অধিকাংশ ইরানির নাম একটাই—'মোহাম্মদ সামথিং': ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, 'অধিকাংশ' ইরানির নামের প্রথম অংশ নাকি একই রকম হয়ে থাকে! সম্প্রতি ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
চলতি সপ্তাহে চীনে সফরের ফাঁকে ফক্স নিউজের 'স্পেশাল রিপোর্ট' অনুষ্ঠানে উপস্থাপক ব্রেট বেয়ারের সঙ্গে কথা বলছিলেন ট্রাম্প।
সেখানে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর নজরদারি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'আমি যে স্পেস ফোর্স (মহাকাশ বাহিনী) তৈরি করেছি, তারা ৯টি অত্যাধুনিক ক্যামেরা দিয়ে মহাকাশ থেকেই ওই পারমাণবিক স্থাপনার ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখে।'
ট্রাম্প অত্যন্ত গর্বের সুরে আরও বলেন, 'ওই এলাকায় যত লোক চলাফেরা করে, তাদের প্রায় সবাইকেই আমরা চিনি! মহাকাশ থেকে আমরা তাদের নামও পড়ে ফেলতে পারি। ওদের নামের প্রথম অংশে প্রায়ই 'মুহাম্মদ কিছু একটা' থাকে। যেহেতু বেশিরভাগ ইরানির নামই 'মুহাম্মদ', তাই এটুকু অন্তত ৫০ শতাংশ ক্ষেত্রেই সঠিক। তবে মজার ব্যাপার হলো, আমরা এত দূর থেকেও ওই মানুষগুলোর শার্টের কলারে সাঁটানো নাম বা 'নেইম ট্যাগ' সোজা মহাকাশ থেকে পড়ে ফেলি!'
গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে যখন ইরান যুদ্ধ শুরু হয়, তখন ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে পারমাণবিক অস্ত্রের খোঁজে থাকা ইরান আমেরিকানদের জন্য চরম হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বরাবরই বলে আসছেন, তেহরানকে কিছুতেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া যাবে না। দুই দেশের মধ্যে যেকোনো শান্তি চুক্তিতে এই নিশ্চয়তা অবশ্যই থাকতে হবে বলে জোর দাবি জানিয়ে এসেছেন তিনি।
ট্রাম্প বলেন, ইরানের কাছে এখন তার ভাষায় কোনো 'পারমাণবিক ধুলা বা ধূলিকণা'-ও নেই। মার্কিন সামরিক বাহিনীর ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের কারণেই এমনটা হয়েছে।
নিউইয়র্ক টাইমসের মতে, ট্রাম্প যে 'পারমাণবিক ধুলো' শব্দটা ব্যবহার করেছেন, সেটা আসলে প্রায় বোমার সমান ক্ষমতার কাছাকাছি যাওয়া সংরক্ষিত ইউরেনিয়ামকে বোঝায়, যা গ্যাস হিসেবে গভীর মাটিতে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। কিন্তু গত গ্রীষ্মের হামলায় সেই ব্যবস্থা অনেকটাই ধ্বংস হয়ে গেছে বলে ধারণা করা হয়।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে সম্প্রচারিত ফক্স নিউজের আরেকটি সাক্ষাৎকারে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের শারীরিক গড়নের ব্যাপক প্রশংসা করেছিলেন ট্রাম্প।
উপস্থাপক শন হ্যানিটিকে তিনি বলেন, 'যদি আপনি হলিউডে গিয়ে এমন কাউকে খোঁজেন যে সিনেমার পর্দায় চীনের নেতার চরিত্রে চমৎকার মানিয়ে যাবে, তাহলে তিনি (শি জিনপিং) তার নিখুঁত উদাহরণ। তার মতো দ্বিতীয় কাউকে খুঁজেই পাবেন না।'
তিনি আরও বলেন, 'বিশেষ করে তার শারীরিক গড়ন! তিনি অনেক লম্বা। সেদেশের মানুষের উচ্চতা তুলনামূলক একটু কম হওয়া সত্ত্বেও তিনি কিন্তু সত্যিই অনেক লম্বা।'
চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে একটি চরম গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা শেষে গত শুক্রবার চীন থেকে ফিরেছেন ট্রাম্প।
হ্যানিটিকে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, শি তাকে বলেছেন যে তিনি এই যুদ্ধ শেষ করে শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য একটা চুক্তিতে আসতে 'সহায়তা করতে চান।'
'শি চান হরমুজ প্রণালির রাস্তা খুলে যাক,' ট্রাম্প বলেন। কারণ, চীনের সবচেয়ে বেশি তেল আসে এই ইরান থেকেই।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যখন ইরানের ওপর একের পর এক হামলা চালায়, তখন এর জবাবে ইরান তাদের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তেলের পথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। এরপর যুক্তরাষ্ট্রও পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ দেয়।
