জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে খাদ্যপণ্যের দাম বাড়তি, বিপাকে সীমিত আয়ের পরিবার
সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে নতুন করে চিনি, ডিম ও পেঁয়াজসহ নিত্যপণ্যের দামে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন সীমিত আয়ের মানুষ। ব্যবসায়ীরা বলছেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রভাবেই বাজারে প্রায় সব পণ্যের দাম বাড়ছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, জ্বালানি সংকটের কারণে গত প্রায় এক মাস ধরে পরিবহন খরচ বাড়ছে। এর সঙ্গে সম্প্রতি জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব যুক্ত হয়ে পণ্যমূল্য আরও বেড়ে গেছে।
রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, এক সপ্তাহের ব্যবধানে বেশিরভাগ খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে।
জানতে চাইলে নিউমার্কেটের খুচরা ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম টিবিএসকে বলেন, "জ্বালানি তেলের সঙ্গে ট্রাকের ট্রিপ খরচও বেড়েছে। দূরপাল্লার প্রতি ট্রাকে ২ থেকে ৮ হাজার টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে এই ভাড়া প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে।"
নিউমার্কেটে বাজার করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী মো. সাইফুল ইসলাম টিবিএসকে বলেন, "প্রতিদিনই যেন নতুন করে দাম বাড়ছে। আগে যেখানে এক সপ্তাহের বাজার ২-৩ হাজার টাকায় হয়ে যেত, এখন সেখানে ৪ হাজার টাকার নিচে নামানোই সম্ভব হচ্ছে না।"
লালবাগ কাঁচাবাজারে কেনাকাটা করতে আসা শারমিন আক্তার সবজির উচ্চমূল্যে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, "রমজানের সময় যেমন দাম ছিল, এখনো তেমনই আছে। সবকিছুর দাম এভাবে বেশি থাকলে আমাদের মতো সাধারণ মানুষের চলা কঠিন হয়ে যাবে।"
একই বাজারের আরেক ক্রেতা রাইহান মিয়া বলেন, "আমার বেতন বাড়েনি। কিন্তু বাজারের খরচ বেড়েই চলেছে। অতিরিক্ত টাকা কোথা থেকে আসবে?"
বাজারে খোলা চিনির দাম কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে ১০৫ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ছিল ১০০ থেকে ১০৫ টাকা। প্যাকেটজাত চিনি বিক্রি হচ্ছে কেজি ১১০ টাকায়।
পেঁয়াজের দামও বেড়েছে। এক সপ্তাহ আগে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৩০ থেকে ৩৫ টাকায় বিক্রি হলেও এখন তা ৩৫ থেকে ৪৫ টাকায় উঠেছে।
ফার্মের মুরগির ডিমের দাম গত এক সপ্তাহ ধরে চড়া। আগে প্রতি ডজন ডিম ১০০ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন তা ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায় উঠেছে। অনেক খুচরা দোকানে প্রতি হালি ডিম ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা ডজনপ্রতি প্রায় ১৫০ টাকা।
এদিকে, বোতলজাত ভোজ্যতেলের সরবরাহ এখনো স্বাভাবিক হয়নি। ফলে ভোক্তাদের বেশি দামে খোলা তেল কিনতে হচ্ছে।
তবে সোনালি ও ব্রয়লার মুরগির দাম কিছুটা কমেছে। বর্তমানে ব্রয়লার মুরগি কেজি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩৫০ থেকে ৩৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সপ্তাহখানেক আগে সোনালি মুরগির দাম ছিল ৩৮০ থেকে ৪১০ টাকা, যা এর আগে ৪৬০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল।
সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) দৈনিক বাজারদরের প্রতিবেদনেও খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির চিত্র উঠে এসেছে।
সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, মাঝারি চাল (পাইজাম/আটাশ) কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে ৬০ থেকে ৬৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খোলা আটার দাম কেজিতে ২ টাকা, প্যাকেট আটা ও খোলা ময়দা ৫ টাকা, খোলা সয়াবিন ৩ টাকা, মানভেদে ছোলা ৫ থেকে ১০ টাকা, ছোট এলাচ কেজিতে ১০০ টাকা, ধনে ও তেজপাতা কেজিতে ২০ টাকা, শসা ১০ টাকা এবং ফার্মের ডিম ডজনপ্রতি ১৮ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
ক্রেতারা জানান, বেশ কিছুদিন ধরে সবজির দাম ঊর্ধ্বমুখী। নতুন করে মাছসহ অন্যান্য খাদ্যপণ্যের দামও বেড়েছে।
বাজারে বেগুন, পটল, কাঁকরোল, ধুন্দল ও করলার দাম বেশি বেড়েছে। পাশাপাশি মিষ্টি কুমড়া, লাউ, ঢ্যাঁড়স, কাঁচা কলা ও পুঁইশাকের দামও বেড়েছে।
বর্তমানে কাঁকরোল প্রতিকেজি ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা, বেগুন ১২০ থেকে ১৫০ টাকা, শসা ১১০ থেকে ১২০ টাকা, করলা ১১০ টাকা, বরবটি ১০০ টাকা এবং চিচিঙ্গা ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া টমেটো প্রতিকেজি ৬০ থেকে ৭০ টাকা, লাউ প্রতি পিস ৬০ থেকে ৭০ টাকা, ঢেঁড়স প্রতিকেজি ৬০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া প্রতিকেজি ৫০ টাকা, কচুর লতি ৮০ টাকা এবং কাঁচা কলা প্রতি হালি ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, জ্বালানির দাম বাড়ায় পরিবহন খরচ বেড়েছে, যার প্রভাব পড়েছে বাজারে।
মাছের দামও বেড়েছে। বাজারে আকারভেদে রুই মাছ কেজি ৩২০ থেকে ৫০০ টাকা, তেলাপিয়া ২২০ টাকা, চাষের টেংরা ৪০০ টাকা, পাবদা ৪৫০ টাকা, পাঙাশ ২২০ টাকা, চিংড়ি ৮০০ থেকে ১,২০০ টাকা এবং ইলিশ ২,০০০ থেকে ২,২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
