমের দামও। এক সপ্তাহ আগে ১২০ টাকায় বিক্রি হওয়া ডিমের ডজন এখন ১৫০ টাকায় উঠেছে। বর্তমানে বড় সাইজের ব্রয়লার ডিমের ডজন ১৬০ টাকা, ব্রাউন ডিম ১৫০ টাকা এবং সাদা ডিম ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
নিউমার্কেটের বিক্রেতা আনিস মিয়া বলেন, "ঈদের পর ব্রয়লার মুরগির দাম কিছুটা কমেছিল। তখন ১৭০ থেকে ১৭৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এখন আবার দাম বেড়ে ২০০ টাকায় উঠেছে। সোনালি ও দেশি মুরগির দামও বেড়েছে।"
তিনি বলেন, "বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার বিয়ে-শাদি বেশি থাকে। এ সময় মুরগির চাহিদা বাড়ে। সরবরাহ কম থাকায় দামও বেড়ে যায়।"
এদিকে রাজধানীর বাজারে পেঁয়াজ ও আদার দামও বাড়তে শুরু করেছে। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে দেশি পেঁয়াজের দাম কেজিতে বেড়েছে অন্তত ১০ টাকা। বর্তমানে এটি বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা কেজিতে, যা সপ্তাহখানেক আগেও ছিল ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। একই সময়ে আদার দামও কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়ে ১৭০ থেকে ১৯০ টাকায় উঠেছে।
নিউমার্কেটের খুচরা বিক্রেতা বিদ্যুৎ বলেন, "পাইকারি বাজারে প্রতিদিনই পেঁয়াজের দাম এক-দুই টাকা করে বাড়ছে। সে কারণে খুচরা বাজারেও বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।"
