‘কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না’: জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গে বৈঠকের পর ইরানকে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি
জাতীয় নিরাপত্তা দলের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর ইরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
রোববার (১৭ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, 'ইরানের জন্য ঘড়ির কাঁটা দ্রুত চলছে। তাদের এখনই দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত, নতুবা তাদের কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না। সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ!'
সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই হুঁশিয়ারির একদিন আগে শনিবার ভার্জিনিয়ায় নিজের গলফ ক্লাবে জাতীয় নিরাপত্তা দলের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেন ট্রাম্প। চীন সফর থেকে ফেরার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জরুরি এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, সিআইএ পরিচালক জন র্যাটক্লিফ এবং বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ভাষ্যমতে, তেহরানের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক আলোচনার ধীরগতিতে ট্রাম্প ক্রমেই অধৈর্য হয়ে উঠছেন। বিশেষ করে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের ওপর যে প্রভাব পড়ছে, তা নিয়ে তিনি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
চীন সফরের সময় শি জিনপিংয়ের সঙ্গে আলোচনার ফল কী হয়, তা দেখার জন্য ট্রাম্প ইরান ইস্যুতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে কিছুটা অপেক্ষা করছিলেন। তবে এখন তিনি ইরানকে সমঝোতায় বাধ্য করতে দেশটিতে পুনরায় বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরুর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন। যদিও ব্যক্তিগতভাবে তিনি কূটনৈতিক সমাধানকেই বেশি গুরুত্ব দেন।
পেন্টাগন ইতোমধ্যে ইরানের বিভিন্ন জ্বালানি কেন্দ্র ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে নতুন বিমান হামলার সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকা প্রস্তুত করেছে। ট্রাম্প সবুজ সংকেত দিলেই যেকোনো সময় এই হামলা শুরু হতে পারে। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে চলতি সপ্তাহের শুরুতেই তিনি আবারও নিরাপত্তা দলের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রোববার ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গেও টেলিফোনে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন।
অন্যদিকে, ইরানের পক্ষ থেকে নতি স্বীকারের কোনো নতুন ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। রোববার পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি তেহরানে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বলে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। উল্লেখ্য, চলমান এই সংকটে পাকিস্তান অন্যতম প্রধান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে।
বৈঠকে ইরানি কর্মকর্তারা অভিযোগ করেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতিই এ অঞ্চলের অস্থিরতার মূল কারণ। ইরানের সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, বৈঠকে পেজেশকিয়ান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল 'দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে ইসলামি দেশগুলোর মধ্যে বিভেদ ও অবিশ্বাস তৈরির চেষ্টা করে আসছে'।
তিনি আরও দাবি করেন, 'ইরান তার প্রতিবেশী মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে স্থিতিশীল ও আন্তরিক সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়।'
